"সকলের সাথে বৃষ্টিমুখর একটা সুন্দর দিন কাটালাম মালদায়""
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
মালদায় প্রথম সকালটা শুরু হয়েছিল রৌদ্রজ্জাল আবহাওয়া দিয়েই। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে সেটা পরবর্তীতে বৃষ্টিমুখর আবহাওয়া হয়ে দাঁড়ালো। কিভাবে দিনটা অতিবাহিত হয়েছে তার কিছু মুহূর্ত তুলে ধরবো আজকে আপনাদের সাথে এই পোস্টের মাধ্যমে।
গতকালকে লেখাতেই উল্লেখ করেছি হঠাৎ করে প্ল্যান করেই শাশুড়ি মা, মাসি শাশুড়ি, ননদ আর ননদের ছোটো ছেলেকে সাথে নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম গাজলে আমার দাদার বাড়িতে। যেখানে থাকার গল্প এর আগেও বেশ কয়েকবার আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। সেবার অবশ্য আমি আর শুভ এসেছিলাম। পরিবারের বাকিদের নিয়ে এই প্রথমবার এলাম।
কলকাতায় যখন প্রচন্ড গরম তখনও মালদাতে মাঝেমধ্যে ঝড় বৃষ্টি হয়েছে, এ কথা দাদার কাছ থেকে শুনেছিলাম। তবে এইভাবে আমরাও যে একটা বৃষ্টিমুখর দিন পাবো সেটা সত্যিই ভাবিনি। আগের দিন রাতে জার্নির ক্লান্তিতে সকলেই খাওয়া দাওয়া করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম।
![]()
|
|---|
পরদিন ঘুম ভেঙেছে প্রায় সাড়ে আটটার পরে। উঠে দেখি বাইরে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া। শাশুড়ি মা উঠেছেন আরও ভোরে। দাদাদের বাড়ির আশপাশটা ঘুরে দেখেছেন, পুজোর জন্য কিছু ফুল তুলেছেন, কিছু শাক তুলেছেন। বেশ মজায় দিনগুলো কাটছে ওনার।
আমি ঘুম থেকে উঠে সকলের জন্য চা করলাম। নিজের এক কাপ চা করেছিলাম বেশি করে আদা ও গোলমরিচ দিয়ে। কারণ ঠান্ডা লেগে গলার অবস্থা বেশ খারাপ। কয়েকটা বিস্কুটের সাথে চা টা খেয়ে তারপর ফ্রেশ হয়ে নিয়েছিলাম। সকালে খাওয়ার জন্য গতকাল রাতের ভাত ছিলো, তার সাথে কয়েকটা রুটি করেছিলো বৌদি। তবে রুটি/ ভাত আমি কোনো কিছুই খাইনি। গত কয়েকদিন ধরেই কোনো কিছু খাওয়াতে যেন আমার রুচি নেই।
একটু বাদে রান্না করার সময় হলে মাছের সবরকম মেনু শাশুড়ি মা করলো। আর মাংসটা ননদ রান্না করলো। আমার শরীরটা ভালো নয় বলে আমাকে আর কিছু করতে দেয়নি। আমি ঘরে অনেকক্ষণ ধরে শুয়ে ছিলাম। রান্না করতে করতে হঠাৎ ননদ আমাকে ডাক দিয়ে বাইরে দিকে দেখতে বললো। তাকিয়ে দেখি প্রচন্ড মেঘ করেছে।
![]()
|
|---|
আমি রান্না ঘরেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। দেখলাম আমার শাশুড়ি, মাসি শাশুড়ি ও ননদ তিনজনে মিলেই তাড়াতাড়ি বাড়ির সামনের মাঠে চলে গেছে। একটু দূরেই আম গাছে আম পড়ছিলো, শাশুড়ি মা সেটাই কুড়াবে। আসলে শহর এলাকায় থাকায় ছোট্টবেলার সেই আনন্দগুলো আর উপভোগ করার সুযোগ পান না। তাই যখন গ্রামের দিকে আসেন, এই ছোট্ট ছোট্ট মুহূর্তগুলো খুব উপভোগ করেন।
![]()
|
|---|
ননদ আবার পাশের জমি থেকে বেশ কতকগুলো শাক তুলতে লেগে গেলো। আমি ঘরে দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুললাম। কিন্তু হঠাৎ করেই বৃষ্টি পড়তে শুরু করায় সকলেই আবার দৌড়ে ঘরে চলে এলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
দুপুরে রান্নাবান্নার আয়োজনে ছিলো বেগুন গিমা শাক, উচ্ছে ভাজা, বেগুন দিয়ে মৌরালা মাছের ঝাল, আলু ঝিঙে দিয়ে চিংড়ি মাছ, আর মটন কষা। মটন আমি খাই না। গিমা শাক, উচ্ছে ভাজাও খাইনি। শুধু মৌরলা মাছ এবং চিংড়ি মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়েছিলাম। তবে যদি স্বাদ সম্পর্কে বলতে হয়, কিছুই বলতে পারবো না।
আমরা যখন খেতে বসি বাইরে তখন মুষলধারায় বৃষ্টি পড়ছে। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বৌদিদের ব্যালকনিতে গিয়ে পাশের পুকুরের দুই একটা ছবি তুললাম। বাইরে তখন বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ সাদা হয়ে গেছে। তারপর বিছানায় শুলাম। ভীষণ ঘুম পাচ্ছিলো, কিন্তু যেহেতু পোস্ট লেখা হয়নি তাই বসে পোস্ট লেখার কাজটা শেষ করে নিয়েছিলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
ইচ্ছে ছিলো সন্ধ্যা বেলায় দাদার দোকানের ওখানে মোমো খেতে যাবো। দাদাদের বাড়িতে এলে যেই দোকানে আমরা প্রত্যেকবারই খেয়ে থাকি। কিন্তু বৃষ্টি কিছুতেই কমছিলো না। সন্ধ্যার পর দাদার ছেলেকে পড়াতে ওর প্রাইভেট মাস্টার এলো। তখন অবশ্য বৃষ্টি কমেছিলো, কিন্তু ওর পড়া না হওয়া পর্যন্ত আমরা সকলেই অপেক্ষা করলাম।
প্রায় সাড়ে আটটার পরে মাস্টার চলে গেলে আমরাও সকলে মিলে তৈরি হয়ে গেলাম মোমের দোকানে। বৃষ্টির কারণে আশেপাশের সব দোকান বন্ধ ছিলো।
![]()
|
|---|
শুধু মোমোর দোকান, একটা ওষুধের দোকান এবং একটা মুদিখানার দোকান খোলা ছিলো। তাই সেখান থেকে মোমো এবং আইসক্রিম খেয়ে সকলে আবার বাড়িতে ফিরলাম প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ।
তারপর বেশ কিছুক্ষন সকলে মিলে গল্প করে, আমি ও বৌদি বাদে সকলে রাতের খাবার খেয়ে, প্রায় একটার পর ঘুমাতে গেলাম। এইভাবে গতকালের দিনটি কেটেছে সকলের সাথে। ভালো থাকবেন সকলে।










