অনেক প্রতিকূলতা পেড়িয়ে Sittong যাওয়ার পথে কী কী দেখলাম?
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আমাদের sittong যাওয়ার পথে দেখা কিছু স্পট এর গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
আপনারা যারা আমার আগের পোস্টগুলো পড়েছেন তারা তো সকলেই জানেন যে হানিমুনে বেড়িয়ে আমরা কিরকম সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম। যে গাড়ির আমাদের পিক আপ করার কথা ছিল, আমাদের বাস লেট করে শিলিগুড়ি পৌঁছানোর ফলে সিটং গামী সেই গাড়ি আমাদের পিক আপ না করেই বাকি টুরিস্টদের নিয়ে sittong এর পথে রওনা হয়। তারপর আমরা একটা লোকাল গাড়ি পাই। দুপুর সাড়ে ১১ টা থেকে তিনটে পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হয় কারণ তার আগে ওই গাড়ি ছাড়বে না। এই কথা শুনে তো আমার বরের ওপরে আমার অনেক রাগ, অভিমান, দুঃখ, কষ্ট সব হয়। কারণ ওর বোকামির জন্যই সমস্ত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। ও যদি যাওয়ার সময় অন্তত কয়েক সপ্তাহ আগে বাস বুক করত তাহলে ভালো কোন বাসে আমরা স্লিপার পেয়ে যেতাম। কিন্তু ও বাস বুক করেছিল অনেক পরে যার ফলে পছন্দ মতো বাসে আমরা সিট পাইনি।
অনেক রাগ দেখিয়েছিলাম আমি। আমার তো আর ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছেই হচ্ছিল না। আমি বারবার বলছিলাম বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমার বর বলছিল ঘুরতে যখন বেরিয়েছে তখন ঘুরেই বাড়ি ফিরবে। তবে আমার মন থেকে এতটাই খারাপ লেগেছিল যে আমি বাড়ি ফেরার বাসও দেখা শুরু করেছিলাম। কিন্তু সেই দিন কোন বাসেই স্লিপার পাওয়া যাচ্ছিল না। আর আমি স্লিপার ছাড়া এতটা রাস্তা কোনোভাবেই আসতে পারতাম না তাই বাড়ি ফেরার ভাবনা ছেড়ে দিলাম। আমার রাগ হওয়ার মূল কারণ ছিল প্রথম দিন সিটং যাওয়ার পথে আমাদের এ গাড়ি যেই স্পটগুলো ঘোরাতে ঘোরাতে নিয়ে যেতো, এই লোকাল গাড়ি তার সামনে দিয়ে গেলেও কোন স্পটেই আমাদের নামাবে না। কারণ আমাদের সহযাত্রী হিসেবে সেই গাড়িতে বেশ কয়েকজন লোকাল মানুষও থাকবে। তাই প্রথম দিনটা পুরোপুরি নষ্ট হবে এটা ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছিল।
বর অনেক ভাবেই রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করলেও কোনো ভাবেই মনটা ভালো হচ্ছিল না। তারপর অনেকক্ষণ বসে থাকলাম। আমার বর খাবার কিনে আনলো। রাগ করে প্রথমে খাচ্ছিলাম না, তারপর পরে খেয়েছিলাম। এইভাবেই ৩ টে পর্যন্ত বসে থাকার পর অবশেষে আমাদের গাড়ি ছেড়েছিল। আমি প্রথম থেকেই ভেবে রেখেছিলাম আমি ড্রাইভারের পাশের সিটে বসবো। সেই মতো আমি আর আমার বর ফ্রন্ট সিটেই বসে ছিলাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চলেছিলাম। সমতল ভূমি থেকে আস্তে আস্তে পাহাড়ি পথে উঠছিলাম। আমি এর আগেও দার্জিলিং ঘুরতে গিয়েছি তবে সেইবার ভোর ৩ টের সময় এই পথ দিয়ে গিয়েছিলাম তাই তখনকার একরকম সৌন্দর্য্য ছিল আর এইবার দুপুর ৩ টে। তাই এইবারের সৌন্দর্য্য ছিল অন্যরকম। দিনের ঝকঝকে আলোয় চারপাশে সৌন্দর্য্য আমরা উপভোগ করছিলাম।
