অস্বীকার
নমস্কার বন্ধুরা,
সময়ের পালাবদলে একটা প্রশ্ন থেকে যায়,আমরা আসলেই কি ঠিক ছিএলাম?আজকে এই ব্যস্ততম জীবনে দাঁড়িয়ে ফেরার তো আসলেই কোনো পথ নেই তবুও ভাবনারা আসে।
প্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে
মানুষ প্রথমে আকাশ দেখে না—
সে দেখে বাজারের দাম,
শেষ ট্রেনের সময়,
শিশুর জ্বর,
আর ব্যাংক থেকে আসা একটি বার্তা।
পৃথিবী ভেঙে পড়ারও
নিজস্ব কোনো নাটকীয়তা নেই;
সবকিছু ধীরে ধীরে ঘটে—
নদী পথ ভুলে যায়,
গাছের ছায়া ছোট হয়,
শহর নিজের ধোঁয়ায়
নিজেকেই চিনতে পারে না।
দূরে সাইরেন বাজে,
কেউ জানালা বন্ধ করে,
কেউ ছবি তোলে,
কেউ বলে—
এমন তো আগেও হয়েছে।
প্রলয়ের আগে
মানুষের সবচেয়ে বড় অভ্যাস
হয়তো অস্বীকার;
আগুনকে আলো বলা,
ধসকে উন্নয়ন,
আর নীরবতাকে শান্তি।
সমুদ্র তখন
শহরের দরজায় এসে দাঁড়ায়—
অতিথির মতো নয়,
বরং বহুদিনের পাওনাদার;
তার হাতে কোনো কাগজ নেই,
তবু সমস্ত হিসাব নির্ভুল।
পাখিরা দিক বদলায়,
কুকুরেরা রাতভর ডাকে,
পুরোনো বাড়ির দেয়ালে
অজানা ফাটল জন্মায়;
শুধু সভাকক্ষে
পরবর্তী বছরের পরিকল্পনা
অবিকল চলতে থাকে।
প্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে
একজন মানুষ
আরেকজনের হাত ধরে—
এই দৃশ্যটি খুব ছোট,
তবু পৃথিবীর সমস্ত ধ্বংসের চেয়ে
অদ্ভুতভাবে বড়।
কারণ শেষ মুহূর্তেও
মানুষ বাঁচতে চায় শুধু নিজের জন্য নয়;
একটি নাম ডাকে,
একটি মুখ খোঁজে,
একটি শরীরকে আগলে রাখে
নিজের ভয় ভুলে।
যদি সব সত্যিই শেষ হয়ে যায়,
তবু কোথাও হয়তো
একটি বীজ মাটির নিচে
অন্ধকার সহ্য করে থাকবে;
কোনো ভাঙা বাড়ির পাশে
একটি শিশুর আঁকা সূর্য
ধুলোয় ঢাকা পড়েও রয়ে যাবে।
প্রলয় তাই শুধু শেষ নয়—
এ আমাদের নির্মম আয়না,
যেখানে স্পষ্ট দেখা যায়
কী হারাতে বসেছি,
কাকে বাঁচাইনি,
কতদিন ধরে নিজেদেরই বিরুদ্ধে
আমরা সভ্যতা গড়েছি।
দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে
শেষবার যদি ফিরে তাকাই,
হয়তো বুঝব—
পৃথিবী কখনো
আমাদের সম্পত্তি ছিল না;
আমরাই ছিলাম
তার অস্থায়ী অতিথি,
অথচ বিদায়ের আগে
ঘরটিই জ্বালিয়ে দিয়েছি।
VOTE @bangla.witness as witness

OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |



