ইউনিভার্সিটিতে ম্যামের অফার করা চা
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও ভালো আছি। আজ আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আশা করছি গল্পটা আপনাদের ভালো লাগবে। আজ শেয়ার করব ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে চা খাওয়া, তাও আবার ম্যাম এর অফার করা।
ইউনিভার্সিটি তো প্রায়ই যাই। তবে আজকের টা অন্যরকম। রোজ যেমন যাই তেমনি গিয়েছিলাম সেদিনও। সেদিন সকাল দশটায় ক্লাস ছিল। তাই তাড়াতাড়ি স্নান, খাওয়া করে বেরিয়ে পড়লাম ইউনিভার্সিটি যাওয়ার জন্য। আমাদের দশটা থেকে ম্যামের ক্লাস থাকে। ম্যাম খুব কড়া ধাঁচের একজন মানুষ আর খুব ডিসিপ্লিন। দশটায় ক্লাস মানে দশটাতেই ম্যাম ক্লাসরুমে ঢুকবেন। আর আমাদেরও তাই ঢুকতে হবে, এক মিনিট দেরি হলেও ম্যাম আর ঢুকতে দিবে না, এরকম একটা ব্যাপার। এই কারণে ম্যাম এর ক্লাস থাকলে তাড়াহুড়ো করে বেরোতে হয়। তবে তখন ছিল শীতকাল সকালে বেশ ঠান্ডা হয়, রোদ উঠে না ঠিক মতো, ফির ফির করে হওয়া বয়। এরকম আবহাওয়ায় কি আর অত সকালে ইউনিভার্সিটি যেতে ইচ্ছে করে! তখন তো আটটা, নটা বেজেই যায় ঘুম থেকে উঠতে। যাইহোক বাড়ি থেকে ইউনিভার্সিটি এগারো কিলোমিটার তাই ৩০/ ৪০ মিনিট আগেই বেরোতে হয়, নাহলে তো ম্যাম এর ক্লাসে ঢুকতে পারব না।
কিন্তু ব্যাপারটা হলো আমরা সেদিন বাস পাচ্ছিলাম না। আমি আর বিদিপ্তা যাচ্ছিলাম। বাস না পেলে তো সময় মতো পৌঁছাতেও পারব না। তখন আমাদের বেশ টেনশন হতে শুরু হলো.... বেশ কিছুক্ষণ পর বাস আসলো।
পনেরো কুড়ি মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম ইউনিভার্সিটি। এবার আমরা ভাবছি ম্যাম কী কী যে বলবে আমাদের! কত বকা যে দিবে! আদেও ক্লাস করতে দেবে কি না! এইসব ভাবতে ভাবতে বিদিপ্তা সাহস করে ক্লাসরুমের দরজাটি খুলে বলল ম্যাম আসবো? ম্যাম প্রথমে তাকালো তারপর বলল আসো। আমরা তো অবাক, যে ম্যাম এক মিনিট দেরি হলে আর ঢুকতে দেয় না সেই ম্যাম আজ কোন রকম বকা না দিয়েই ঢুকতে দিলো। তারপর আমরা রুমের ভেতরে গিয়ে বসলাম এবং মন দিয়ে ক্লাস করলাম।
ক্লাস শেষ হলো, ম্যাম যাওয়ার সময় বলল কেউ এখন বাড়ি যেও না..... আমরা পুরো ক্লাসরুম আবার অবাক, যেতে কেনো মানা করছে! আবার কি প্র্যাকটিক্যালের কোনো কাজ দেবে! নাকি বকা দিবে!
এইসব নিয়ে আলোচনা করতে করতেই হঠাৎ দেখি ক্লাসরুমের ভেতরে একজন চা নিয়ে এলো। লোকটি আমাদের ক্যান্টিনে থাকে। তারপর ম্যামও আসলো ক্লাস রুমে বলল সবাই একটু করে চা খেয়ে নাও আজ ভীষণ ঠান্ডা।
তারপর আমরা চা নিলাম। কিন্তু খাওয়ার আগে আমরা এটাই আলোচনা করছিলাম যে ম্যাম এত ভালো কবে থেকে হয়ে গেল! আমাদের চা খাওয়াচ্ছে।
আমরা আগে ভাবতাম ম্যাম শুধু বকাই দেয়, এখন দেখছি ম্যাম চা ও খাওয়ায়। ম্যামের এরকম নরম হৃদয় দেখে আমরা সত্যিই সবাই অবাক হয়েছিলাম। ম্যাম ওপরে ওপরে কড়া ধাঁচের মানুষ হলেও, মনটা ম্যামের নরম এটুকু বুঝলাম।
আজ এখানেই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।