তবে ভগবান কোনো না কোনো পথ তো খোলাই রাখেন, সব দিক থেকে বিপদে ফেলেন না। সেরকমই আমাদের এই গাড়ির ড্রাইভার সহ সহযাত্রীরা খুব ভালো ছিল। আমাদের ড্রাইভার বাঙালি না হলেও আমরা যখন নিজেদের মধ্যে একটু ঝামেলা করেছিলাম উনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আমাদের গাড়ি আমাদের পিক আপ না করে চলে গেছে তাই আমাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। সেই জন্য উনি আমাদের বলেছিলেন সমস্ত স্পটে দাঁড়াতে না পারলেও কিছু কিছু স্পটে আমাদের কয়েক মিনিটের জন্য নামতে দেবে। আমাদের প্রথম ভিউ পয়েন্ট ছিল Ahaldhara View Point । আমাদের গাড়ি ড্রাইভার গাড়ির থেকেই আমাদেরকে ওটা দেখিয়েছিল। ওখানে দেখার তেমন কিছু নেই তাই আর আমাদেরকে নামাইনি।
এরপর আঁকাবাঁকা পথে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলেছিল সিটং এর পথে। রাস্তাঘাট দেখে বোঝা যাচ্ছিল কিছুক্ষণ আগে এখানে বৃষ্টি হয়ে গেছে। তবে আমরা বৃষ্টি দেখতে পাইনি। রাস্তাঘাট এর অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। অনেক কিছু কিছু পথে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলেছিল। রাস্তায় আমরা বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ঝর্ণা দেখতে পেয়েছিলাম। অবশেষে বেশ খানিকটা যাওয়ার পর আরও একটি ঝর্ণা আসে। আমি ড্রাইভারকে গাড়িটা একটু স্লো করতে বলেছিলাম যাতে একটি ছবি তুলতে পারি। তবে ড্রাইভার বলল নেমে ছবি তুলে আসতে। উনি নিজেও নামলেন। তারপর ঝরনার কাছে গিয়ে আমরা ফটো তুলেছিলাম।
এরপরের ভিউ পয়েন্ট ছিল Namthing Pokhri। আমাদের ড্রাইভার আমাদের এখানেও কয়েক মিনিটের জন্য নামতে দিয়েছিল। যেহেতু ড্রাইভার আমাদের সময় দিচ্ছিল তাই আমরা সেই সময়ের অপব্যবহার করতে চাইনি তাই কয়েক মিনিট সেখানে ঘুরে দু তিনটে ফটো তুলে আমরা আবার চলে এসেছিলাম গাড়ির কাছে। আজকের পরের ভিউ পয়েন্ট ছিল Orange Garden । সেখানে আমাদের ড্রাইভার আমাদের নামায়নি কারণ সেটা অরেঞ্জ এর সিজন ছিল না, তাই গাছে কোন কমলালেবু ছিল না। এই ঋতুতে যেহেতু গাছে ফুল ধরে আর টুরিস্টরা সেখানে গেলে গাছে হাত দেবে ফলে ফুলগুলো ঝরে যাবে তাই কোন টুরিস্ট কেই এই ঋতুতে বাগানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।
এর পরের ভিউ পয়েন্ট ছিল Lepcha Monetary । তবে সেখানে আমাদের আর নেওয়া হয়নি কারণ অনেকটাই দেরি হয়ে যাচ্ছিল হোমস্টেতে পৌঁছতে। অবশেষে আমরা সাড়ে পাঁচটার দিকে আমাদের হোম স্টে 'প্রার্থনা' তে পৌঁছেছিলাম। সেখানে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে আমরা আমাদের লাঞ্চ খেয়ে নিয়েছিলাম যেটা আমরা আগেই ফোন করে রাখতে বলেছিলাম। প্রথম দিন আমাদের লাঞ্চে ছিল -- ভাত, ডাল, একটা চচ্চড়ি, ডিম, পাঁপড় ভাজা। খাবার খুব ভালো ছিল। সারাদিন করে ভাত খেয়ে যেন প্রাণটা ফিরে পেলাম। এইভাবেই আমরা সিটং পৌঁছেছিলাম।
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।





Curated by: @ ripon0630