সরস্বতী পুজোর দিন
প্রথমেই সকলকে নমস্কার। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালোই আছি। আজ সরস্বতী পুজোর দিনটি নিয়ে শেয়ার করব।
সরস্বতী পুজো মানে প্রচুর আনন্দ, ছোটদের বিশেষ করে। এই পুজো মানেই প্রতিটি পাড়ায় একটি করে পুজো। এই পুজোতেই ছোট বাচ্চাদের হাতে খড়ি দেওয়া হয়। আগের পোস্টেই প্যান্ডেল বানানোর কথা বলেছি। আজকে পুজোর দিনের কথা বলব।
এবার সরস্বতী পুজোর লগ্ন সারাদিনই ছিল প্রায়। সকালে পুজো কমপ্লিট হলে বেশি ভালো হয় কারণ ছোটরা অঞ্জলি দেয়, তারা বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকতে পারবে না। তারপর আমরাও অন্য কোথাও ঘুরতে যেতে পারবো। সেই মতোই পুরোহিত মশাইকে বলা ছিল সকাল সকাল আসতে। সকালে উঠেই স্নান করে নিয়েছিলাম। সরস্বতী পুজো মানেই তো শাড়ি। তাই শাড়ি পরতেই হবে। একটা দিদির কাছে চলে গেলাম শাড়ি পড়তে... দিদিটার নাম হল পুচকি, নামটা পুচকি হলেও বয়সে কিন্তু আমার থেকে বড়। পাশেই বাড়ি, দিদি হয়। খুব সুন্দর করে শাড়ি পরিয়ে দেয়। সুন্দর করে শাড়ি পরিয়ে দিল। তারপর পুজোর প্যান্ডেলে গেলাম।
গিয়ে দেখি মা সরস্বতী ঠাকুরকে কি মিষ্টি লাগছে দেখতে, চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। কাল যে প্যান্ডেলটি ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল, আজ সরস্বতী মা কে তার থানে বসিয়ে প্যান্ডেলটা যেন পরিপূর্ণ হয়েছে। মা কে দেখার পর পুজোর কাজে হাত দিলাম বেল পাতা ধোয়া, ফুল সাজানো ইত্যাদি এই কাজ গুলো বাকি ছিল তাই সেরে নিলাম।
আর ফল কাটা যাবতিয় সব কাজই বিক্রম আর পাড়ার কাকিমারা মিলে করে নিয়েছে। আর একটা কথা সরস্বতী ঠাকুরের মূর্তি আমরা আগের দিন রাতেই নিয়ে এসেছিলাম কারণ পুজোর দিন সকালে মূর্তি পাওয়া খুব মুশকিল। মা কে এত সুন্দর লাগছে আমি সুন্দর করে সেজেছি ছবি না তুললে হয় নাকি! তাই বুনু সুন্দর সুন্দর ছবি তুলে দিল।
কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে এখনও পুরোহিত মশাই আসলো না, এদিকে বেলাও হয়ে যাচ্ছিল। তখন প্রায় বেলা বারোটা। সরস্বতী পুজোর দিন পুরোহিত মশাইকে পাওয়া একটু চাপের ব্যাপার।
তারপর শোনা গেল আমাদের পাশের পাড়াতেই একটা পুরোহিত মশাই পুজো করছে। তারপর আর কি সেই পুরোহিতকে তুলে আনার পালা। এখান থেকে বিক্রম সহ আরো কয়েকজন গেল সেখানে। তারপর সেখানকার পুজো শেষ করে তাকে এখানে ধরে আনা হয়। সরস্বতী পুজোর দিন পুরোহিত ধরে আনার ব্যাপারটা কিন্তু নরমাল বিষয়। প্রতিবছরই এমন হয়ে থাকে। বিষয়টা অদ্ভুত হলেও ব্যাপারটা কিন্তু বেশ মজাদায়ক।
তারপর আর কি বসে পড়লো পুজো করতে। অঞ্জলি হলো, ছোট বাচ্চাদের হাতেখড়ি হলো। তারপর পুরো মশাই তার দক্ষিণা নিয়ে চলে যায় এবং আমি সবাইকে প্রসাদ বিতরণ করি। সবাই মিলে সেখানে ছবিও তুলে নেই। আমরা এভাবেই প্রতিবার আনন্দ, মজার মাধ্যমে পাড়ার পুজো কাটাই।
আজ এখানেই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন।পরের পোস্টে পুজোয় কোথায় কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলাম তা শেয়ার করব। ধন্যবাদ।






Curated by: @muzack1
Thank you