জগন্নাথ মন্দির দর্শন - প্রথম পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা ।আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আগামীকাল আমি আপনাদের বলেছিলাম আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করব জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দেওয়ার মুহূর্তগুলো তাই আজ সেটা নিয়েই লিখছি।
সেদিন সোমবার ১১ই মে সকালে উঠেছি ছয়টা নাগাদ ।ঘুম থেকে উঠতে হয়েছে তাড়াতাড়ি। অনেক সকাল বলছি এ কারণেই কারণ ,ঘুরতে গিয়েও এত সকালে ওঠা এটাই। তার ওপর দুই রাত ধরে ঠিক ভাবে ঘুম নেই।
জগন্নাথ মন্দিরের পূজো দেয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে একটা ভয়ানক বিষয়। এই নিয়ে আমি পোস্টে অনেক কিছু লিখতে চাই । প্রথমেই বলে রাখি ওড়িশা গভরমেন্ট থেকে কোরোনার সময় থেকেই কিছু নিয়ম জারি করেছে। আগে যেমন নিজে হাতে পুজো দেয়া যেত জগন্নাথ দেবের উদ্দেশ্যে ,সেটা এখন আর হয় না।
ওরা ওখানেই একটা ডোনেশনের জায়গা ,একটা অফিস খুলেছে ।যেখানে কিছু টাকা দিয়ে আমরা পুজো দিতে পারি এবং প্রসাদ নিতে পারি। আর শুধুমাত্র দর্শন করা যাবে, এ ছাড়া হাতে করে কোন কিছু নিয়ে গিয়ে পুজো দেয়া যাবে না। আর একদম জগন্নাথ দেবের সামনাসামনি যেটা যাওয়া যেত, তা থেকে একটু সামান্য পাঁচ হাত মতন দূরত্বে থেকে দেখতে পাওয়া যাবে ।
আমি এতটা অবগত ছিলাম না ।পরবর্তীতে সব কিছুই জানতে পেরেছি।বাবা বলেছিল একটা পান্ডাকে ধরা রয়েছে ,সেই সমস্ত ব্যবস্থা করবে। স্বাভাবিকভাবে তাকে টাকাও দিতে হচ্ছে। আমার মনে হয় যতদূর ,তাকে হাজার টাকা মতো দিতে হয়েছে।
আমরা যাওয়ার সাথে সাথে তখন বাজে সাড়ে সাতটা । সে আমাদের ওখান থেকে নিয়ে আলাদাভাবে পেছনের দিক দিয়ে যেখানে লাইন নেই, সে দিকে নিয়ে গেল এবং আমাদের জুতো, মোবাইল যে অফিসে রাখতে হয় ,সেখানে রেখে দিল। সাথেই ওনারই পরিচিত এক পুলিশকে দিয়ে পাশ করালো। তো সেই জায়গাতেই অনেকটা সময় সেভ হয়ে গেল ।না হলে যদি লাইন দিতাম ,পান্ডা না ধরে তাহলে হয়তো পুজোও দেয়া হতো না।
তারপর ওখান থেকে আমরা ঢুকে পড়লাম মন্দিরের ভেতরে। মন্দিরে ঢুকেই আমরা আগে প্রসাদের জায়গায় চলে গেলাম ।যেখানে ডোনেট করা যেতে পারে । ৬৫০ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ডোনেশনের ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রসাদের ব্যবস্থা রয়েছে। ওর মধ্যে ইনক্লুড থাকে ধজা ,মহাপ্রসাদ সবকিছু।
আমার বাবা একটু কনফিউজড ছিল। তো আমি বাবাকে বললাম ২২৫০ টাকার যে ডোনেশনের চার্জটা রয়েছে ,সেটাই নিতে। সেখানে আমাদের শুকনো প্রসাদ দেয়া হবে এবং সাথেই দেয়া হবে জগন্নাথ দেবের সকলের সুজিপ্রসাদটাও ।
তাই সেখানে ২২৫০ টাকা দেওয়ার পরে স্লিপ কাটা হয়ে যাওয়ার পরে ,আমরা চলে আসলাম মন্দিরের একটা সাইডে ।যেখান থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমি শুধুমাত্র মন্দিরের কারুকার্য গুলো দেখছিলাম ।এই এত বড় বড় পাথরের যে বিল্ডিং গুলো ,পুরনো যুগে শিল্পীরা বানিয়েছেন, তাদেরকে কি বলে সম্বোধন করব বুঝতে পারছিলাম না ।
সত্যি বলতে ভগবান এর আশীর্বাদ না থাকলে, এত বড় বড় মন্দির অসম্ভব ব্যাপার ,পাথর কেটে। যেহেতু আমাদের নিজেদের বিজনেস রয়েছে এ মূর্তির ,পাথর কাটতে কতটা সময় লাগে, খোদাই করতে কতটা সময় লাগে আমি জানি। আমাদেরও মেশিনে পাথর কাটা হয় না। আমাদের পেন্সিল কম্পাসের সাহায্যে পাথর কেটে কেটে খোদাই করে করে কাজ করা হয় ।তো একটা মূর্তি তৈরি করতেই আমাদের কারিগরদের অনেকটা সময় লেগে যায় ।
সেই জায়গায় এত বড় বড় মন্দির গুলো পাথরে নির্মিত এবং এত নিখুঁত কাজ। মানে এরকম জায়গা সত্যি দেখার মতন। ওই সময় ভারতীয় হিসেবে নিজের সত্যিই গর্ব হচ্ছিল। যেহেতু মন্দিরের ভেতরের দিকটাই কোনরকম ফোন এলাউ নেই তাই আমি ছবি তুলতে পারিনি। যা তুলেছি, সব বাইরে থেকে।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি বাকি কথা পরের দিন শেয়ার করব।



