ক্যাফে -ফড়িং
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব মে মাসে ৩ তারিখে কাটানো সুন্দর সন্ধ্যা। উপরের টাইটেল দেখে আপনারা হয়তো বুঝেই গেছেন যে আজকে কি বিষয়ে আলোচনা করব। আমাদের কৃষ্ণনগরে নতুন নতুন বেশ কয়েকটি ক্যাফে উদ্বোধন হয়েছে। মাঝেমধ্যে পুরোনো কয়েকটি ক্যাফে তে যাওয়া হয়। তবে নতুন ক্যাফে গুলোতে এখনও যাওয়া হয়ে ওঠেনি।তবে এখানকার বেশিরভাগ ক্যাফে গুলোর নামই কীটপতঙ্গের নাম দিয়ে দেওয়া হয়েছে। নামকরণ গুলো বেশ ভালো লাগে। এখানে বেশ কিছু বছর আগে জোনাকি নামে একটি ক্যাফে উদ্বোধন হয়েছিল। ওখানে জিমের ব্যবস্থাও আছে । ওখানে মোটামুটি ভালোই ভিড় হয়।তবে ওখানে বেশ কিছুদিন আগে যাওয়া হয়েছিল ।বেশ কয়েকবার ওখানে গিয়ে সময়ও কাটিয়েছিলাম।ওই ক্যাফে টি বেশ সুন্দর ।কিন্তু ফোনে বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছিলাম আমাদের কাছাকাছি একটা ফড়িং বলে একটি ক্যাফে উদ্বোধন হয়েছে।
এখন তো যা কিছু নতুন ওপেনিং হয় সবকিছুই ফোনে ভিডিওর মাধ্যমে দেখা যায়। তবে ক্যাফেটি দেখে ভীষণ ভালো লেগেছিল। তবে আমায় নিয়ে যাওয়ার মতো তেমন কেউ নেই বলে যেতেই হবে এমন কোন ব্যাপার নেই। মাঝে মাঝেই ঈশা যখন জোড় করে তখন ওর সাথেই যাওয়া হয়। আমার বড় আবার এই সব কিছু পছন্দ করেন না। সে দিনকে ঈশা বায়না বললো চলো বৌদি তোমাকে ফড়িং নামে একটি ক্যাফে খুলেছে ওখানেই তোমাকে নিয়ে যাব। সাথে আমার বন্ধু যাবে। আমি তো শুনে রাজি হয়ে গিয়েছিলাম ।কারণ নতুন জায়গাতে যেতে কার না ভালো লাগে। ঈশা বাড়ি থেকেই একটা টোটো বুক করেছিল। এখন কৃষ্ণনগরের চালু হয়ে গিয়েছে, বাড়িতে বসে মোটরসাইকেল কিংবা টোটো বুক করলে কয়েক মিনিটের মধ্যে বাড়িতে চলে আসে ।
তবে উনি চিনতে পারবে কি পারবে না তাই আমি আর ঈশা দুজনে এগিয়ে গিয়েছিলাম আমাদের বাড়ির দিকে টোটো ঢুকছিল ওখান থেকেই আমি আর ঈশা দুজনে টোটো তে উঠে পৌঁছে গিয়েছিলাম ৫ মিনিটের মধ্যে ফড়িং ক্যাফের সামনে। আমাদের আগেই ঈশার বন্ধু ওখানে এসে অপেক্ষা করছিল। যাই হোক তিনজনে মিলে ঢুকে পড়েছিলাম ক্যাফেতে। খুবই ছোট একটা পুরনো দিনের বাড়ি আর সাজিয়ে গুছিয়ে একটা ক্যাফে তৈরি করা হয়েছে। তবে যে জিনিসটা নতুন খোলে সেখানে প্রচন্ড ভীষণ ভিড় হয়। মানুষের আগ্রহ হয় সেটা দেখার জন্য। আর যদি বাজেটের মধ্যে খাবার হয় তাহলে আরো ভিড় হয়। এটি হলো আমাদের খুবই কাছে ছোট ছোট মেয়েরা পড়ার শেষে সকলে দেখছি ওখানে ঢুকে গল্প করছে। আর বিভিন্ন রকমের খাবার খাওয়া দাওয়া করছে।
বেশিরভাগ মেয়েদের ওখানে ভিড় আছে। তাই ঈশার বন্ধু ঢুকতে একটু লজ্জা পাচ্ছিল। ছোট ছোট বাচ্চা বাচ্চা মেয়েরা পড়ার শেষে বান্ধবীদের নিয়ে সকলের জমিয়ে আড্ডা বসে বসে একটু খাওয়া দাওয়া করছিল আর গল্প ছবি তোলা এগুলো মিলিয়ে বসেছিল ওদের একটা আসর। যাই হোক ওখানে যাওয়ার পর পছন্দ মত খাবার অর্ডার দেওয়া হয়েছিল । ওখানে খাবার রেডি হয়ে গেলে নাম ধরে ডাকা হয়। সিস্টেমটা বেশ ভালো যে খাবার গুলো রেডি হয়ে যাচ্ছে সেই নাম ধরে ধরে ডাকছিল। যাই হোক আমাদের বেশ কয়েকটি খাবার অর্ডার দেওয়া হয়েছিল ।সেগুলো প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর দেওয়া হয়েছিল ।আমাদেরও খেয়ে ভীষণ ভালো লেগেছিল। বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটিয়ে ওখানে খুব ভালো লেগেছিল।
এরপর খাবারের বিল মিটিয়ে আমরা তিনজনে আবার বেরিয়ে পড়েছিলাম ।বেরোনোর পর বাইরে থেকে আবারো তিনজন মিলে আইসক্রিম খেয়ে নিয়েছিলাম। কারণ গরমে সবার প্রথমে আইসক্রিমটা খেতে বেশি ভালো লাগে। এরপর আবারো টোটোর করে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলাম এই ছিল সেদিন সুন্দর মুহূর্ত। ছবি গুলো ঈশার ফোন থেকে নেওয়া।
আজ এইখানেই শেষ করলাম ।আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।



