"গন্তব্য ছিলো কলকাতা স্টেশন"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
আমার শরীরের যা অবস্থা তাতে আজ থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে। কারণ এইভাবে দীর্ঘদিন ওষুধ না খাওয়াতে শরীর আরও বেশি খারাপ হয়ে পড়ছে। তাই আজ অফিস থেকে ফেরার পথে শুভকে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে আসতে বলেছি।
আপনারা সকলেই জানেন, গত রবিবার আমাদের বাড়িতে শশুর মশাইয়ের উদ্দেশ্যে বৈষ্ণব সেবার আয়োজন করা হয়েছিলো। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য মালদা থেকে আমার বৌদি এবং ভাইপো এসেছিলো। এখনও পর্যন্ত ওরা আমাদের বাড়িতেই আছে।
![]() |
|---|
জীবনে প্রথমবার বৌদি কলকাতায় একা একা এসেছিলো। তাই দাদা বেশ চিন্তিত ছিলো ওদেরকে ট্রেনে তুলে দেওয়ার পর। তবে আমি আগে থেকেই জানিয়েছিলাম আমি নিজে কলকাতা স্টেশন থেকে ওদেরকে নিয়ে আসবো।
তাই সেই ভরসাতে দাদা ওদের পাঠিয়েছে। তাই নিজের শরীর খারাপকে উপেক্ষা করেও আমাকে যেতে হয়েছিলো ওদেরকে আমার জন্য। আজ সেই দিনেরই কিছু মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করবো এই পোস্টের মাধ্যমে।
যেহেতু রবিবার আমাদের বাড়িতে বৈষ্ণব সেবা ছিলো, তাই শনিবার দিন শাশুড়ি মা বাজারে গিয়েছিলো। আর আমি সকাল বেলায় শুভর অফিসের জন্য রান্না করে, শুভ অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর, পুজো সেরে তারপর রেডি হয়ে বেরিয়েছিলাম কলকাতা স্টেশনের উদ্দেশ্যে। বাইরে তখন প্রচন্ড রোদ্দুর, সেই সাথে ভীষণ গরমও ছিলো।
![]() |
|---|
গরমটা আরও বেশি অনুভব হচ্ছিলো শরীরটা বেশি খারাপ বলে। যাইহোক বেরোনোর সাথে সাথে একটা টোটো পেয়ে গিয়েছিলাম, না হলে ওই প্রচন্ড রোদে ছাতা মাথায় দিয়ে হেঁটে হেঁটে আমাকে স্টেশন পর্যন্ত যেতে হতো। টিকিট কেটে দু'নম্বর স্টেশনে মিনিট আছে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ট্রেনের জন্য।
আমি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম সেখানেই কয়েকজন রেল কর্মী বসেছিলেন, যারা মূলত ট্রেন লাইনে কাজ করেন। তাদের ড্রেসের কালার দেখে সেটাই বুঝলাম এবং তাদের কথোপকথন শুনে তেমনটাই মনে হলো।
ওনরা আপের ট্রেন ধরে অশোকনগর যাবেন বলেই বসেছিলেন স্টেশনে। আমার অসম্ভব গরম লাগছিলো, তবে ওনাদেরকে দেখে মনে মনে ভাবছিলাম এতো গরমেও এই প্রত্যেকটা মানুষ রেললাইনের উপরে গরম পাথরের মধ্যে বসে কাজ করে। দুই একজনের বয়সও বেশ অনেকটাই হয়েছিলো।
![]() |
|---|
তাই ভাবছিলাম জীবিকা নির্বাহের জন্য কত মানুষ কত কষ্টই না করেন। ওনাদেরকে দেখে নিজের কষ্ট যেন কিছুটা হলেও কম মনে হচ্ছিলো। যাইহোক এরপর ট্রেনে উঠলাম। ট্রেন মোটামুটি ফাঁকাই ছিলো, এতো গরমে দুপুরের দিকে খুব বেশি মানুষ বের হয় না। যাদের অত্যন্ত প্রয়োজন থাকে কেবলমাত্র তারাই বেড়োয়, যেমন আমিও ঐদিন বেরিয়েছিলাম।
