স্বপ্নের ঠিকানা ( পর্ব ৫ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে 'স্বপ্নের ঠিকানা' গল্পের পঞ্চম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর সেখানে গিয়ে অর্ণব একটা কোণে বসে পড়ে এবং তার ব্যাগ থেকে কিছু কাগজ, পেন্সিল আর রং বের করে। কিন্তু তার হাতটা কাঁপছে, সে ভাবছে- যদি কেউ না দেখে? যদি কেউ পছন্দ না করে? একটা মনের মধ্যে ভয় উৎপন্ন হতে লাগে তার। তার পাশ দিয়ে এক আর্টিস্ট হেসে বলল- নতুন নাকি? অর্ণব মাথা নাড়ে। এরপর লোকটা বলল- ভয় পেলে চলবে না। এখানে দাঁড়াতে হলে নিজের কাজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়। এই কথাটা যেন অর্ণবের ভেতরে একটা শক্তি জাগিয়ে তোলে। সে ধীরে ধীরে আঁকা শুরু করে। একটা ছোট্ট মেয়ের ছবি- চোখে স্বপ্ন, হাতে একটা বেলুন।
মেয়েটা যেন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন সে উড়তে চায়। এই ছবিটা আঁকতে আঁকতেই অর্ণব নিজের গল্পটাই যেন আঁকছে। এইভাবে সময় কেটে যায়, কিন্তু সে থামে না। এরপর ধীরে ধীরে কিছু মানুষ তার চারপাশে দাঁড়াতে শুরু করে। কেউ চুপচাপ দেখছে, কেউ আবার ফিসফিস করে বলছে- ভালোই তো আঁকছে! নতুন মনে হচ্ছে…। অর্ণবের বুক ধড়ফড় করতে থাকে, আসলে নতুন জায়গায় মানুষের ভিড়ে একটু ভয় কাজ করাটা স্বাভাবিক বিষয়। যাইহোক, এই প্রথমবার মানুষ তার কাজ দেখতে থাকে। ছবিটা শেষ হওয়ার পর, এক ভদ্রমহিলা এগিয়ে এসে বলল- এই ছবিটা কত? অর্ণব শুনে থমকে যায়। কারণ সে কখনো ভাবেনি যে, এই প্রশ্নটা এত তাড়াতাড়ি আসবে।
সে একটু দ্বিধা করে বলল- আপনি যা ঠিক মনে করেন তাই দেবেন। ভদ্র মহিলা হেসে একটা টাকা এগিয়ে দিলেন। অর্ণব সেই টাকা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। এটা শুধু টাকা নয়, এটা তার প্রথম স্বীকৃতি। আবেগে তার চোখে জল চলে আসে। সে মনে মনে বলে- আমি পারছি, সত্যিই পারছি। এইভাবে তার ভেতরের ভয়, সন্দেহ- সব যেন ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। আর এইভাবে দিনটা তার কেটে যায়। অর্ণব আরও কয়েকটা ছবি আঁকে। এর মধ্যে কিছু বিক্রি হয়, কিছু হয় না।কিন্তু সে হাল ছাড়ে না, কারণ সে বুঝে গেছে এই পথটাই তার জন্য উপযুক্ত। রাত নামলে সে আবার সেই পার্কে ফিরে আসে। কারণ আজও তার নিজের কোনো ঘর নেই। কিন্তু তার হাতে আছে কিছু টাকা। আর তার থেকেও বড়ো বিষয় হলো, তার মনে আছে আত্মবিশ্বাস।
সে আকাশের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলে- আজ আমি এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। এই একটা দিনে অর্ণব শিখতে পারলো যে- শুরুটা ছোট হলেও, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে, পথ নিজেই তৈরি হয়। সে জানে আগামী দিনগুলো আরও কঠিন হবে। কিন্তু এখন সে প্রস্তুত। কারণ তার মনে আছে দৃঢ় বিশ্বাস আর সংকল্প। কারণ সে শুধু বাঁচতে চায় না, সে নিজের স্বপ্নকে বাঁচাতে চায়। পরেরদিন সকালটা অন্যরকম লাগে অর্ণবের কাছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ তার চোখে একটুখানি আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক। পার্কের বেঞ্চে বসে থাকা সেই ছেলেটা যেন একটু বদলে গেছে। কারণ এখন সে জানে যে, সে নিজেই কিছু করতে পারে। অর্ণব আজও খুব ভোরে উঠে পড়ে। শহরের রাস্তাগুলো তখনও পুরোপুরি ভিড়ে ভরে ওঠেনি। আকাশে হালকা মেঘ, আর বাতাসে এক ধরনের সতেজতা।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





