হস্ত শিল্প মেলা - শেষ পর্ব

in Incredible India9 days ago

নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। গত পোস্টে হস্ত শিল্প মেলার একটি পর্ব শেয়ার করেছিলাম।আজ শেষ পর্ব শেয়ার করছি।প্রথমেই ঢুকিয়ে দেখি একটা সুন্দর টেবিল ল্যাম্পের দোকান বিভিন্ন ধরনের আঁকিবুকি করা এবং বিভিন্ন স্টাইলের টেবিল ল্যাম্প সেখানে পাওয়া যাচ্ছে।

1000437123.jpg

তারপরে দেখলাম কাঠের তৈরি বিভিন্ন রকম জিনিস বাটি চামচ থেকে শুরু করে চাবির রিং এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ঘরে সাজিয়ে রাখার জিনিস এই দোকানে পাওয়া যাচ্ছিল। কাঠের তৈরি হরিণের মাথাগুলো দেখতে সবথেকে বেশি ভালো লাগছিল।

1000437122.jpg

আরেকটু এগোতেই দেখলাম ছোট ছোট পুতুল কিন্তু একটু অন্যরকম মাটি দিয়ে তৈরি। যে মাটিটা ইনস্ট্যান্ট শক্ত হয়ে যায় সেই মাটির কথা বলছি। আজকাল অনলাইনে একটা মাটি পাওয়া যায় বাচ্চারা সেই মাটি দিয়ে খেলেও থাকে। সেই মাটির প্রজাতি অনেকটা এরকম টাইপেরই। তবে এটাকে যত সম্ভব এমফিল বলে। এর সাথেও পাথরের দোকান ছিল। সেখানে বিভিন্ন ধরনের পাথরের ছোট ছোট জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছিল ।

1000437121.jpg

তারপর সব থেকে ইন্টারেস্টিং জায়গা লাগলো যেখানে কিভাবে সুতো তৈরি হয় সেই প্রসেসটা দেখানো হয়েছে। একটা দিকে খাদির সেকশন ছিল। আরেকটা দিকে ছিল পোকা থেকে কিভাবে সুতোর তৈরি করা হয়ে থাকে সেটা। রেশম কিট থেকে সুতো তৈরির এই বিষয়টা ওরা ওখানে নিয়ে এসে খুবই ভালো করেছে।

1000437095.jpg

এতে বাচ্চাদের একটা শেখার জায়গা তৈরি হয়েছে।এরকম সুতো তৈরির একটা ভিডিও আমি ইউটিউবেও দেখেছি। যেখানে সিল্কের সুতো তৈরির প্রসেস দেখানো হচ্ছিল। যাই হোক রেশম তৈরীর প্রসেস গুলো দেখতে বেশ ভালো লাগছিল।

1000437119.jpg

কিছুটা ঘুরতে ঘুরতে, চলে গেলাম দেখতে খাবার জায়গাটা। হস্তশিল্প মেলা আর খাবার জায়গাটা এবার যেন একটু বেশি সুন্দর করে সাজিয়েছে। মাঝখানে একটা বিশাল বড় বট গাছের মতন তৈরি করেছে রঙিন বাঁশ আর খড়কুটো দিয়ে। তার চারদিকে চেয়ার টেবিল পাতা।

1000437120.jpg

আর সেটার চারিদিক জুড়ে বিভিন্ন রকমের খাবারের দোকান। খাবারের দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে মোমো র স্টল, ফুচকার স্টল, পাপরি চাট, এছাড়াও রয়েছে পিঠের স্টল। এছাড়াও আরো কিছু খাবারের দোকান ছিল । মোটামুটি ওখানে গেলে সবরকম খাবার পাওয়া যাবে।

1000437096.jpg

এছাড়াও মেলাতে ব্যাগের দোকান ছিল, ছিল কানের দুল আর বিভিন্ন জুয়েলারির দোকান। কোন জুয়েলারি মাটি দিয়ে তৈরি। সেটার আলাদা দোকান। কোনটা আবার অক্সিডাইস , এছাড়াও কাপড়ের জুয়েলারি ছিল। জুয়েলারির দোকান ভুরি ভুরি। এছাড়াও জামা কাপড় বিছানার চাদরের দোকান ছিল।

সাথে ছিল বিভিন্ন রকম বেতের তৈরি জিনিসপত্রের দোকান, কাঠ এবং পাটের দড়ি দিয়ে তৈরি অনেক ধরনের টেবিল চেয়ারের দোকান। তবে এই সেখানকার দাম গুলো শুনে মাথা উল্টে যাওয়ার মত।

মেলার মাঠে আর একটা আকর্ষণীয় জায়গা হল হজমির দোকান। আমলকি দিয়ে, আম দিয়ে, তেতুল দিয়ে, বিভিন্ন উপকরণ সহযোগে তৈরি বিভিন্ন রকম হজমি। যেগুলো অসাধারণ খেতে। একবার আমি মেলাতে গেলে ওগুলো তো কিনেই থাকি। মেলা ঘুরে শেষ করা যাবে না, এতটাই বড় মেলা। তবে হস্তশিল্প মেলায় যেতে আমার খুবই ভালো লাগে।

1000437093.jpg

মেলার একটি গেট দিয়ে ঢুকতে দৃশ্যটা যতটা সুন্দর ছিল যে গেট দিয়ে আমরা বেরিয়ে যাচ্ছি সেই গেট দিয়েও যাওয়ার সময় আমরা ভীষণ সন্তুষ্ট হয়েছি। কারণ মনীষীদের নিয়ে অনেক কিছু লেখা ছিল।

1000437094.jpg

তবে মেলা থেকে প্রচুর কিছু কিনেছি । বিশেষ করে শাড়ি কেনা হয়েছে। সেটাও আমার মায়ের পাল্লায় পড়ে। এছাড়াও কানের দুল কেনা হয়েছে। কানের দুল তিন জোড়া কিনেছি। পার্টনারের সাথে যেদিন কে গিয়েছিলাম সেদিনকে এক জোড়া কিনেছিলাম। মার সাথে গিয়ে দুই জোড়া কিনেছি। সব ছবি সহকারে পোস্টে শেয়ার করা থাকলো। আশা করছি আপনাদের সকলের আমার আজকের পোস্ট ভাল লেগেছে।। সকলে ভালো থাকুন।।