দুঃসংবাদের খবর
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলে ভালো আছেন। আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আমি আপনাদের মাঝে মে মাসের ২ তারিখের কিছু কথা শেয়ার করব।গত কিছু পোস্টে আমি আপনাদের মাঝে শুধু বোনের বিয়ে নিয়েই আলোচনা করেছিলাম ।তবে কি কারনে যে বিয়ে হয়েছিল সব বিষয়টাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম ।যারা প্রতিনিয়ত আমার পোস্ট পড়েন তারা সকলেই জেনে থাকবেন। বিয়ে নিয়ে প্রত্যেক মেয়েদের জীবনে অনেক স্বপ্ন থাকে ।তবু এটা মন্দিরে হলেও বাড়িতেও প্রচুর রিচুয়াল্স থাকে। বিয়ের একদিন পরের হয় বৌভাত ।প্রত্যেক হিন্দু বাড়িতে এই রকমটা মেনে থাকে। তবে ওরা প্রথম থেকেই বলেছিল সে রকম হবে না। কিন্তু শেষে আমরা যখন অনুষ্ঠান করব শুনে ওরাও রাজি হয়েছিল। মে মাসের ২ তারিখ অর্থাৎ সেদিন ছিল শনিবার।
সকাল বেলায় আমি একটু দেরি করেই ঘুম থেকে উঠি। তখন ঘড়ির কাঁটায় বাজে সকাল সাড়ে সাতটা। হঠাৎ ছোট আমার ফোন করে যে সেদিন ভোরে নাকি বোনের ঠাকুরমা শাশুড়ি মারা গিয়েছে। শুনে নিজের ভীষণ খারাপ লাগছিল। একটা মেয়ে বিয়ের পরে গিয়ে প্রথম দিন থেকে তাকে অশৌচ পালন করতে হবে। আবার অনেক বাড়িতে বলে নতুন বউ আসা মাত্রই একটা মানুষ চলে গেলে এটাও অনেকেই অন্যরকম ভাবে। এটাই মনে মনে ভাবছিলাম গ্রামের মানুষ কি বলতে কি বলবে? এদিকে বোনের আবার প্রচন্ড মাথা গরম ।তবুও নিজেকে শান্ত করে রেখেছিল ।যে কারণে এত কিছু সেই মানুষটাই একদিন বাদেই চলে গেল। কিন্তু আমাদের যাওয়ার সেদিন একদমই উপায় ছিল না ।মা চিনে যেতে পারবে না। একা একা প্রথমবার কেউ মৃত্যু শোকের জন্য ছুটে যাবে এটা ভেবে অনেকে যায়নি।
আর আমাদের ওর ঠাকুমা শাশুড়ির সাথে কোনদিন দেখা-সাক্ষাৎ সেভাবে হয়নি। তাই আমাদের বাড়ি থেকে আমাদের তরফ থেকে কেউ যেতে পারেনি। আমি শুনেছিলাম ভোরবেলায় মারা গিয়েছে তাড়াতাড়ি ওনার শেষ যাত্রা সম্পূর্ণ করা হয়েছিল। কারণ সকলেই আগে জানত উনি আর এই পৃথিবীতে থাকবেন না। তাই সেই ভাবেই সকলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিল। বাড়ির কাছেই গঙ্গা তাই আমাদের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করেনি। আর আমরা যেতেও পারবো না এই ভেবেই খুব ভালোভাবেই ওদের শেষ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বোনের জন্য ভীষণ খারাপ লাগছিল। কারণ এক রাত যেতে না যেতেই বাড়িতে শোকের ছায়া। পনেরোটা দিন ওকেও ওদের সাথে সমস্ত নিয়ম কানুন পালন করতে হবে।
কোথায় নতুন বিয়ে হয়েছে বৌভাতের দিন অনেক রিচুয়াল্স পালন হবে। সেইসব না করে ওকেও সমাজের সাথে তালে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। কথায় বলে সব কিছু মেয়েদের ভাগ্য। যাইহোক সেদিনকে ভীষণ খারাপ লেগেছিল মানুষটা সকলকে ছেড়ে চলে গেল ।তবে ওনার শেষ ইচ্ছা সকলে রাখতে পেরেছিল এটাই সবথেকে ভালো লাগার বিষয় ।উনিও উনার নাত বউকে দেখে যেতে পেরেছেন। আসলে জন্ম মৃত্যু বিয়ে সব কিছু ভগবানই জানেন ।উনার নিয়তি ওইটুকুই নিয়ে ছিল। তাই নাত বউকে বউকে দেখে একদিন পরে পরলোক গমন করেছেন। ওনার আত্মার শান্তি কামনা করি।
আজ এখানেই শেষ করলাম ।আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


