১লা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন!

এই আমার জীবনে প্রথমবার এত রাত করে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে সদলবলে বেরিয়েছিলাম!
এমনিতে যখন একেবারে ছোট ছিলাম মায়ের থেকে পাওয়া নতুন জামায় সুতোর নক্সা করা পড়ে নিজেকে নায়িকার থেকে কোনো অংশে কম মনে করতাম না, সে বয়স যতই সাত কিংবা আট হোক না কেনো!
এখন বড় হয়েছি, সময় বদলে গেছে, নেই সেই মায়ের হাত ধরে দোকানে গিয়ে হালখাতা করবার উন্মাদনা, আর সফট ড্রিংকস খাবার মজা!
অনেক আপনজন অকালে সঙ্গ ছেড়ে চলে যাওয়ায় এখন আর কোনো আনন্দ সেইভাবে উপভোগ করতে ইচ্ছে করে না, আসলে আমি যখন ছোট ছিলাম এখনের মত এত স্বাধীনতা বাড়ি থেকে পাইনি, অর্থাৎ বন্ধুদের সাথে যখন তখন বেরিয়ে যাওয়া, এছাড়াও মা, বাবা যেটা কিনে দেবেন সেটাই শ্রেষ্ঠ, আর তাই একটা বয়স পর্যন্ত নিজস্ব পছন্দ বলে কিছুই ছিল না!
অনেক দিন আগে থেকেই জোরাজুরি করে গতকাল অর্থাৎ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আমার মাসতুতো দাদা(কাসিন ব্রাদার) এবং আমার ভাইপো সহ এই প্রথমবার আমি রাত্রে নববর্ষ পালন করতে বের হয়েছিলাম।
গতকাল অর্থাৎ ১লা বৈশাখ ইংরেজি ১৫ই এপ্রিল, আমি রেডি হয়ে যখন বেরোলাম তখন ঘড়ির কাঁটায় ভারতীয় সময় রাত নয়টা বেজে ৩০ মিনিট।
ঘরের গেটে তালা দিতে দিতে মনে মনে বললাম, "সুনীতা তুই বড় হয়ে গেছিস!"
সত্যি কবে যে বড় হয়ে গেলাম! এরকম সাত সতেরো ভাবতে ভাবতে হেঁটে চলেছি পাড়ার রাস্তা ধরে, কারণ আমাকে খানিক হেঁটে এগিয়ে আসতে বলেছিল আমার কাজিন ব্রাদার, সেই মত এগোচ্ছিলাম;

দেখলাম একটি সোনার দোকানে নববর্ষ পালিত হচ্ছে, বেশ সুন্দর করে দোকানের সামনে একটি গেট তৈরি করেছে, একটা ছবি তুলে নিলাম, তখন ঘড়িতে সময় রাত নয়টা বেজে তেতাল্লিশ মিনিট!
এরপর, গাড়িতে উঠে যাত্রা শুরু করলাম, একটি কাছাকাছি রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে, যার নাম ইতিপূর্বে একাধিকবার আমি উল্লেখ করেছি, এবং আমার লেখায় সেই রেস্টুরেন্টের একাধিক ছবিও রয়েছে।
কালকে আমি খানিক অবাক হয়ে গেলাম, এবং কথায় যে বলে ভোজনরসিক বাঙালি তার একেবারে চাক্ষুষ প্রমাণ পেলাম।
রাত তখন দশটা তিন, পৌঁছলাম শের এ পাঞ্জাব রেস্টুরেন্টে, গিয়ে যা দেখলাম, আমার কপালে হাত!
![]() | ![]() |
|---|
প্রথমত, এত বড় রেস্টুরেন্ট পুরোটাই ভর্তি, তার উপর ওয়েটিং লিস্ট এত দীর্ঘ যে, সিকিউরিটি শেষমেশ রেস্টুরেন্টর শাটার বন্ধ করে, জানিয়ে দেয় আর কোনো প্রিঅর্ডার নেওয়া হবে না, সমস্ত উপস্থিত লোক একে একে ফিরে যাচ্ছে কারণ ওয়েটিং লিস্ট এত দীর্ঘ যে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ শেষমেশ এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
এরপর, আর কি! ঠিক করা হলো, বাইপাস ধাবায় যাওয়া হবে!
সেটির দূরত্ব অনেক বেশি এই রেষ্টুরেন্টের তুলনায়, অর্থাৎ সেখানে পৌঁছতে আর বাড়তি সময় লাগবে!
এবার বেরোনো যখন হয়েছে, না খেয়ে তো বাঙালি ফিরবে না! তার উপর আবার নববর্ষ বলে কথা!

