মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়!

in Incredible India6 days ago (edited)

1000086873.jpg

দেখুন আজকের লেখার শীর্ষকটি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা,

"মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়,আড়ালে তার সূর্য হাসে,হারা শশীর হারা হাসি,অন্ধকারেই ফিরে আসে।"

থেকে নেওয়া বলতে কোনো দ্বিধা নেই!
যদিও তিনি তার লেখায় মনোবল বৃদ্ধির সংকেত কিংবা সাহস কবিতার দ্বারা একটি বার্তা রূপে রেখে গিয়েছেন, যেটি একটি অপরিবর্তিত সত্য! কিন্তু এই যখন আজকে কলকাতার নন্দনে

"ভূতের ভবিষ্যৎ"
ছায়াছবির পরিচালক অনীক দত্তের নিথর দেহ এসে পৌঁছলো, তখন ভাবলাম, কতজন শেষ পর্যন্ত আড়ালের সূর্যের আলো দেখবার লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারেন?

তিনি যে সুপ্ত রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন, সেটা তো সত্যি জানা ছিল না!

আজকেই জানতে পারলাম! কি অবাক করা, এবং ধিক্কার জানানোর বিষয়, যেটা যেকোনো দেশ অথবা রাজ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য!
যদি, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির মধ্যে রাজনীতি থাবা বসায়।

1000086871.jpg

তখন দুপুর দুটো বেজে একুশ মিনিট, হঠাৎ করে দেখলাম গোটা আকাশ ঘনীভূত হয়েছে কুচকুচে কালো মেঘে!

জানালার ফাঁক দিয়ে বুঝলাম প্রকৃতিও প্রতিবাদে সামিল হয়েছে এই গঠনমূলক সংস্কৃতির মধ্যে যারা ঘুন ধরিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে!

মনে মনে ভাবলাম, কি ভীষণরকম ক্ষমতার দম্ভ! কি ভীষণ রকমের নৃশংসতা এতদিন সংগোপনে বেড়ে উঠছিল, কিন্তু ওই যে আমি যেমনটি প্রায় লেখায় উল্লেখ করে থাকি, যার শুরু আছে তার শেষও তো আছে, কারণ লোকচক্ষুর অন্তরালে একজন সবার সব কর্মের হিসেব রাখেন!

কে মানলো, আর কে মানলো না তাতে কিচ্ছু যায় আসে না, সময় সবটা প্রমাণ করে দেয়!

আর ঠিক পনেরো বছর বাদে সেটাই প্রমাণিত হলো, প্রকৃতি তথা সৃষ্টিকর্তা মেনে নেয় নি এই অরাজকতা আর তাই ঘুঘুর বাসা আজ ভেঙে খান খান!

এ তো হবারই ছিল, তবে গা শিউরে দেওয়া এক্ একটি তথ্য সাথে সেই সমস্ত নিষ্পাপ অকালে ঝরে যাওয়া প্রাণগুলো, সেই মা বোনেদের চোখের জল, সবটা এতদিন জমাট বেঁধে ছিল;
সেই সঙ্গে এক্ কলাকুশলীর মৃত্যু দেখে যেনো প্রকৃতির প্রতিবাদ আছড়ে পড়লো আজ শহরের বুকে!

1000086872.jpg

যারা সমগ্র বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, কি সঙ্গে নিয়ে যাবেন তারা?

কেনো অযথা এই পাপ সঞ্চয়? লাশের উপর দাঁড়িয়ে উপার্জিত ক্ষমতা কিংবা অর্থ সত্যি কি তাদের শেষ রক্ষা করতে সক্ষম?

আমাকে যদি কেউ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেন, আমার উত্তর হবে,

'না!'

একটা রাজ্য কিংবা একটা দেশ নয়, এই ধ্রুব সত্য প্রযোজ্য গোটা বিশ্বের ক্ষেত্রেই!

নিরীহ মানুষের চোখের জল, মুমূর্ষ মানুষের বুকের হায়, তাদের আর্তনাদ সবটা জমতে জমতে একদিন পাপের ঘড়া ভরে গেলে, এইভাবেই পরিবর্তন আসে সঙ্গে প্রকৃতি গর্জন করে ওঠে নিজস্ব প্রতিবাদের ভাষায়!

1000086874.jpg

আমি ব্যক্তিগতভাবে ততক্ষণ কাউকে সাধুবাদ দেবো না, যতক্ষণ কিছু বিষয় পরিণতি না পাচ্ছে!

আচ্ছা! সেই মানুষগুলোর বুক কি কাঁপে না? তারা কি করছেন, সেটা ভালো না মন্দ সেই বিষয়ে তো তারা ওয়াকিবহল,
তবে কি ভেবে এই পাপে তারা সামিল হন?

একদিকে মুখে এক কথা, একরকম আচরণ; আর পর্দার আড়ালে কি কদর্য কার্যকলাপ সে বিষয় আজ সর্বসমক্ষে উন্মোচিত!

1000086896.jpg

বৃষ্টির হাত ধরে আগামীতে সমস্ত না হলেও অধিকাংশ কালিমা ধুয়ে যাক, প্রকৃতি নতুন করে বাঁচার কারণ ফিরিয়ে দিক বিশ্বের মানুষকে এটাই আমার কাম্য!

1000086898.jpg

তাই আজকের এই আবহাওয়ার পরিবর্তনকে আমি প্রকৃতির প্রতিবাদ হিসেবেই দেখেছি,
যেখানে কলুষিত সমাজকে খানিক বিদ্যুৎপৃষ্ট আবার খানিক ঝড় সহ বর্ষা দিয়ে নির্মূল করবার প্রয়াস প্রকৃতি আজ চালিয়েছে।

পরিশেষে, আশাহত হয়েও কিঞ্চিৎ আশায় বুক বেঁধেছি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপরিউক্ত কবিতার লাইনগুলো মনে মনে পাঠ করে! সঙ্গে নিজের মনের কিছু কথা ছন্দের আকারেও রইলো!

1000086897.jpg

সমাপ্তি সে তো সমাপ্তি নয়;
নতুন শুরুর, নতুন আশার কথা কয়!
যারা মাঝপথে হেরে যায় তারা বোকা,
যারা সয়, শেষমেশ তারাই রয়।
দেখতে হবে পরিণতি;
কার কি হচ্ছে গতি,
ফিরুক না ফিরুক সুমতি;
তবে,হেরে গেলে অসাধু প্রশ্রয় পায়!

সয়ে গিয়ে রয়ে যাওয়ার লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে, এটাই সংকল্প হওয়া উচিত! আমার ব্যাক্তিগত অভিমত সেটাই, আর আপনাদের?

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  

comments-03 @mahadisalim (2).png

 3 days ago 

Much appreciated your support @steemcurator03 and @mahadisalim

Loading...