ইলেকট্রিসিটি বিহীন এক সন্ধ্যে
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমি আজ আবার একটি নতুন কিছু শেয়ার করতে চলে এসেছি। আশা করছি আপনাদের সবার বেশ ভালো লাগবে। আজ শেয়ার করব এক ইলেকট্রিসিটি বিহীন সন্ধ্যা।
সেদিন বিকেল থেকেই ইলেকট্রিসিটি ছিল না। প্রথমে ভেবেছিলাম এমনি হয়তো নেই। তারপর ঠাম্মার মুখে শুনলাম ইলেকট্রিসিটির তারের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। ঠাম্মা মোটা দিদার বাড়ি ঘুরতে গিয়েছিল বিকেলে সেখান থেকেই শুনে এসেছে। সেদিন ঝড় বৃষ্টি হয়েছে এমনটাও না, তাও কীভাবে ভেঙে পরলো কী জানি!
বিকেলে তো সব ঠিকই ছিল। কিন্তু সন্ধ্যে হতেই চারিদিকে অন্ধকার হয়ে আসলো। শুধু মাত্র চাঁদের আলোয় আলোকিত ছিল চারিপাশ। এমন মনে হলো যেন অনেক দিন পর বারান্দায় চাঁদের আলো এসে পরলো। আসলে ইলেকট্রিসিটি থাকার কারণে চাঁদের আলো দেখা যায় না।
সেই আগেকার কথা মনে পরে গেলো। সেই সময় যখন আমি ছোট ছিলাম, যখন চাঁদের আলোয় পথ চিনতাম, যখন আমাদের গ্রামে ইলেকট্রিসিটি ছিল না, যখন গরম লাগলে মানুষ ফাঁকা জায়গায় যেতো যেখানে হওয়া আছে। সবাই এক জায়গায় বসে গল্প করত।
সেই আগের দিন গুলি যেন ফিরে পেলাম মনে হচ্ছে।
বাইরে বেশ বাচ্চাদের হইচই হচ্ছে। বাড়ির বাইরে মানুষের আনাগোনা শোনা যাচ্ছে। পাড়ার দু, তিন জায়গায় গোল করে বসে সবাই গল্প করছে। সে এক ভীষণ ভালো মুহূর্ত। কেউ হাত পাখা দিয়ে বাতাস করছে, এখন তো কেউ আর পাখা দিয়ে বাতাসই করে না। অনেক ছোট ছোট বাচ্চারা জানেই না হাত পাখা কী জিনিস।
যাইহোক এর মধ্যেই আমি একটা মজার ঘটনা শেয়ার করছি। ঘটনাটি হল আমি আর বুনু বাড়ির বাইরে বেরিয়েছি তখন প্রায় রাত দশটা বাজে, সেই সময় আমি Steemit এ ফটো আপলোড করছিলাম, কিন্তু নেট ঠিক মতো পাচ্ছিল না তাই বাইরে বেরিয়ে মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে হাঁটাহাঁটি করছিলাম। এমন সময় পাশের বাড়ির দিদা বলে উঠল "দেখ দেখ কে যেন লাইট নিয়ে আসছে যাচ্ছে।" তারপর তার নাতনি বলে উঠল "কে বাইরে? এরকম হাঁটাহাঁটি করো না আমার দিদা ভয় পাচ্ছে।"
তারপর আমি বাইরে থেকে হেসে বললাম "দিদা আমি শর্মি" তারপর দিদাও হাসলো এবং স্বস্তি পেলো। দিদা হয়তো আমাকে চোর, ডাকাত ভেবেছিল। আসলে ইলেকট্রিসিটি সব সময় প্রায় থাকেই আজ হঠাৎ নেই পুরো গ্রাম অন্ধকার তাই আজ একটু বেশি ভয় পেয়েছে।
তারপর আমরা বাড়ি ফিরে আসি। রাতের খাওয়া দাওয়ার সময় হয়ে যায়... ইলেকট্রিসিটি যায় না বললেই চলে, তাই বাড়িতে তেমন কিছু লাইটের ব্যবস্থা ছিল না সেই কারণে আমরা ওদিন মোমবাতির আলোয় রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। খাওয়ার সময়ও ভীষণ ছোট বেলার কথা মনে পরছিল যখন আমরা হ্যারিকেনের আলোয় খাওয়া দাওয়া করতাম, এখন তো আর হ্যারিকেনের ব্যবহার নেই। খাওয়া দাওয়া শেষ করে বারান্দায় বসে আমি, বনু আর ঠাম্মা মিলে গল্প করছিলাম সেই মুহূর্তেই ইলেকট্রিসিটি চলে আসলো। তারপর যে যার মতো ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লাম।
আজ এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ।



Curated by: @drhira