আবোল তাবোল জীবনের গল্প [ ফ্রাইডে স্পেশাল ]

in আমার বাংলা ব্লগ12 hours ago

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। তবে ঐ যে গরমের উষ্ণতায় কিছুটা অস্থিরতার সাথে আছি হি হি হি। আসলে এই সময়টায় পরিবেশ ও প্রকৃতি এমনই থাকার কথা, কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা ও আকাংখা থাকে সর্বদা একটু বেশী। মানে অনেকটা এমন যে, শীতের ঠান্ডায় রোদের উষ্ণতা একটু বেশী আশা করি, আবার গরমের উষ্ণতায় সূর্যের পরির্বতে বৃষ্টির প্রত্যাশা একটু বেশী করি, হি হি হি। প্রকৃতির অবস্থানের উল্টোটা হয়ে থাকে আমাদের এই প্রত্যাশা।

যেমন আমাদের বর্তমান সামাজিক অবস্থান, সমাজের রীতিনীতি অনেকটাই উল্টো গেছে, যেখানে যেমনটা থাকার কথা ছিলো তেমনটা নেই। সমাজ কিংবা পরিবারে যেমন ব্যবস্থা থাকার কথা ছিলো তেমনটা নেই বরং মাঝে মাঝে একদমই উল্টো চিত্র দেখা যায়। আবার এমন সব ঘটনা সম্মুখে আসে যা আসলে আমরা মেনে নিতে যেমন পারি না ঠিক তেমনি সেটাকে গিলতেও পারি না। সহজভাবে আমাদের সাথে সেটা একদমই যায় না, কিন্তু তবুও এমন হচ্ছে এবং আমরা কোন না কোনভাবে সেগুলোর স্বাক্ষী হচ্ছি। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই হচ্ছি।

hansuan_fabregas-ai-generated-8766501.jpg

এই তো সেদিনের একটা ঘটনা আমাদের সামাজিক অবস্থানে, জাতীয় সংবাদপত্র মাধ্যমে এবং সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ সেটা আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না, আমাদের সমাজ ব্যবস্থার সাথে সেটা একদমই যায় না। মা-বাবা কতটা কঠিন পরিশ্রম কিংবা কষ্ট স্বীকার করে তার সন্তানদের মানুষ করে, শিক্ষিত করার চেষ্টা করে এবং তারপর সুন্দর অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। বাবা হওয়ার পর সেটা আমি ভীষণভাবে অনুভব করছি, আমার মা-বাবার ত্যাগগুলো অনুধাবন করতে পারছি।

অথচ সেই সন্তানগুলো যদি সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মা-বাবার খোঁজ খবর না নেয়, যদি তারা তাদের অবজ্ঞা করে কিংবা পরিবারের জন্য বোঝা মনে করে, তাদের একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়, নোংরা কিংবা যে ব্যবস্থায় একজন সুস্থ মানুষ বসবাস করতে পারে না, এমন পরিবেশের মাঝে ঠেলে দেয়। যেখানে তার পরিচর্যা করার কেউ থাকে না, যেখানে তাকে সময় দেয়ার কেউ থাকে না, নিঃসঙ্গ যেখানে তার আপন হয়ে যায়, তেমন অবস্থায় একজন মা কিংবা পিতা কতটা অসহায়ত্ব অবস্থানে চলে যায়, সেটা কি কল্পনা করা যায়? আমি পারছি না!

সত্যি বলছি আমি পারছি না, আমার কাছে সেটা অনেক বেশী কষ্টকর মনে হচ্ছে, আমি সেটা কল্পনা করতেই ভয় পাচ্ছি। অথচ এমন একটা ঘটনা ঘটে গেলো, পত্রিকা কিংবা সামাজিক মিডিয়াগুলোর কল্যাণে আমরা সবাই তেমন একটা ঘটনার স্বাক্ষী হলাম, অনুতপ্ত কিংবা মর্মাহত যেটাই বলেন না কেন? কোনভাবেই সেটাকে মেনে নিতে পারছি না, আমিও একজন পিতা, আমি এখন জানি সন্তান পালনে কতটা ধৈর্য কিংবা আত্মত্যাগ স্বীকার করে তাদের বড় করতে হয়। কেন আমরা শিক্ষিত হয়েও সুমানুষ হতে পারছি? কেন আমাদের মাঝ হতে মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাচ্ছে?

Image Taken From Pixabay

ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah

break .png
Leader Banner-Final.pngbreak .png

আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

break .png

Banner.png