নববর্ষের সন্ধ্যাবেলায় কাটানো সুন্দর মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা ,সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত বুধবার দিন ছিল বাংলা বছরের নববর্ষ। নববর্ষ উপলক্ষে দুপুরবেলার কিছু মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। আজকে তারপরের কিছু মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। নববর্ষের দিন দুপুর বেলাটা খুব মজা করেই কাটিয়েছিলাম। এরপর বিকেলবেলার দিকে গরমটা একটু কমলেও ঘরের ভিতরে কিন্তু প্রচণ্ড গরম লাগছিল। কারণ সারাদিনই ছিল প্রচন্ড রোদের তাপ ।বিকেলের পর একটু হালকা ঠান্ডা হাওয়া বইছিল।এদিকে আবার ঝড় বৃষ্টি হবারও কথা ছিল। তাই সহজেই বাইরে বেরোতে পারছিলাম না ।কিন্তু বাংলার নববর্ষের দিনে প্রত্যেক দোকানে হালখাতা করতে যেতে হয়। মানে সমস্ত দোকানে লক্ষ্মী গণেশ পুজো করে আর সারা বছর যারা কেনাকাটা করে তাদের মিষ্টিমুখ করানোর জন্য নিমন্তন্ন করে ।সমস্ত বাঙালিরা এই বিষয়টির সাথে যুক্ত। এটি একটি উৎসব আমাদের কাছে।
আমি প্রথমে যাওয়ার লোক পাচ্ছিলাম না ।এরপর যখন শুনলাম ঈশা ,ঈশান দুজনেই যাবে। তখন আমিও ওদের সাথে যোগ দিয়েছিলাম। বিকেলবেলাতে নতুন একটা জামা পড়ে তিন জনে সেজেগুজে বেরিয়ে পড়েছিলাম হালখাতা করবার জন্য। গত বছর হালখাতা করতে গিয়ে দেখেছিলাম হাই স্ট্রিট এ প্রচন্ড ভিড় হয়। এ বছরেও তার অন্যথা হয়নি। প্রথমে চলে গিয়েছিলাম আগমনী বাসন্তী নামে একটি বড় শপিংমলে ।সেখানে কয়েকটা জিনিস কেনবার ছিল ঈশার ।সেগুলো কিনে নিয়েছিল। এরপর চলে গিয়েছিলাম গয়নার দোকানে। আমাদের কৃষ্ণনগরে সোনাপট্টি নামে ওই জায়গাতে প্রচুর সোনার দোকান রয়েছে ।তাই সমস্ত দোকান নববর্ষের দিনে সেজে উঠেছিল। প্রত্যেকটা দোকানে প্রচন্ড ভিড় পা ফেলার একেবারে উপায় ছিল না।এমনকি ওই রাস্তাতে মানুষ যাতায়াত করতে ভীষণ অসুবিধায় পড়েছিল। এদিকে প্রশাসন থেকে প্রচুর পুলিশের ব্যবস্থা করেছিল। যাতে সবাই খুব ভালোভাবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে যাতায়াত করতে পারে ।এমনকি কারোর কোন অসুবিধা না হয়। আমি অবশ্য ঈশার সাথে গয়নার দোকানে গিয়েছিলাম ।কারণ আমি নিজে কৃষ্ণনগর থেকে খুব একটা গয়না কিনিনা। আমার বেশিরভাগ গয়না আমার শাশুড়ি মা করে এনে দেয়।
গরমের মধ্যে প্রত্যেকটা দোকানে আইসক্রিমের স্টল দেওয়া ছিল। দোকানে যাওয়া মাত্রই প্রত্যেকের হাতে একটা করে আইসক্রিম ধরিয়ে দিয়েছিল ।আমরাও দোকানে বাইরে দাঁড়িয়ে আইসক্রিম খাচ্ছিলাম। কারণ দোকানের ভিতরে এত ভিড় সকলে মিলে ঢোকার উপায় ছিল না। পরপর দুটো সোনার দোকানে যাওয়ার পর চলে গিয়েছিলাম জামাকাপড়ের দোকানে। যেখানে বারো মাস শাড়ি কেনা হয়। দোকানটির নাম যশরেশ্বরী বস্ত্রালয়। দোকানটির নাম হয়তো অনেক পোস্টেই আপনারা শুনে থাকবেন। সেখানে তো পা ফেলার উপায় ছিল না বললেই চলে। সিঁড়ির একদিক দিয়ে মানুষ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে উঠছে তো একদিক দিয়ে লাইন দিয়ে নামছে। ঠিক মনে হচ্ছিল জগদ্ধাত্রী পূজার সময়। হয়তো জগদ্ধাত্রী পুজোতে এত ভিড় ঠেলে ঠাকুরের মণ্ডপে পৌঁছাতে হয়। প্রথমে ভিড় দেখে ভাবছিলাম ঘুরে চলে আসবো।
এরকম করে বেশ কয়েকটি দোকান থেকে আমাদের নববর্ষের মিষ্টির প্যাকেট নেওয়া হয়ে গিয়েছিল। তবুও বেশ কয়েকটি দোকান নেওয়া বাকি ছিল। আমার হাতে এত মিষ্টি প্যাকেট ছিল মনে হচ্ছিল যেন আমি প্রত্যেকটা দোকান থেকে মিষ্টির প্যাকেট সংগ্রহ করেছি ।তাই আমার সাথে যারা ছিল সকলেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করছিল। গরমের মধ্যে ভিড় ঠেলে আমরা আর পারছিলাম না ।তাই সকলের মিলে আবারো বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। তবে এ বছরে সকলে মিলে হালখাতা করতে গিয়ে ভীষণ মজা হয়েছিল। আসলে কোন জায়গাতে একা গিয়ে যতটা না মজা হয় সকলের সাথে গিয়ে সেই মজা আরও দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


Curated by: @ahsansharif
Thank you 🙏