নীল চিঠির প্রতীক্ষা ( পর্ব ৬ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "নীল চিঠির প্রতীক্ষা" গল্পের ষষ্ঠ পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো সেখানে লেখা ছিল- অয়ন, তুমি এখনও অপেক্ষা করছো জেনে অবাক হলাম না। কারণ আমি জানতাম, তুমি অপেক্ষা করতে জানো। অনেকবার ভেবেছি তোমাকে লিখব না, কারণ কিছু সম্পর্ক দূরে থাকলেই হয়তো সুন্দর থাকে। কিন্তু মানুষ চাইলেই কি সব ভুলতে পারে? তুমি কি জানো, কিছু শহর খুব নিষ্ঠুর হয়? সেখানে মানুষের ভিড় থাকে, কিন্তু নিজের মানুষ থাকে না। সেখানে আলো থাকে, কিন্তু শান্তি থাকে না। আমি অনেক দূরে আছি, তবুও মাঝে মাঝে মনে হয় আমি এখনও সেই ছোট্ট লাইব্রেরির জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছি। তুমি এখনও কি বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে থাকো?
এখনও কি কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে বিকেল কাটাও? তুমি হয়তো জানো না, আমি তোমাকে ভুলিনি। তবে কিছু সত্যি আছে, যেগুলো এখনও তোমাকে বলতে পারব না, কারণ সময় হলে সব জানবে। এরপর নীলা চিঠিটা পড়ে অয়ন যেন কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল। তার চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছিল। এতদিন পর অবশেষে নীলা লিখেছে। সে বেঁচে আছে, কারণ সে অয়নকে ভুলে যায়নি। এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এরপর অয়ন ধীরে ধীরে বিছানায় বসে পড়ল। তার মনে হচ্ছিল, বুকের মধ্যে বহুদিনের জমে থাকা শূন্যতা হঠাৎ একটু ভরে উঠেছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটা প্রশ্নও তাকে তাড়া করছিল- নীলা কোথায়? সে কেন সামনে আসছে না? আর এমন কী সত্যি আছে, যেটা সে এখনও বলতে পারছে না?
সেই রাতটা অয়ন আর ঘুমাতে পারল না। বারবার চিঠিটা পড়ছিল সে এবং প্রতিটা শব্দ যেন তার বুকের মধ্যে আলাদা করে গেঁথে যাচ্ছিল। ভোরের দিকে বাইরে হালকা বৃষ্টি নামল। অয়ন তখন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখতে লাগল। সেই মুহূর্তে তার মনে পড়ল এক পুরোনো বিকেলের কথা। সেদিনও বৃষ্টি হচ্ছিল এবং নীলা বইয়ের তাকের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিল- আপনি কি কখনও কাউকে এতটা মিস করেছেন যে, চারপাশের সবকিছুতে শুধু সেই মানুষটাকেই দেখতে ইচ্ছে হয়? অয়ন তখন হেসে বলেছিল-তেমন কাউকে এখনও পাইনি। নীলা মৃদু হেসে বলেছিল- পাবেন। আজ এত বছর পর দাঁড়িয়ে অয়ন বুঝতে পারছে, নীলা সেদিন ঠিকই বলেছিল।
কারণ এখন তার জীবনের প্রতিটা জিনিসের সঙ্গে নীলার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সকালে লাইব্রেরিতে গিয়ে অয়ন যেন নতুন মানুষ হয়ে গেল, কারণ বহুদিন পর তার চোখে একটু আলো দেখা যাচ্ছিল। গ্রামের কয়েকজন মানুষও সেটা খেয়াল করল। গ্রামের চায়ের দোকানে বসে কেউ বলল-অয়নকে আজ অনেক খুশি লাগছে। আরেকজন হেসে বলল- হয়তো পুরোনো কেউ ফিরে এসেছে।ছোট গ্রামের মানুষ সবসময় গল্প বানাতে ভালোবাসে, কিন্তু অয়ন এসব কথায় কান দিল না।তার মন এখন শুধু একটাই জিনিস ভাবছে- নীলা আবার লিখবে কি? সারাদিন লাইব্রেরিতে বসেও সে বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছিল। হয়তো হঠাৎ নীলা চলে আসবে, হয়তো এবার সত্যিই সামনে দাঁড়াবে। দুপুরের দিকে লাইব্রেরিতে একটা ছোট মেয়ে এল, বয়স দশ-এগারোর বেশি নয়। সে এসে অয়নের সামনে একটা বই রাখল আর বললো- দাদা, এটা আপনার জন্য। অয়ন অবাক হয়ে বলল- আমার জন্য?.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