কিছুক্ষণের মধ্যে গিয়ে পৌঁছালাম বিধান নগর স্টেশনে। সেখানে নেমে পায়ে হেঁটে কলকাতা স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। এই রাস্তায় জীবনে প্রথমবার এসেছিলাম যখন দার্জিলিং গিয়েছিলাম তখন। সেবার অবশ্য রাতের বেলায় এসেছিলাম, কারণ কলকাতা স্টেশন থেকে রাত দুটোর পর আমাদের ট্রেন ছিলো। তাই আমরা মোটামুটি দশটা নাগাদ গিয়েছিলাম।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
তবে দিনের আলোতে রাস্তাটা দিয়ে প্রথমবার যাচ্ছিলাম। দু পাশে সবুজ গাছ দিয়ে ঘেরা রাস্তা দিয়ে যেতে ভালোই লাগছিলো। শুধু রোদ্দুরটুকু না থাকলে বোধহয় আরও বেশি ভালো লাগতো। কিছুক্ষণের মধ্যে কলকাতা স্টেশনের সীমানা চোখে পড়লো, আরও খানিকটা এগিয়ে গিয়ে প্ল্যাটফর্মে ঢুকলাম।
এরপর টিকিট কাউন্টারের দিকে যাওয়ার সময় চোখে পড়লো দুপাশে লাইন দিয়ে রাখা সুন্দর কিছু গাছের টব। টিকিট কাউন্টারে দাঁড়িয়ে একটা প্ল্যাটফর্ম টিকিট কাটলাম, কারণ বৌদি এবং দাদার ছেলেকে আনতে আমাকে প্ল্যাটফর্মের ভিতরে যেতে হবে। তাই একটা টিকিট কাটা না থাকলে সেক্ষেত্রে সমস্যা করতে পারি। টিকিট কেটে ভিতরে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
![]() |
|---|
কলকাতা স্টেশন মোটামুটি ফাঁকাই থাকে। এখানে লোকাল ট্রেনের তেমন যাতায়াত নেই, শুধু দূরপাল্লার যে ট্রেনগুলো এখানে আসে, সেখানকার লোক নামে বা এখান থেকে যে ট্রেনগুলো ছাড়ে সেই ট্রেনের লোকজন এসে ওঠে। গোটা প্ল্যাটফর্ম জুড়ে দু একটা দোকান আছে শুধু, ব্যাস এইটুকুই।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
কিছুক্ষণের মধ্যে দেখে দেখতে দেখতে আমার বৌদিদের ট্রেন ঢুকে গেলো। এরপর আমি ওদের গাড়ি থেকে নামিয়ে, ওদেরকে সাথে নিয়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। বাইরে তখন প্রচন্ড রোদ্দুর, প্রায় আড়াইটা নাগাদ আমরা স্টেশন ছেড়েছিলাম। কতখানি গরম ছিল আশা করছি আপনারা বুঝতে পারছেন।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
এরপর ফিরে আসার মুহূর্তের ছবি আর ক্যামেরা বন্দি করা হয়নি। আমরা বিধাননগর থেকে শিয়ালদহ গিয়ে দত্তপুকুর লোকাল ধরে তখন বাড়িতে ফিরেছিলাম। যখন বাড়িতে পৌঁছালাম, দেখলাম তখন ঘড়ির কাঁটায় ৫ঃ১০ বাজে।
এই ছিলো আমার সেদিন কলকাতা স্টেশন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। প্রচন্ড গরমের মধ্যে হলেও বাধ্য হয়ে সেদিন গিয়েছিলাম। আর সেদিন থেকে শরীরটা আরও একটু বেশি খারাপ হয়েছে। যাইহোক ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।













Congratulations @sampabiswas! Your post has been upvoted by @supportive. In addition, accounts that delegate to us may receive a daily vote on one post worth approximately 11x their delegated SP, along with nearly 7% APR paid daily.