নীল চিঠির প্রতীক্ষা ( পর্ব ৭ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "নীল চিঠির প্রতীক্ষা" গল্পের সপ্তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো এরপরে মেয়েটা মাথা নাড়ল এবং বললো এক দিদি দিতে বলেছে। এরপর জিজ্ঞাসা করলো- কোন আপু?মেয়েটা বাইরে আঙুল দেখাল, কিন্তু বাইরে গিয়ে অয়ন কাউকে দেখতে পেল না, রাস্তা পুরো ফাঁকা।শুধু বাইরে বাতাস বইছে। এরপর অয়ন দ্রুত ফিরে এসে বইটা খুলল। বইয়ের ভেতরে একটা ছোট কাগজ এবং সেখানে লেখা- সব উত্তর একসঙ্গে পেলে গল্প শেষ হয়ে যায়। অয়নের শরীর কাঁপতে লাগল। আর এটাই যে নীলাই, সে নিশ্চিত। কিন্তু কেন সে লুকিয়ে আছে? কেন সামনে আসছে না?সেই প্রশ্নগুলো আরও গভীর হতে লাগল। এরপর বিকেলের দিকে অয়ন মধু কাকার সঙ্গে দেখা করতে গেল।
বৃদ্ধ লোকটা উঠোনে বসে রোদ পোহাচ্ছিলেন।অয়ন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল- কাকা, যদি কোনো মানুষ হঠাৎ হারিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসে, তাহলে কি আগের মতো সব ঠিক হয়ে যায়?মধু কাকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল- মানুষ ফিরে আসতে পারে, কিন্তু সময় কখনও ফিরে আসে না।অয়ন নিচের দিকে তাকিয়ে বলল- তবুও কি নতুন করে শুরু করা যায়? বৃদ্ধ মানুষটা একটু হাসল এবং বললো- যদি মন সত্যি চায়, তাহলে সবকিছু পাওয়া যায়। তবে কিছু ক্ষত থাকে, যেগুলো কখনও পুরো সারে না। এরপর অয়ন আর কিছু বলল না। তার মনে হচ্ছিল, নীলার ভেতরেও হয়তো এমন কোনো ক্ষত আছে, যেটা সে কাউকে দেখাতে চায় না। রাত নামার পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল। জানালার বাইরে তখন পূর্ণিমার আলো পড়ছিল।
অয়ন টেবিলে বসে নীলার চিঠিগুলো আবার পড়ছিল। হঠাৎ তার চোখে একটা বিষয় ধরা পড়ল। অর্থাৎ দ্বিতীয় চিঠির শেষ লাইনে খুব ছোট করে একটা ঠিকানার অংশ লেখা ছিল- কলেজ রোড, শান্তিনগর…বাকিটা অস্পষ্ট। অয়ন কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল এবং তার বুকের মধ্যে হঠাৎ ঝড় উঠল- এটাই কি নীলার ঠিকানা? সে কি ইচ্ছে করেই এই সূত্র রেখে গেছে? নাকি এটা শুধুই ভুল?অয়ন তখন জানালার বাইরে তাকাল এবং দেখলো- দূরের আকাশে চাঁদ ভাসছে। আর বহুদিন পর প্রথমবার তার মনে হলো- হয়তো এবার অপেক্ষার শেষের দিকে সে একটু একটু করে এগোচ্ছে…। কিছু পথ শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য নয়, কিছু পথ মানুষকে তার হারিয়ে যাওয়া অনুভূতির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
সেই রাতটা অয়ন প্রায় নির্ঘুম কাটাল এবং টেবিলের ওপর রাখা চিঠিটা আর সেই অস্পষ্ট ঠিকানার অংশ তার মাথার মধ্যে বারবার ঘুরছিল।কলেজ রোড, শান্তিনগর…শান্তিনগর। নামটা তার খুব পরিচিত নয়, কাছাকাছি কোনো শহরের নামও নয়। তবুও অয়নের মনে হচ্ছিল, এই ছোট্ট সূত্রটাই হয়তো তাকে নীলার কাছে পৌঁছে দিতে পারে। এতদিন সে শুধু অপেক্ষা করেছে, কিন্তু এবার প্রথমবার তার মনে হলো, হয়তো খুঁজে বের করার সময় এসেছে। ভোর হওয়ার আগেই অয়ন উঠে পড়ল, বাইরে তখনও পুরো আলো ফোটেনি।আকাশে ধূসর মেঘের মতো কুয়াশা ভাসছিল। সে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। তখন তার ভেতরে দুটো অনুভূতি একসঙ্গে লড়াই করছিল- একদিকে ভয়, অন্যদিকে আশা।যদি সত্যিই নীলাকে খুঁজে পায়?.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





