চাঁদনি রাত

in আমার বাংলা ব্লগ12 hours ago

27923.jpg

প্রতারকেরা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে; কারণ তারা বিশ্বাস ভাঙে। আর প্রতারিতরা জেগে থাকে; কারণ তারা বিশ্বাস করেছিল—এই ভেবে।

একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, এই পৃথিবীতে যারা প্রতারিত হয়েছে, তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনো সময় কাউকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল।

অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দৃঢ় বিশ্বাসেই ফাটল ধরে। সবাইকে কি বিশ্বাস করা যায়? প্রশ্নটা সত্যিই কঠিন। হয়তো অনেক সময় বিশ্বাস না করেও কোনো উপায় থাকে না। তাই বাধ্য হয়েই বিশ্বাসের হাতটা বাড়িয়ে দিতে হয়।

যারা সরল মনে বিশ্বাসের হাত প্রসারিত করে, তারাই একসময় না একসময় ধোঁকার শিকার হয়। এ সমাজে আর যাই হোক, ধোঁকাবাজ মানুষ চেনা ভীষণ কঠিন। এরা দেখতে মানুষের মতোই, শুধু ভেতরজুড়ে আঁকা থাকে প্রতারণার নীলনকশা।

এই যে মাঝরাতে জেগে আছি, একটা অদ্ভুত চিন্তা বারবার মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। মনে পড়ছে অতীতের কথাগুলো। কতজন কত কথা দিয়েছিল—সব কথা কি সবাই রেখেছে?

এসব ভাবলে খুব একটা এখন খারাপ লাগে না, তবে মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ইচ্ছে করে। ভাবি, সবার সঙ্গেই কি এমন হয়েছে, নাকি এমন ঘটনা শুধু আমার সঙ্গেই ঘটেছে?

যে বিশ্বাস রাখতে পারবে না, যে সম্পর্কে ফাটল ধরাবে, সে অহেতুক প্রতিশ্রুতি দেয় কেন? কেনইবা কাউকে মায়ার বন্ধনে জড়াতে চায়? কখনো কখনো এমন চাঁদনি রাতে এসব প্রশ্ন গভীরভাবে এসে জড়িয়ে ধরে আমাকে।

ভালো থাকুক প্রতারিত মানুষগুলো। আর যারা প্রতারণা করে, তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসুক। কারণ ভাঙা বিশ্বাসের ক্ষত অনেক সময় চোখে দেখা যায় না, অথচ তার ব্যথা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী।