হৃদয়ের স্পন্দন'গল্প পর্ব:৯

in আমার বাংলা ব্লগ13 hours ago

হ্যালো বন্ধুরা,য্রউু

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে হৃদয়ের স্পন্দন গল্পের আর একটি নতুন পর্ব উপস্থাপন করছি। আশা করি, গল্পের এই পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।

pexels-pixabay-258421 (8).jpg
সোর্স


পরের দিন সকাল থেকেই পূজা খুব খুশি ছিলো। পূজা সেদিন সবার সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছে এমনিতে পূজা খুব হাসি খুশি একটি মেয়ে। পূজার খুশি দেখে রিমির একটু সন্দেহ হয়।সে মনে মনে ভাবতে থাকে কি এমন হয়েছে আজ দিদিকে একটু অন্যরকম লাগছে। রিমি পূজাকে জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছে তোমার আজ এত খুশি খুশি লাগছে? পূজা হাসতে হাসতে বলে, কাল রাতে তোর জামাইবাবু আমাকে ফোন করেছিল। রিমি হেসে বলে, এখনো প্রেম হয়ে পরলো না, বিয়ে হলো না এখন থেকেই আমার জামাইবাবু। পূজা বলে, হ্যাঁ এখন থেকে তুই জামাইবাবু বলে ডাকবি। রিমি বলে,হ্যাঁ আজ থেকে সে আমার জামাইবাবু। এবার বল ফোন করে কি বলেছে যার জন্য এতটা খুশি। পূজা বলে, তার সঙ্গে আমার অনেক কথা হয়েছে। জানিস রেমি আজ আমাকে তার সঙ্গে কফি খাওয়ার জন্য ইনভাইট করেছে। আমি যে আজ কতটা খুশি তোকে আমি বলে বোঝাতে পারবো না।


রিমি বলে, সবই তো কিন্তু মাকে ম্যানেজ করে কিভাবে বের হবে এটা কি ভেবে দেখেছো একটিবার। পূজা বলে, তুই তো ঠিক কথা বলেছিস এই কথাটা তো আমি ভেবে দেখিনি। পূজা অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর রিমিকে বলে, লক্ষী বোন আমার তুই যেভাবে হোক মাকে একটু ম্যানেজ কর না। তুই ছাড়া আমার কে আছে বল। তুই এইসব বিষয়ে ভালো বুঝিস।কর না আমার জন্য একটু 🙏🙏। রিমি তখন পূজাকে বলে, আচ্ছা ঠিক আছে কিন্তু আমার একটি কথা আছে?পূজা বলে, কি কথা বল? রিমি তখন বলে, আমি না হয় মাকে ম্যানেজ করব কিন্তু এর বিনিময়ে আমি কি পাবো। পূজা বলে, তুই যদি মাকে ম্যানেজ করতে পারিস তাহলে তুই যা বলবি আমি তাই করবো। রিমি বলে,ঠিক করবে তো ভেবে বল যা বলব তাই করতে হবে। পূজা বলে হ্যাঁ রে বাবা, তুই যা বলবি তাই করব যেভাবে হোক মাকে ম্যানেজ কর। রিমি বলে,তুমি নিশ্চিন্তে থাকো। রেডি হয়ে জামাই বাবুর সঙ্গে দেখা করতে যাও আর এদিকে আমি সামলাবো।


এরপর পূজা আনন্দে রিমিকে জড়িয়ে ধরে। এর মধ্যে পূজার মা এসে হাজির হয়। মা বলে, কি হয়েছে তোদের দুজনকে আজ খুব আনন্দিত মনে হচ্ছে। রিমি তখন মাকে বলে, হ্যা মা আজ খুব আনন্দের একটি দিন। মা বলে, আমার সঙ্গেও তোরা শেয়ার কর। রিমি বলে, হ্যাঁ মা নিশ্চয়ই। আমাদের কলেজের এক বন্ধু এটি কম্পিটিশনে যোগ দেয়। খুব হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছিল অবশেষে আমাদের ওই বন্ধুটি জয়ী হয়। মা বলে ,সে তো খুব ভালো কথা। রিমি বলে, কিন্তু মা এই আনন্দটা আমরা যে একসঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। তার জন্য বিকেলে একটু বাইরে যেতে হবে আমাদের।তুমি কি বাইরে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেবে? মা হাসতে হাসতে বলে, আরে এ কথা কি আর বলতে হয় যা ঘুরে আয়। মা বলে, আমার কলেজ জীবনে আমরাও আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতাম। মা বলে, দুজনে কখন বের হবি? রিমি বলে,বিকাল পাঁচটার দিকে। মা বলে, বেশি রাত করিস না। নয়টার আগে বাড়িতে চলে আসিস। রিমি ও পূজা তার মাকে জড়িয়ে ধরে । মা বলে, হয়েছে হয়েছে 🙂 এখন দুজনে খেতে আয়।


মা চলে গেল রুম থেকে। তখন পূজা রিমিকে বলে, তুই কত সুন্দর মিথ্যা কথা বলে মাকে রাজি করিয়ে ফেললি। আসলেই তোর ট্যালেন্ট আছে মানতে হবে। রিমি বলে, এখন এসব কথা বলে লাভ নেই। মনে আছে তো তুমি যা বলেছ সেটা কিন্তু তোমার করতে হবে।আমি যা চাইবো তাই তোমার দিতে হবে। পূজা বলে,আচ্ছা বাবা বলেছি তো দিব। এরপর বিকাল হতেই তারা দুই বোন রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ে কপির সাথে যাওয়ার জন্য। পূজা ও রিমি তারা যখন গাড়িতে উঠবে তখন ফোন আসে রকির। পূজা ফোনটি রিসিভ করে। রকি বলে, আমি কফি শপে পৌছে গেছি তোমরা কখন আছো? পূজা বলে, ৩০ মিনিটের মধ্যে কফি শপে পৌঁছে যাচ্ছি। রকি বলে, সাবধানে এসো আমি ওয়েট করছি। এরপর ফোনটি রেখে তারা কফি শপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে। কিছুদূর যেতে রিমি বলে গাড়িটি থামাও। পূজা বলে ,কি হয়েছে? রিমি বলে, আমি এখানে নামবো। পূজা বলে, কেন তুই আমার সঙ্গে যাবি না? রিমি বলে, তোর মাথায় কি কোন বুদ্ধি নেই। জামাইবাবু তোকে কফি শপে একা ডেকেছে ।সেখানে যদি আমি যাই তাহলে সেটা ভালো দেখায় না। আর আমি তোমাদের দুজনের মধ্যে কাবাব মে হাড্ডি হতে চাই না। আর ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সব সময় একা দেখা করতে হয়। পূজা বলে, ঠিক আছে তোর সঙ্গে কথায় আমি পারবো না। পরে রিমি বলে, আর একটা কথা বাড়িতে যাওয়ার আগে আমাকে ফোন করবি একসঙ্গে বাড়িতে ফিরতে হবে তা না হলে মা কিন্তু বুঝে ফেলবে। পূজা বলে,আচ্ছা আমি তোকে ফোন করে নিব। পূজা তার কিছুক্ষণ পর কফি শপে হাজির হয়। কফি শপের দরজা খুলতেই পূজা সামনে দেখতে পায় রকি বসে রয়েছে।

আজ গল্পের পর্বটি এখানে শেষ করেছি।সবাই খুব ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই প্রার্থনা করি।