" শশুর মশাইয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মুহুর্ত"
Hello,
Everyone,
অবশেষে গতকাল সুসম্পন্ন হলো শ্বশুরমশাইয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের কার্যক্রম। গত পরশুদিন ক্ষৌরকর্ম সম্পন্ন হলেও মূল রীতি পালিত হয়েছে গতকাল। যেখানে শুভর পাশাপাশি আমি ও শাশুড়ি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলাম।
এতোদিন পর্যন্ত শুভর সাথে সাথে আমরা সকল নিয়ম পালন করলেও, শ্বশুর মশাইয়ের উদ্দেশ্যে মন্ত্র উচ্চারণের সুযোগ পেলাম গতকাল শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের নিয়ম পালন করতে গিয়ে।
গতকালকের আগে চতুর্থী এবং দশ দিনের কাজে কেবলমাত্র শুভ মন্ত্র জপ করে শ্বশুর মশাইয়ের উদ্দেশ্য পিন্ড দান করেছিলো। গতকালকের প্রস্তুতিপর্ব অনেক সকাল থেকে শুরু হয়েছিলো এবং তা প্রায় বিকেল পর্যন্ত চলেছে। কারণ শ্রাদ্ধের অনেক রীতি ছিলো।
সকালবেলায় একসাথে দু'জন পুরোহিত মশাই আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। যদিও দুপুরের পর আরও তিনজন এসেছিলেন কারও আজ শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের শেষে ব্রাহ্মণ সেবারও আয়োজন করা হয়েছিলো।
যে দুজন সকালে এসেছিলেন তারা মূলত শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের সমস্ত কিছু জোগাড় করা শুরু করেছিলেন। সমস্ত কিছু তৈরি করা থেকে শুরু করে, দর্শকর্মার সব বাজার সঠিকভাবে সাজানোর কাজ করার সবকিছু পুরোহিত মশাইরা নিজেদের হাতেই করেছিলেন। আমরা শুধু বাজার করে আনার সমস্ত কিছু জিনিস ওনাদের কাছে ধরে দিয়ে দিয়েছিলাম।
শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের প্রথম কাজ শুরু হয়েছিলো শুভকে দিয়ে। এরপর শাশুড়ি মা আর তারপর আমাকে বসানো হয়েছিলো এবং সবশেষে আবার শুভকে ডেকে নিয়ে পিন্ডদানের পর্ব শেষ করার পর, শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের কাজ সুসম্পন্ন হয়েছিলো।
অন্যদিকে আমাদের ঠাকুরঘরে গীতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছিলো। তুলসী মাতাকে একটা নতুন শাড়ি পরিয়েছিলেন পুরোহিত মশাই। খুবই সুন্দর ভাবে তিনি শাড়িটা পরিয়েছিলেন, আশাকরছি ছবিটা দেখে আপনারা বুঝতে পারছেন। এরপর গীতা পাঠ ও গঙ্গার জল দিয়ে ঠাকুরঘরকে পবিত্র করা হলো।
কারণ শশুর মশাই মারা যাওয়ার দিন থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত আমাদের বাড়িতে পুজো দেওয়া হয়নি। শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের শেষে ঠাকুর মশাই আমাদের সকলকে শান্তির জল দিলেন, যেটা সমস্ত ঘরে ছিটিয়ে দিয়ে ঘর শুদ্ধ করা হলো। তারপর তিনি অনুমতি দিলেন যে, আজ থেকে আমরা বাড়ির নিত্য পূজো শুরু করতে পারবো।
তবে শ্বশুর মশাইয়ের বাৎসরিক ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে পর্যন্ত বেশ কিছু জিনিস আমাদেরকে মেনে চলতে হবে, সেই বিধানও তিনি দিয়েছেন। এই সমস্ত কাজ শেষ হতেই বিকেল হয়ে গেলো। তারপর আরো তিনজন পুরোহিত মশাই আসলে, আমরা পাঁচজন পুরোহিত মশাইকে সেবা করিয়ে তাদেরকে গীতা দান করলাম।
সেই মুহূর্তের ছবিগুলো আসলে তোলার সুযোগ হয়নি, তাই আপনাদের সাথে সেগুলো শেয়ার করতে পারলাম না। অবশেষে সমস্ত কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর শ্বশুরমশাইয়ের উদ্দেশ্য দান করা পিণ্ড ও ঠাকুরমশাইয়ের নির্দেশ অনুসারে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে ব্যবহৃত কিছু জিনিস জলে ফেলে স্নান করার নিয়ম রয়েছে, তাই শুভ এবং আমার ননদের ছেলে সেগুলো নিয়ে পুকুরে ভাসাতে গিয়েছিলো।যে পুকুরে দশদিনের ক্ষৌরকর্ম কাজ সম্পন্ন হয়েছিলো।
আমিও গিয়েছিলাম ওদের সাথে, সেখান থেকে ফিরে স্নান করে নিয়েছিলাম আমরা সকলেই।গতকাল অনেক মানুষ এসেছিলো বাড়িতে। সন্ধ্যার পরে সকলেই নিজের মতন ফিরে গিয়েছিলেন, তবে সকলে নয়। এখনও অনেক মানুষ রয়েছে বাড়িতে। এরপর ঠাকুর ঘরের কাজ, ছাদে যেখানে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়েছিলো সেই সমস্ত কাজ গোছাতে রাত প্রায় এগারোটা বেজে গেলো।
গতকাল হলুদ ছাড়া খিচুড়ি রান্না হয়েছিলো আমার, শুভর ও শাশুড়ি মায়ের জন্য। রাতের বেলায় সেটুকু খেয়ে শুয়ে পড়েছিলাম কারণ শরীরটা ভীষণ খারাপ লাগছিলো। আজ সকাল থেকে আবার ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। দুপুরবেলা একটু সুযোগ পেয়ে পোস্ট লিখতে বসলাম।
একটু বাদেই আবার রামায়ণ পাঠের লোকজন চলে আসবে, তার প্রস্তুতি নিতে হবে। সেই পর্বটা আগামীতে আমি আপনাদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবো। আপনাদের প্রত্যেকের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে।







