"শশুর মশাইয়ের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে চতুর্থীর রীতি পালনের কিছু মুহুর্ত""
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন, এবংআপনাদের সকলের আজকের দিনটি বেশ ভালো কেটেছে।
মন খারাপের মধ্যে দিয়ে হলেও গত কয়েকদিনের তুলনায় আজকের দিনটি বেশ ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হলো। খুব সকাল থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয়েছিলো, কারন আজ ছিলো শ্বশুর মশাইয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের প্রথম পর্বের কাজ।
হিন্দু শাস্ত্র মতে বিয়ের পর বাবা-মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের কাজ মেয়েদের চারদিনে সম্পন্ন করতে হয়। যেহেতু বিয়ের পর তাদের গোত্র বদল হয়। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি এটা বিশ্বাস করি না। তবে সমাজে এমন অনেক নিয়ম থাকে, যা আমরা ইচ্ছা না থাকলেও মেনে নিতে বাধ্য হই। এটাও তেমন একটি নিয়ম বলতে পারেন।
যাইহোক আজ শশুর মশাইয়ের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের কাজ করবো আমার ননদ। তার পাশাপাশি ছিলো শুভ ও আমার তরফ থেকে চতুর্থীর কাজও। নিয়ম অনুসারে আজ প্রথম শ্বশুর মশাইয়ের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল নিবেদন করা শুরু হলো শুভর হাত ধরে। যেহেতু ও একমাত্র ছেলে তাই চতুর্থীর কাজ ওর হাত ধরে সম্পন্ন হয়েছে।
![]() |
|---|
ব্রাহ্মণের সাথে আগেই কথা হয়েছিলো এবং তার দেওয়া ফর্দ অনুযায়ী গতকাল ননদের হাজব্যন্ড সমস্ত বাজার সম্পন্ন করেছিলেন এবং আজ সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যেই পুরোহিত মশাই আমাদের বাড়িতে চলে এসেছিলেন।
তাই ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো গুছিয়ে নেওয়া হয়েছিলো। অন্যদিকে শুভ ততক্ষণ স্নান সেরে নিয়েছিলো। আজকের প্রধান কাজ শুভর হাত দিয়ে হবে বলে আমার অত সকালে স্নান করার প্রয়োজনীয়তা ছিল না।
![]() |
|---|
পুরোহিত মশাইয়ের নির্দেশ অনুসারে আমি কাজ গুলো সম্পন্ন করে, শুভ কাজে সাহায্য করেছি। ছেলের বউ হিসেবে এটাই আমার আজকের দিনের দায়িত্ব ছিলো। এরপর পুরোহিত মশাই নির্দেশ অনুসারে সমস্ত কাজ সুসম্পন্ন হয়েছিলো।
পিন্ড দানের উদ্দেশ্যে আজ শুভর হাত ধরে প্রথম অন্ন রান্না হয়েছিলো, যা পুরোহিত মশাইয়ের নির্দেশ অনুযায়ী শ্বশুরমশাই এর উদ্দেশ্যে অর্পিত হয়েছে, শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে। সমস্ত কাজ সুসম্পন্ন হওয়ার পর, সেই সমস্ত জিনিস জলে ডুবিয়ে দিয়ে স্নান করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আমাদের বাড়ির আশেপাশে কোনো নদী নেই, তাই পুকুরই ভরসা।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
সেই কারণে সমস্ত কিছু গুছিয়ে নিয়ে আমি আর শুভ আমাদের বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে, একটা বাড়িতে গিয়ে সমস্ত কিছু পুকুরে ভাসিয়ে দিয়ে, সেখানে একটা ডুব দিয়ে, বাড়িতে এসে ভালোভাবে স্নান সম্পন্ন করেছিলাম। তারপর যথারীতি অন্যান্য দিনের মতো ফল, জল গ্রহণ করেছিলাম।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
দুপুরবেলায় বাড়িতে কয়েকজন মানুষ এসেছিলেন, বাকি অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু আলোচনা করার কাজ বাকি ছিলো। তবে চতুর্থীর কাজটা খুব সুন্দর ভাবে সুসম্পন্ন হওয়াতে মনের দিক থেকে অনেকটাই শান্তি পেয়েছি আমরা সকলে। সত্যি বলতে কারোর শূন্যস্থান পূরণ করা অন্য কারোর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তার উদ্দেশ্যে নিজের মন থেকে কোনো কাজ করতে পারায়, এক আলাদাই মানসিক শান্তি রয়েছে।
যাইহোক এই ভাবেই ব্যস্ততার মাঝে কেটেছে আজকের দিনটা। সারাদিনের বেশ কিছু মুহূর্তের ছবি ক্যামেরায় ধারণ করেছিলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করি, সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।







