দুর্ঘটনা
বৃষ্টির কারণে গত কয়েক দিন ধরে মোটরবাইক বের করতে পারিনি। অবশেষে বৃষ্টি কিছুটা কমতে শুরু করায় নিজের প্রয়োজনীয় কাজ ও বাজার করার উদ্দেশ্যে আজ বিকেলে দীর্ঘ কয়েক দিন পর মোটরবাইক নিয়ে বের হলাম।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এ যাত্রায় ভাগ্য সহায় হলো না। সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হতে হলো। দুর্ঘটনা সবসময়ই অনাকাঙ্ক্ষিত, তবে প্রতিটি দুর্ঘটনাই আমাদের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়।
স্থানীয় এলাকার কিছু মানুষের কর্মকাণ্ড দেখে হতাশ হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। রাস্তার ওপর অবাধে গরু-ছাগল ছেড়ে রাখা কিংবা রাস্তার ওপর খড় শুকানো যেন এখানে নিত্যদিনের ঘটনা। অথচ এসব কারণে মানুষের প্রাণহানি বা গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এ নিয়ে তাদের যেন কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই।
বাজারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে দূর থেকে দেখলাম, দুই-তিনটি গরু রাস্তার পাশ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই একটি গরু রাস্তার মাঝখানে চলে আসে। আমার মোটরবাইকের গতি তখন ঘণ্টায় প্রায় ৩৫–৪০ কিলোমিটার ছিল। সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক করলেও সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হলো না। ফলাফল— সড়ক দুর্ঘটনা।
শারীরিকভাবে বেশ আঘাত পেয়েছি। বিশেষ করে বাম হাত ও বাম পা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই এগিয়ে এসে আমাকে মানসিকভাবে সাহস ও সহযোগিতা দিয়েছেন, যার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে দুঃখের বিষয়, উপস্থিত কেউই গরুগুলোর মালিককে একবারের জন্যও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার কথা বলেননি।
এটাই আমাদের প্রান্তিক অঞ্চলের এক নির্মম বাস্তবতা—দুর্ঘটনার পর সহানুভূতি দেখানোর মানুষ অনেক, কিন্তু দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করার মানুষ খুবই কম।
