সমসাময়িক ভাবনাচিন্তা।
আচ্ছা, গতদিন যদি একদম না-ফেরার দেশে চলে যেতাম, তাহলে কেমন হতো? প্রশ্নটা বেশ জটিল। তবে বাস্তবতা এটাই— একদিন সবাইকেই এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে; শুধু খানিকটা সময় আগে আর পরে।
হয়তো এতক্ষণে পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসত। স্থানীয় পরিচিতজনের সোশ্যাল মিডিয়ার টাইমলাইনে কোথাও কোথাও আমাকে নিয়ে দু-চার কলম লেখা হতো। কেউ হয়তো অভিমান-অভিযোগ উজাড় করে দিত, আবার কোথাও থেকে উচ্চারিত হতো— "আপদ বিদায় হয়েছে।"
সবার মন জয় করতে পারিনি— এ যেমন সত্য, তার থেকেও অপ্রিয় সত্য হলো, বাইরে থেকে যতটা স্নেহ, ভালোবাসা আর আদিখ্যেতা মানুষ দেখায়, তার হয়তো উল্টো চিত্রটাই পরিবারের সদস্যদের মুহূর্তের মধ্যেই দেখতে হতো।
চলে তো সবাইকেই যেতে হবে— এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কেউ শ্মশানে, কেউ কবরে। মূলত বেঁচে থাকাটাই আশ্চর্যের বিষয়। প্রাণবায়ু যতক্ষণ আছে, ততক্ষণ জ্ঞাতসারে মনুষ্যত্বের চর্চা করুন। কারণ চলে গেলে কিন্তু চলেই গেলেন; তখন আর নিজেকে শুধরে নেওয়ার, কিংবা মনুষ্যত্ব চর্চার কোনো সুযোগ থাকবে না।
গতকালের সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাটি আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। মনে হয়েছে, জীবনটা যেন ফুড়ুৎ করে উড়ে যেতে গিয়েও আবার ফিরে এসেছে।
কারও প্রতি তেমন কোনো অভিমান নেই। যারা আমার প্রতি নিষ্ঠুর হয়েছে, কিংবা কুটচালে প্রতিনিয়ত আমার বা আমার পরিবারের ক্ষতি চেয়েছে, তাদের প্রতিও মন সবসময় ক্ষমার দৃষ্টিতেই তাকাতে চায়।
এটাও সত্য, ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সেখানে তো আমি রক্ত-মাংসের একজন মানুষ। হয়তো আমার ভুল একটু বেশিই হয়েছে। ক্ষমা করবেন কি করবেন না, সেটি সম্পূর্ণ আপনাদের ব্যক্তিগত বিষয়।
কেননা চাঁচাছোলা কথার স্বাদ সবাই গ্রহণ করতে পারে না। স্বাধীনচেতা স্বভাবের মানুষ বলেই হয়তো ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসের পথে হাঁটতে শিখিনি।
তবে সরলতার সুযোগ নিয়ে যারা সূক্ষ্ম কৌশলে আমার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন, তাদের কাছে শুধু এতোটুকুই অনুরোধ— দুর্ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছি। অন্তত আমার পাওনা অর্থটুকু আমাকে ফিরিয়ে দিন, যাতে আমি কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারি।
দিনশেষে আমার ছোট্ট নিষ্পাপ বাচ্চাটি আমার জন্য ব্যাকুল হয়ে পথ চেয়ে থাকে। আমি ভিক্ষা চাইছি না; আমার কাছ থেকে নেওয়া অর্থই, যথাযথ সম্মানের সঙ্গে ফেরত চাইছি।
কারণ মৃত্যুর সন্নিকট থেকে ফিরে আসা এই জীবনটাকে এবার একটু ভিন্নভাবে, একটু বেশি যত্নে আগলে রাখতে চাই.....!!
