বৃষ্টির দিনগুলো ( পর্ব ৩ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "বৃষ্টির দিনগুলো" গল্পের তৃতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপরে প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার সময়, বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ানোর সময়, এমনকি ফেরার পথেও তার চোখ যেনো অবচেতনভাবে কাউকে খুঁজে বেড়াত। অর্থাৎ মেঘলাকে। সে নিজেকে অনেকবার বুঝিয়েছে যে, এটা তো মাত্র একদিনের পরিচয়।হয়তো আর কোনোদিন দেখা হবে না। কিন্তু মন যেন সেই যুক্তি মানতে চাইছিল না। একদিন বিকেলে কলেজ লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ছিলাম। বাইরে তখন মেঘলা আকাশ, জানালার কাঁচে বাতাসের ধাক্কা লাগছে বারবার। হঠাৎ সেই মুহূর্তে ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল এল।প্রথমে তার ধরতে ইচ্ছে করছিল না, কিন্তু কয়েকবার বাজতেই রিসিভ করল- হ্যালো?
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা, তারপর পরিচিত একটি কণ্ঠস্বর- আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? তার বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। আর বলতে লাগলো- মেঘলা? ওপাশে হাসির শব্দ। মেঘলা জিজ্ঞাসা করলো পরে- বাহ!এত সহজে চিনে ফেললেন? সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। মনে হচ্ছিল, হঠাৎ করেই কোথাও হারিয়ে যাওয়া একটা জিনিস আবার ফিরে পেয়েছে। এরপরে জিজ্ঞাসা করলো- নম্বর পেলেন কোথায়? আপনার কলেজের একজনকে চিনি, অনেক কষ্ট করে জোগাড় করেছি। এত কষ্ট কেন? কারণ আমার মনে হয়েছিল, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা না বললে আফসোস থেকে যায়। কথাটা শুনে সে হেসে ফেলল। সেদিন প্রায় এক ঘণ্টা কথা হয়েছিল, বিষয় ছিল অসংখ্য।
প্রিয় বই, প্রিয় লেখক, ছোটবেলার স্মৃতি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন, এমনকি কোন ঋতু কাকে বেশি টানে- এসব নিয়েও আলোচনা হলো। ফোন কেটে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ সে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। তার মনে হচ্ছিল, পৃথিবীটা হঠাৎ করে একটু বেশি সুন্দর হয়ে গেছে। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই কথা হতে লাগল। কখনও ফোনে, কখনও মেসেজে। ধীরে ধীরে বুঝতে পারল, মেঘলা শুধু একজন ভালো মানুষই নয়, সে একজন অসাধারণ শ্রোতাও। তার ছোট ছোট গল্প, অদ্ভুত সব চিন্তা, এমনকি অর্থহীন কথাও সে মন দিয়ে শুনত। একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি এত ধৈর্য নিয়ে মানুষের কথা শোনো কীভাবে? সে হেসে বলেছিল, কারণ সবাই কথা বলতে ভালোবাসে, কিন্তু খুব কম মানুষ শুনতে ভালোবাসে। সেদিন প্রথমবার মনে হয়েছিল, মেঘলা অন্য সবার মতো নয়।
কয়েক সপ্তাহ পর তাদের আবার দেখা হলো।শহরের পুরোনো একটি পার্কে, আকাশে সেদিনও মেঘ ছিল। সে আগে পৌঁছে গিয়েছিল আর তার হাতে একটি বই ছিল। মেঘলা আসতে একটু দেরি করছিল। অপেক্ষা করতে করতে বুঝতে পারল, সময় আসলে ঘড়ির কাঁটায় নয়, অপেক্ষার মধ্যে মাপা হয়। যখন কাউকে অপেক্ষা করা হয়, তখন পাঁচ মিনিটও অনেক দীর্ঘ মনে হয়। হঠাৎ পিছন থেকে একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর- অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেন? সে ঘুরে দেখে মেঘলা। আজ সে হালকা সবুজ রঙের পোশাক পরেছে, চোখে সেই পরিচিত হাসি। সে বলল- না, বেশিক্ষণ নয়। মেয়েটি বললো- মিথ্যা বলছেন। সে জিজ্ঞাসা করলো- কেন? কারণ আপনার হাতে ধরা বইয়ের তিন পৃষ্ঠা উল্টো দিকে চলে গেছে। সে বইয়ের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





