থেমে যাইনি
মেডিকেল প্রফেশন ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই দীর্ঘ সময় লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, এখনও আছি। তবে আগের মতো সেই আয়ের স্বাচ্ছন্দ্য ও ধারাবাহিকতা আর নেই। মানসিক হতাশায় দিন দিন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। তারপরও কখনো চাইনি কারও কাছে হাত পাততে কিংবা নিজের মাথা নত করতে।
স্বামী স্ত্রী—দুজনেই ভেবেছি, নতুন করে হলেও জীবনটাকে আবার শুরু করব। যেহেতু মেডিকেল প্রফেশনে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই, আর লেখালেখিই ধ্যান-জ্ঞান, তাই বাড়তি আয়ের বিকল্প হিসেবে ঘরে বসেই কাপড়ের ব্যবসায় নিজেদের নিয়োজিত করেছি। এক্ষেত্রে গিন্নির ভূমিকা সত্যিই অপরিসীম।
বেশ কিছুদিন হলো ক্ষুদ্র পরিসরে নারীদের পোশাক নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি। পুরো ব্যবসার দায়িত্বই গিন্নি সামলায়। এখানেও প্রতিবন্ধকতা আছে, তবু নীতি-নৈতিকতা থেকে একচুলও সরে আসিনি।
জীবিকার জন্য মানুষ কত রকম যুদ্ধই না করে! সেই তুলনায় হয়তো আমাদের এই সংগ্রাম খুব বড় কিছু নয়। পথ কঠিন, বাধা আছে, বেগ পেতে হচ্ছে—তবু থেমে নেই। প্রতিদিনই কমবেশি কিছু বিক্রি হচ্ছে। এলাকার মানুষ আসছেন, পণ্য দেখছেন, আর বাড়ি থেকেই সংগ্রহ করে নিচ্ছেন।
বেঁচে থাকা সহজ, কিন্তু সৎ পথে বেঁচে থাকা সত্যিই কঠিন। তারপরও পথচলা থামেনি। দিন চলে যাচ্ছে—আপাতত, এটুকুই অনেক।
