সময়ের অদ্ভুত উচ্চাকাঙ্ক্ষা
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। হৃদয়ের চঞ্চলতা নিয়ে প্রকৃতির নিদারুণ পরিবর্তন উপভোগ্য রাখার চেষ্টা করছি। যদিও মাঝে মাঝে শৈশবের স্মৃতিগুলো সামনে চলে আসে এবং মনে হয় পুনরায় আবার সেই দিনগুলোর মতো কিশোর হয়ে যাই। কতটা দারুণ ও রঙিন সময় ছিলো, সত্যি এই বয়সে এসেও আমরা শৈশবকে ভুলতে পারছি। আর ভুলতে পারবোই বা কিভাবে? তখন চারপাশের প্রকৃতির যেমন সুন্দর ছিলো, ঠিক তেমনি আমাদের মাঝেও দারুণ এক চঞ্চলতা জড়িয়ে ছিলো।
আজকাল কোথায় সেই চঞ্চলতা আর কোথায় সেই আবেগের স্পন্দন। না আছে সুন্দর প্রকৃতি, না আছে সুন্দর সামাজিক রীতি, না আছে পরিবারের মাঝে সুন্দর পারিবারিক বন্ধন। একটু চিন্তা করে দেখুন, সময়ের সাথে সাথে আমাদের মাঝে, আমাদের সমাজে এবং সম্পর্কের মাঝে কতটা পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। এখন আর সেই সম্পর্কগুলো তৈরী হচ্ছে না, জানা অজানা মানুষগুলোর সাথে আবেগের সংযোগ তৈরী হচ্ছে না, যার কারণে পরস্পর পরস্পরে যে ভালোবাসা কিংবা এক ধরণের টান তৈরী হবে সেটা হচ্ছে না।
আচ্ছা স্কুল জীবন না হয় বাদ দিলাম, বিকেলে মাঠে গিয়ে যাদের সাথে খেলাধুলা করেছি, যাদেরকে সহযোগি হিসেবে বিবেচনা করেছি, তাদের কাউকে আমরা চিনতাম? অথচ খেলাধুলার সাথে সাথে তাদের সাথেও একটা সুন্দর সম্পর্ক তৈরী হয়ে যেতো আমাদের। তাদের পরিবারের সাথেও একটা দারুণ সখ্যতা গড়ে উঠতে আমাদের। আজ কি সেটা কল্পনা করা যায়? বর্তমান প্রজন্ম কি সেটা সৃষ্টি করতে পারবে? কোন সম্ভাবনা কি আদৌ আছে? আমার দৃষ্টিভঙ্গি বলে এগুলো এখন একদমই অসম্ভব কিছু।
বর্তমান প্রজন্ম সেখানে যাবে কিভাবে? তাদের কল্পনায়ও সেগুলো নেই। কারণ যেখানে পরিবারের সদস্যদের তারা মানিয়ে নিতে পারে না, চাচাতো ভাই কিংবা খালাতো ভাইতো দূরের কথা আপন ভাই-বোনের সাথেও তারা মানিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায় অনেক কিছু কিংবা অনেক ক্ষেত্রে। কতটা পরিবর্তন এখানে এসেছে, কতটা দূরত্ব তৈরী হয়েছে তাদের পরস্পরে, সেগুলো চিন্তা করতে গেলে সত্যি ভীষণ খারাপ লাগে। আমাদের ভবিষ্যৎ সত্যি কোন দিকে যাচ্ছে?
হয়তো আরো দূরত্ব সৃষ্টি হবে, হয়তো তাদের মাঝে আরো মানসিকতা শূন্যতা তৈরী হবে। কিন্তু একটা সময় পর তারা ঠিক ফিরে আসবে আপনার নিজের শিকরের দিকে। এটা আমার বিশ্বাস এবং শুধু বিশ্বাস নয় প্রকৃতির অমোঘ নিয়মও বটে। কারণ প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী সবকিছুই তার মূলে ফিরে আসতে বাধ্য। তাই সময়ের সাথে সাথে আমরা যতই পাল্টে যাই না কেন? নিজের শিকড় হতে কখনো খুব বেশী সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন থাকতো পারবো না। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আছি।
Image taken from Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||




>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness

OR




