সরস্বতী পূজায় পূজায় ঘোরাঘুরি
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালোই আছি। আজ আমি আবার একটি গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আজ শেয়ার করব সরস্বতী পুজোয় কোথায় কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলাম।
আগের পোস্টে পুজোর প্রসাদ বিতরণ পর্যন্ত শেয়ার করেছিলাম। প্রসাদ বিতরণ করে আমি বাড়িতে আসি এবং কিছু খেয়ে নেই।
তারপর দুপুর দুটোর দিকে পুচকি দিদি কল করে...বলল ঘুরতে যাওয়ার কথা। আমিও ভাবলাম বাড়িতে বসে কি করবো! ঘুরেই আসি। তাই যেতে রাজি হয়ে গেলাম। রেডি হওয়ার তো কোনো ব্যাপার ছিল না কারণ সকালেই শাড়ি পরে রেডি হয়েছিলাম। তাই তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়লাম। আমি, পুচকি দিদি যাচ্ছি, বিক্রমও আমাদের সাথেই যায় প্রতিবার তবে এবার ওর কিছু ফ্রেন্ড রায়গঞ্জে আসবে তাই সে আমাদের সাথে যাবে না। আর আমরা যাচ্ছি ইটাহার কলেজে। বাড়ি থেকে টোটো করে বেরিয়ে পড়লাম যাওয়ার জন্য.... প্রায় তেরো কিলোমিটার। কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম।
ওখানে আগেরবার সরস্বতী পূজোয় গিয়েছিলাম কিন্তু আগের বার দুদিন পূজোর লগ্ন থাকায় আগের দিনই সেখানে পূজো হয়ে গিয়েছিল। তাই আমাদের আর ওখানে ঠাকুর দেখা হয়নি।
যাইহোক পৌঁছে গেলাম ইটাহার কলেজে। প্রথমেই ঠাকুর দেখে নিলাম, বেশ মিষ্টি সরস্বতী মা। ডেকোরেশনও খুব সুন্দর ছিল, কিন্তু সেখানে খুব ভিড় ছিল ছবি তোলা যায়নি। আমি ওই কলেজে কোনো দিন যাইনি তাই পুরো কলেজটা ঘুরে দেখলাম অনেকটাই বড় এবং সুন্দর। শেষে আমরা কলেজের মাঠের দিকে গিয়ে কয়েকটা ছবি তুলে নিলাম।
সেখানে পুচকি দিদির একটা বন্ধুও এসেছিল দেখা করতে। বেশ খানিকক্ষণ গল্প করার পর আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে যাই। তারপর টোটো করে আমাদের স্কুলে যাই.... আর একটু দেরি করে গেলেই আমরা আমাদের স্কুলের ঠাকুরটা দেখতে পারতাম না, কারণ বিকেল চারটার পর স্কুল আর খোলা থাকে না।
তারপর স্কুল থেকে বেরিয়ে চলে গেলাম রাজবাড়ীতে। স্কুলের পাশেই রাজবাড়ী। সেখানে গিয়ে দেখি প্রচুর মানুষ। ইতিমধ্যেই আমার ফোনের স্টোরেজ ফুল হয়ে যায় তাই আমি আর সেখানে কোন ছবি তুলি না বরং সুন্দর সুন্দর ছবি পুচকি দিদিকে তুলে দেই। সেখানে পুচকি দিদির কিছু বান্ধবীদের সাথে দেখা হয়ে যায়, তাদের সাথে খানিকক্ষণ গল্প করে বাড়ি ফিরে আসি।
বাড়ির এখানে অনুষ্ঠান ছিল। আমরা প্রতিবছরই সরস্বতী পূজার সন্ধ্যায় ছোট বাচ্চাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করে থাকি এবং অনুষ্ঠানের শেষে খিচুড়ি খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা বাচ্চাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেই। অনুষ্ঠান মানে আমরা ছোট্ট একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। প্রতিযোগিতা বলতে মোমবাতি জ্বালানো, বিস্কুট খাওয়া, বল ছোড়া, শঙ্খ বাজানো, নাচ, গান ইত্যাদি। প্রতিযোগিতার শেষে সবাই খিচুড়ি খেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এইভাবেই আমরা মজায় প্রতিবার সরস্বতী পুজো কাটাই।
আজ এখানেই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।





Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
Curated by: @tammanna