পরিত্যক্ত হাসপাতালের রহস্য ( শেষ পর্ব )
Image Created by OpenAI
আপনাদের সাথে নতুন একটি গল্প "পরিত্যক্ত হাসপাতালের রহস্য" এর শেষ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর রক্তমাখা অর্ণব প্রথমবার দ্বিধায় পড়ে গেলো। এরপর অর্ণব তাকে জড়িয়ে ধরল। এক মুহূর্ত চারিদিকে নিস্তব্ধতা। তারপর রক্তমাখা অর্ণবের শরীর আলোতে ভেঙে যেতে লাগল। কিন্তু সে চিৎকার করল না। শুধু বিস্মিত গলায় বলল-তুমি… আমাকে গ্রহণ করছো? এরপর অর্ণব ফিসফিস করে বলল- কারণ তুমি আমিই। এরপর আলো ধীরে ধীরে নিভে গেল। তখন রক্তমাখা অর্ণব অদৃশ্য হয়ে যায়। অর্ণব একা একা সেখানে দাঁড়িয়ে আর হাসপাতাল এখন প্রায় স্বাভাবিক। মানুষগুলো একে একে অদৃশ্য হয়ে যেতে লাগে, যেন তারা অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে। সেই ছোট মেয়েটা হঠাৎ অর্ণবের সামনে এসে দাঁড়াল। আর মেয়েটির মুখে সুন্দর একটা হাসি ছিল। এরপর বললো- তুমি পেরেছো।
অর্ণব তখন ক্লান্ত গলায় বলল- এখন তুমি বাইরে যেতে পারবে। মেয়েটা মাথা নেড়ে বললো- আমরা সবাই যাব, কিন্তু তুমি? অর্ণব চারিদিকে তাকাল।হাসপাতালটা আবার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে এবং সেই আগের মতো ভাঙা, পরিত্যক্ত রূপ ফিরে আসছে। সে বুঝল যে, আমি এই জায়গার সাথে বাঁধা।মেয়েটার চোখ ভিজে উঠল এবং সে অর্ণবকে বললো- তুমি কি এখানেই থাকবে? অর্ণব মৃদু হেসে বললো- কেউ তো থাকতে হবে, যাতে আর কেউ এভাবে না বদলে যায়। মেয়েটা ধীরে ধীরে আলোতে মিশে গেল। এরপর সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ পরে দেখা গেলো সকাল হয়ে এসেছে। সূর্যের আলো ভাঙা জানালা দিয়ে ঢুকছে। বাইরে কয়েকজন কিশোর দাঁড়িয়ে বলছে- চল ভেতরে যাই না! শুনেছি এখানে ভূত আছে।
সেখানে একজন হেসে বললো- ভূত-টুত কিছু নেই।এরপর তারা ভেতরে ঢুকল। কিন্তু করিডর নিস্তব্ধ। হঠাৎ একজন থেমে গেল এবং বললো- এই… তোমরা কিছু শুনলে? দূরে যেন কারও পদশব্দ।তারপর খুব শান্ত একটা কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো-এখানে থাকা নিরাপদ নয়… ফিরে যাও…। এরপর কিশোররা ভয় পেয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেল।করিডরের অন্ধকারে ধীরে ধীরে একটা ছায়া তৈরি হল। তার চেহারা শান্ত, চোখ স্বাভাবিক। কিন্তু উপস্থিতি অদ্ভুত। সে ভাঙা জানালার দিকে তাকিয়ে রইল এবং দেখলো বাইরে আলো। কিন্তু ভেতরে অন্ধকার। সে ফিসফিস করে বলল- আমি আছি, যতদিন দরকার। করিডরে আবার নিস্তব্ধতা নেমে এল। দূরে কোথাও পুরোনো হুইল চেয়ারের চাকা হালকা নড়ল। কিন্তু এবার শব্দটা ভয়ঙ্কর নয়, শুধু স্মৃতি।
