স্মৃতির গ্যালারি!

চির শায়িত মানুষের ভিড়;
সময় পরিবর্তিত তবে,
স্মৃতিগুলো আজও স্থির!
আজকে আসন্ন সন্ধ্যায় পশ্চিমের জানালার সেই চির পরিচিতি অস্তমিত সূর্যের আলোতে দাড়িয়ে ভাবছিলাম উপরের লেখা চারটে লাইন!
একেবারে সত্যি কথা আজ আমার ফোনের গ্যালারির অধিক অংশ জুড়ে রয়েছে ইহলোক ত্যাগ করে যাওয়া মানুষ!
এদের মধ্যে কেবলমাত্র রক্তের সম্পর্কের মানুষের ছবি আছে এমনটি কিন্তু নয়, এরমধ্যে আছে নানা পরিচিতি মানুষের ছবি যারা সময়ের হাত ধরে পরলোক গমন করেছে!
এরমধ্যে রয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করা খুব ভালো মনের মানুষও।
জানিনা, হয়তো অন্য যে কেউ হলে রক্তের সম্পর্কের বহির্ভূত সম্পর্কের ছবিগুলো ডিলিট করে দিতেন, সেটার কারণ অনেক সময় ফোনের জায়গার অভাব ও হতে পারে, তবে আমি কেনো জানিনা বহুবার প্রয়াস করেও এই কাজটি করে উঠতে পারিনি।
নিজের অনেক ছবি মুছে দিয়েছি, কিন্তু যারা শারীরিক ভাবে ইহলোক ত্যাগ করেছেন, তাদের ছবি ডিলিট করতে গেলেই, চোখের সামনে ভেসে উঠেছে তাদের সাথে অতিবাহিত সময়।
জানিনা, এগুলো মনে রাখা, ধরে রাখা ঠিক না ভুল, তবে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এমনই!

এই যেমন আজকে অস্তমিত সূর্যকে বলছিলাম, প্রকৃতির নিয়ম মেনে তুমি আগামীকাল আবার উদিত হবে, কিন্তু সেই প্রকৃতির নিয়ম মেনেই যে প্রাণগুলো শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে, তারা তোমার মতো করে আর কখনোই ফিরে আসবে না!
দুটোই অপরিবর্তিত সত্য, তবুও কত রেষারেষি, কত তর্ক বিতর্ক, কত হিসেব নিকেষ!
আমার গ্যালারিতে আছে অকালে ঝরে যাওয়া প্রাণের ছবি, সাথে রয়েছে মারণ রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের ছবি, কেউই আজ আর এই পৃথিবীতে নেই, তবে এরমধ্যে এই প্ল্যাটফর্মের একটি মানুষ যিনি হারিয়ে গেছেন চিরতরে, তার কমেন্ট পর্যন্ত রেখে দিয়েছি আজও যত্ন সহকারে।

কাউকে নিঃস্বার্থ ভাবে আপন করে নেবার প্রবৃত্তি সকলের থাকে না, অধিক সংখ্যক মানুষ আজ মানুষকে আবেগ, বিশ্বাসকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে!
আর কিছু মানুষ বারংবার কিছু মানুষ দ্বারা অপমানিত হয়েও তাদের মত করে, তাদেরকে অপমান করতে পরে না! কারণ, কাউকে ছোট করে যে নিজেকে বড় দেখানো যায় না, সেই শিক্ষাটা সকলের থাকে না, যাদের থাকে তারা কষ্ট পেলেও মুখ বুজে অনেক অপমান সহ্য করে নেয়।
তবে, এখন আমি এটা বুঝেছি অহেতুক কাউকে নিজের জীবনের অন্দরমহলে প্রবেশ করতে দিতে নেই, কারণ স্বভাব মানুষের অপরিবর্তিত থাকে।
তাই কিছু মানুষের মানসিকতা থাকে, কাছের হোক বা দূরের সব মানুষদের চাকর বানিয়ে রাখা।
কি জানি! তারা বোধকরি এমন মানুষের সাথেই ওঠা বসা করেছেন যারা খানিক ক্ষমতার উদাহরণের গন্ধ পেলেই নিজেদের বিকিয়ে দেন!
আজও কিছু মানুষ যে ব্যতিক্রমী হতে পারেন, এবং এমন মানুষ আজও এই ধরায় বিরাজ করে, এটি তাদের জানা নেই হয়তো।
আমি এর আগেও একটি উদাহরণ একধিক বার, কথায় এবং লেখায় তুলে ধরেছি, আর সেটা হলো, যে মানুষ নিজে যেমন, সামনের মানুষদের সে সেই নজরেই দেখে থাকেন।
অর্থাৎ যে চোর, তার যেমন আশেপাশে উপস্থিত সকল মানুষদের চোর মনে হয়!
তেমনি যারা মিথ্যেবাদী, একইরকম ভাবে অন্যদের তাই মনে করেন, আবার অসৎ ব্যক্তি মনে করেন তাদের সাথে আলাপচারিতা করা মানুষদের সকলেই অসৎ।
অর্থাৎ যার নিজের যেমন দৃষ্টিভঙ্গি, সামনের মানুষকে তারা ঠিক সেই নজরেই দেখে।
সন্দেহের অভ্যেস যাদের, তারা কাউকেই বিশ্বাস করতে পারেন না!
সকলকেই তারা লোভী মনে করেন, এবং ভাবেন ক্ষমতার কারণে সকলে তাদের পায়ে পড়ে রয়েছে। আসলে বিষয়টি খানিক সত্যি ও বটে, এরকম উদাহরণ চাক্ষুষ করবার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।
আর ঠিক সেই কারণে, আমি মানুষরূপী অমানুষদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখি।

কিছু ব্যতিক্রমী ভালো মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকের সাথেই রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও, তাদের শিক্ষা, ব্যবহার আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আজও আমার স্মৃতির পাতায় তুলে রেখেছি।
এটাই বোধহয় অন্যান্য কারণে মধ্যে অন্যতম যে, চাইলেও এই হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর ছবি মুছে ফেলতে পারিনি গ্যালারি থেকে।
যারা চট করে খেয়ে মুখ মুছে ফেলতে সিদ্ধহস্ত, তাদের কাছে হয়তো এগুলো বাতুলতা মাত্র তবে আমার কাছে নয়।
সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করছে এমন মুষ্টিমেয় কিছু ভালো মানুষের উপমা ছবি হিসেবে থাকলেও সেটি কঠিন সময়ে নিজেকে উদ্বুদ্ধ করবার মাধ্যম।
না ফেরার দেশে পাড়ি দেওয়া মানুষ সহ পোষ্য সকলেই কিছু না কিছু শিখতে সহায়তা করেছে, কাজেই আর যাই হোক শিক্ষক সহ তাদের শিক্ষা সবটাই আজও গ্যালারিতে ছবি হিসেবে যত্ন সহকারে রাখা রয়েছে।

