জীবনের গল্প || আবেগের উন্মাদনা
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। হৃদয়ের চঞ্চলতাগুলোকে আরো বেশী আগলে রেখে জীবনে গতিশীল থাকার চেষ্টা করছি। চারপাশের উত্তেজনা কিংবা অস্থিরতায় নিজেকে আরো বেশী সংযুক্ত রাখার চেষ্টা করছি। যেমন এই মুহুর্তে দারুণ এক উত্তেজনায় ভাসছে আমাদের চারপাশের পরিবেশ। আর সেটা হলো ফুটবল বিশ্বকাপ। দারুণ একটা আনন্দময় পরিবেশ যেমন চারপাশে বিড়াজ করছে, ঠিক তেমনি নিজ নিজ পছন্দের দলের প্ররোচনায়ও দারুণ ব্যাকুলতার সৃষ্টি হচ্ছে।
আসল ব্যাপারটা হলো বাঙালি জাতি দারুণ এক উৎসব মুখর জাতি, এটা নিয়ে আপাদত কারো কোন সন্দেহ নেই। কারণ যে কোন বিষয়ে কিংবা উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশী উত্তেজনা প্রকাশ করি আমরা বাঙালিরা, চাই সেটা যে কোন খেলা হোক, যে কোন বিদেশী সংস্কৃতি হোক কিংবা আয়োজন হোক, এখানে কার কিংবা কোন দেশে কিংবা কোন ধর্মের সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে না, বরং উৎসবটাকে আপন করে নিয়ে নিজেদের মতো করে সেটাকে উপভোগ্য করে তোলাই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য থাকে, যেমনটা এবারও হচ্ছে।
বাংলাদেশী হয়েও আমরা কেউ কেউ আর্জেটিসার ফ্যান হয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ নষ্ট করেও হলেও সাপোর্টার হিসেবে নিজেদের ধরে রাখা, যতটা সুন্দরভাবেই হোক না কেন, অন্যদের কাছে সেটাকে উপস্থাপন করা, প্রয়োজনে সেটা মারামারির পর্যায়েও চলে যেতে পারে। এইতো সেদিন এক ব্যক্তি দারুণ এক উদহারণ সৃষ্টি করেছেন, নিজেদের একমাত্র জমি বিক্রি করে দিলেন, তারপর দীর্ঘ দুইশত নাকি তারচেয়ে বেশী ফুটের ব্যানার তৈরী করে নিজেকে প্রকৃত ফুটপ্রেমি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
হ্যা, এমনটা প্রায় ঘটে থাকে আমাদের দেশে, বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে একটু বেশী। আরেকজন সাধারণ মানুষ, গাড়ি চালান মানে গণপরিবহন। ধার করে টাকা জোগাড় করেছেন, তারপর পছন্দের দেশের পতাকার রংয়ে পুরো গাড়ি রং করেছেন। এখানে খরচ কিংবা টাকা পয়সার কোন বিষয় থাকে না, বরং এখানে মূখ্য বিষয় হয়ে উঠে নিজেদের মনের আবেগ এবং পছন্দের দল কিংবা দেশের প্রতি ভালোবাসা। সেটা কতটা দূরে কিংবা কোন ধর্মের, সেই বিষয়টি কখনো এখানে সম্মুখে আসতে পারে না।
উন্মাদনা কিংবা উৎসব প্রিয় জাতি হিসেবে এমনটা হওয়াটাই হয়তো স্বাভাবিক, কিন্তু তবুও আমাদের সমাজ কিংবা পারিবাকির অবস্থা এখানে অবশ্যই বিবেচ্য হওয়া দরকার। না আমি এগুলোকে শুধু আবেগ কিংবা ভালোবাসা বলবো না বরং চূড়ান্ত পর্যায়ের পাগলামীও বলতে বাধ্য হবো। দেখুন, আপনার হয়তো একখন্ড জমি আছে, সেটার প্রকৃত হকদার শুধুমাত্র আপনি নিজে নন, বরং আপনার স্ত্রী কিংবা ছেলে সন্তানও সেটার হকদার। এখন আপনি আবেগ কিংবা ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে তাদের হক নষ্ট করছেন না? চিন্তা করে দেখুন বিষয়টি?
Image Taken From Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||




>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness

OR