![]() | ![]() |
|---|

![]() | ![]() |
|---|

এই প্রথম যেহেতু আমি এত রাত্রে বেড়িয়েছিলাম, তাই আমার সত্যি ধারণা ছিল না, ঠিক কত রাত পর্যন্ত মানুষ সেজেগুজে খেতে যেতে পারে!
কালকে সব সংশয় মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে গেলো।
যখন আমরা বাইপাস ধাবায় পৌঁছলাম, তখন বাজে রাত দশটা বেজে ৫৩ মিনিট!
এরপর আমার ব্রাদার নাম লেখালো, কারণ সেখানেও ওয়েটিং লিস্ট!
শুধু মুখে বাঙালি অপেক্ষা করে না, তাই বাইরে থেকে আমরা তিনজন প্রথমে আইসক্রিম খেলাম!

![]() | ![]() |
|---|

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্টুরেন্টের ভিতর থেকে ডাক পড়লো!
"আসামী হাজির হবার মত করে, ভিতরে ঢুকলাম!" তখন পয়লা বৈশাখ চলে যাবে যাবে করছে, অর্থাৎ রাত এগারোটা বেজে ৪৩ মিনিট!
তাই সেই অর্থে বাঙালি খাবার অর্ডার না করে পাঞ্জাবীদের মত করে নববর্ষ উদযাপন করলাম, অর্থাৎ পাঞ্জাবি খাবার অর্ডার করা হলো।
![]() | ![]() |
|---|
প্রথমে স্টার্টার সাথে স্যালাড যেখানে ছিল চিকেনের একটা প্রিপারেশন নাম মনে নেই! এত ঘোরাঘুরির পর ছবি তোলার কথা মাথায় ছিল এই ঢের!
![]() | কুলচা |
|---|---|
বাটার নান | ![]() |
![]() | পনীর এর প্রিপারেশন |
মাটন এর আরেকটি কুইজিন | ![]() |
![]() | স্যালাড |

যাক, এরপর, মেইন কোর্সে ছিল, বাটার নান, কুলচা, পানীর আর মাটন এর কিছু একটা প্রিপারেশন।
তবে, এত চাপের মধ্যেও খাবারের মান উন্নত রেখেছিল এই বাঁচোয়া।

![]() | ![]() |
|---|

অবশেষে, একটা মজিটো অরেঞ্জ ফ্লেভারের!
খেয়ে দেয়ে যখন বাড়ির গেটে পা রাখলাম, তখন বাজে রাত দেড়টা!
শুরুতে ১লা বৈশাখ দিয়ে করলেও শেষ কিন্তু করেছি ২রা বৈশাখে!
সময় বড় মূল্যবান, মুহুর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায়!
কালকে সেটা বেশ ভালো রকম উপলব্ধি করলাম!
প্রতিটি মুহুর্তের মূল্যায়ন আমরা সেই মুহুর্ত অতিক্রান্ত হওয়ার পরেই উপলব্ধি করতে পারি!
তাই, যখন যে খুশির মুহুর্ত হাতছানি দিয়ে আমাদের ডাকে, তখনই তাতে সাড়া দিয়ে সময়কে সম্মান জানানো এবং মুহুর্তের কদর করতে শেখা উচিত বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি;
অনেক অভিযোগের, সংঘর্ষের মাঝে এই মুহূর্তগুলো অক্সিজেনের কাজ করে, জীবনের আগামী লড়াইটা লড়তে! ভেবে দেখেছেন কখনও মুহুর্তকে নিয়ে এইভাবে?





















