মৌসুনি দ্বীপ ভ্রমণ ২০২৬
এই বছর ২৭শে জানুয়ারী আমি আমার জামাইবাবু অসীমদার সাথে দক্ষিণ ২৪ পরগণার মৌসুনি দ্বীপ ঘুরতে গিয়েছিলাম। যদিও আমাদের যাওয়ার কথা ছিল ডায়মন্ডহারবার কিন্তু ভোর ৪টে নাগাদ বাঘাযতীন স্টেশন পৌঁছে নামখানা নিবাসী একজন ভদ্রমহিলার সুপরামর্শ শুনে আমরা নামখানা যাওয়ার টিকিট কাটি।

কিছুক্ষণ পর নামখানা লোকাল আসলে আমরা ট্রেনে উঠে দেখি যে বেশ ভালোই ভীড় আছে। আমদের ভাগ্য ভালো যে কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা বসার জায়গা পেয়ে যাই। ২ ঘন্টা ২০ মিনিটের মধ্যে আমরা নামখানা পৌঁছে যাই। আপনারা যদি শিয়ালদহ থেকে নামখানা লোকালে ওঠেন তাহলে আপনাদের নামখানা পৌঁছতে ৩ ঘন্টার কাছাকাছি সময় লাগবে আর এই একটা ট্রেনই শুধু নামখানা যায়। ১ নং প্ল্যাটফর্ম থেকে বাইরে বেড়িয়ে দেখি যে বকখালি আর মৌসুনি দ্বীপ যাওয়ার জন্য বেশ কিছু টোটো দাঁড়িয়ে আছে। আমরা একটা টোটোয় উঠে ৩০ মিনিটের মধ্যে মৌসুনি আইল্যান্ড যাওয়ার ঘাটে পৌঁছে যাই।

ঘাটের থেকে একটা নৌকা করে ১০ মিনিটের মধ্যে নদী পেরিয়ে মৌসুনি দ্বীপ গিয়ে পৌঁছই। ওখানে পৌঁছে আমরা হাল্কা ব্রেকফাস্ট করে নি। আমি খেয়েছিলাম ডিম টোস্ট আর চা আর অসীমদা শুধু ডবল ডিমের অমলেট খেয়েছিল। এরপর আমরা আবার একটা টোটো ধরে সি বীচে যাই। মৌসুনি আইল্যান্ডের বিশেষত্ব হলো এই দ্বীপের একদিকে নদী আরেকদিকে সমুদ্র। ওখানে গিয়ে আমরা ১ ঘন্টার মতো সময় কাটাই। সি বীচে দুটো বাচ্চা ছেলের সাথে আলাপ হলে আমি ওদের সাথে একটা ছবি তুলে নি।




সি বীচ থেকে আমরা নদীর পাশে ম্যানগ্রোভের দিকে যাই এবং সেখানে বেশ কয়েকঘন্টা সময় কাটাই। আমরা ওখানে বেশ কিছু ছবিও তুলি। ওখানে আমাদের গনেশ মন্ডল নামে এক মাঝির সাথে আলাপ হয়। ও বলে যে জোয়ার আসলে ও ওর নৌকায় করে আমাদের ঘুরতে নিয়ে যেতে পারবে। গনেশের সাথে কথা বলে আমরা ওকে ৩টের সময় আসতে বলি। ততক্ষণে আমাদের লাঞ্চও হয়ে যাবে।



গনেশ চলে যাওয়ার পর আমি আর অসীমদা একটা রিসোর্টে গিয়ে লাঞ্চ করি। আমি নিয়েছিলাম মাটন থালি আর অসীমদা চিকেন থালি। ৩টের পর গনেশ আসলে আমরা ওর নৌকায় করে ১ ঘন্টা ধরে নদীতে ঘুরে বেড়াই। নৌকায় ভ্রমণটাই আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে মৌসুনি দ্বীপে।

এরপর পাড়ে এসে আমরা গনেশ আর ওর সঙ্গীর সাথে সান্ধ্যভোজন করি। এবার আমাদের ফেরার পালা, যদিও ওখানকার লোকজন বলছিল যে মৌসুনি দ্বীপে রাত্রিবাস না করলে এই আইল্যান্ডের সৌন্দর্য ঠিক মতো উপভোগ করা যায় না। কিন্তু কাজের দায় বড়ো দায়, তবে আমার ইচ্ছে আছে এখানে এসে অন্তত একদিন রাত কাটানোর। সন্ধ্যে ৭টার মধ্যে আমরা নামখানা স্টেশনে পৌঁছে যাই।

এরপর আপ শিয়ালদহ লোকাল আসলে আমরা তাতে উঠে বসি। প্রথমে আমাদের কামরা পুরো ফাঁকা ছিল কিন্তু এরপর প্রত্যেক স্টেশনে ভীড় ক্রমাগত বাড়তে থাকে। যাইহোক, রাত ১০টার মধ্যে আমরা যে যার বাড়ীতে ঠিকমতো পৌঁছে যাই।
আজ তাহলে এই পর্যন্তই, সকলে ভালো থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন, এই শুভকামনা জানিয়ে আজকের প্রতিবেদন শেষ করছি।

X share: https://x.com/PijushMitra/status/2041202046666473920
@sduttaskitchen, thank you mam.