স্কোপিয়ে/ Skopje ঐতিহ্যবহুল শহর!

বিশ্বের পরিসর হাতের মুঠোয় চলে আসে, যদি ইতিহাসের পাতায় উল্লেখিত ব্যক্তিত্বের সাথে নিজের শহরের মিল থাকে!
কি অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন কি সব আবোল তাবোল লিখছি!
এই মুহুর্তে আমি যেখানে রয়েছি, তার থেকে খুব কম দূরত্বে রয়েছে, 'মিশনারিজ অফ চ্যারিটি!'
তবে যার সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে সংস্থাটির নাম এখানে উল্লেখ করলাম, কম বেশি এই কলকাতা শহরের অনেকেই সেই মানুষটি সম্পর্কে ওয়াকিবহল!

হ্যাঁ! সঠিক আন্দাজ করেছেন, আজকের লেখায় যে ব্যক্তিত্বের কথা তুলে ধরতে এসেছি, তিনি যে আজকের দিনে পূজিত বটে, তবে তার শৈশব এবং বেড়ে ওঠার গল্পটি মোটেও সুখকর ছিল না!
সাথে এটাও না বললেই নয়, কনভার্সন নিয়ে তার উপর একাধিক দোষারোপের কাহিনী রয়েছে, অবশ্য সেগুলো নিয়ে ফিসফিস করলেও, সামনে আজ আর কেউ মুখ খুলতে নারাজ! খ্যাতির বিড়ম্বনা বলুন, কিংবা পাপের বোঝা বৃদ্ধিতে নারাজ, সে আপনারা যে আখ্যাই দিন না কেনো!
তবে, আজকে কোনো বিতর্ক নয়, বরং মাদার তেরেসা সম্পর্কে কিছু না জানা তথ্য তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছি।
সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করবার আগে কিছু কথা না বললেই নয়, আর সেটা হলো সম্মান আর প্রতিষ্ঠা অনেকেই জীবিত অবস্থায় সে ভাবে পায় না, যতটা তারা চিরতরে হারিয়ে গেলে পান!
মাদার তেরেসাকে নিয়ে একদিকে যেমন বহু সমালোচনা চলেছে, তেমনি তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্ব সেটা দেশ হোক কিংবা বিদেশ তার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন আমার শহর কলকাতায়!৯
কি বিশ্বাস হচ্ছে না? গুগল ঘেঁটে দেখুন, সেই সময়কার প্রিন্সেস ডায়না থেকে শুরু করে, পোপ জন পল, মার্কো রুবিও(মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট) ইত্যাদি ইত্যাদি!

তবে, আজকের ছবিগুলো সেই শহরের যেখানে তিনি জন্মেছিলেন!
উত্তর মেসিডোনিয়ার রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর স্কোপিয়ে(Skopje)যেখানে গড়ে তোলা হয়েছে, মাদার তেরেসার স্মৃতিসৌধ এবং মিউজিয়াম!
যার কিছু ছবি আজকের লেখায় তুলে ধরলাম, অবস্থিত ইউরোপে।
জানা যায় মাদার তেরেসা এখানে ১৯১০ সাল থেকে ১৯২৪ এই শহরে ছিলেন।

স্কোপিয়ে ভার্দার নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি যুগোস্লাভ আমলের স্থাপত্যশৈলী, অটোমান-যুগের পুরোনো শহর এলাকা, নিও-ক্লাসিক্যাল ভবন এবং সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘স্কোপিয়ে ২০১৪’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত অসংখ্য ভাস্কর্যের এক অনন্য সংমিশ্রণের জন্য বিখ্যাত।
মাদার তেরেসার স্মৃতি-বিজড়িত বাড়ি (যেহেতু তিনি স্কোপিয়েতেই এক কসোভো-আলবেনীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন) যেটি ইতিপূর্বে লেখায় উল্লেখ করেছি।
ইতিহাস নিয়ে কৌতুহল থাকলে, সেই কৌতূহল নিবারণের উপায় কিভাবে যেনো বেরিয়েই আসে।
আগামীতে এই শহরের কিছু অন্যতম নিদর্শন নিয়ে হাজির হবো, তবে আজকের লেখায় এক নারী এবং তার সমাজসেবা মূলক কাজ তাকে কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে দিয়েছে, সেটাই লেখার মূল বিষয়বস্তু।
এক্ সময় নিজের দেশ ছেড়ে চলে এসেছিলেন এই কলকাতায়, তারপর একের পর এক্ সংঘর্ষের সাথে লড়াই করে, আজকে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন গোটা বিশ্বের দরবারে।
তবে, সমালোচনায় তিনি আজও রয়ে গেছেন সমৃদ্ধির পাশাপশি, তাতে কি আর এসে যায়, পাকেই তো পদ্ম ফুল ফোটে, তাই না?
নিজের দেশ তথা শহরের সাথে যে ব্যক্তিত্বের বহু কৃতিত্ব জড়িত, তাই তাকে নিয়েই আজকের লেখাটি লিখলাম, হয়তো পরবর্তীতে এই স্কোপিয়ে শহরের আর বিশেষ বিশেষ কিছু বিষয় নিয়ে হাজির হয়ে যাবো!
কাজেই, আমার লেখায় চোখ রাখতে ভুলবেন না! আজ এই পর্যন্তই, কাল আবার হয়তো হাজির হয়ে যাবো, কিছু ভিন্ন বিষয় কিংবা এই ইতিহাসের হাত ধরেই, জানতে হলে ফিরে আসতে হবে, কি আসবেন তো?



0.00 SBD,
0.31 STEEM,
0.31 SP
Appreciated your support @steemcurator03 and @lirvic, have a happy Sunday 🫰