"মালদা থেকে ফিরে আসার মুহূর্তের গল্প"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
সিকিম থেকে ঘুরে আসার কয়েকদিনের মধ্যেই যে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবারও এইরকম ভাবে হঠাৎ করেই একটা ঘোরার প্লান হবে, সেটা ভাবি নি। আসলে সচরাচর এমনটা হয় না বলেই বোধহয় এইবার বিষয়টা এমন বিশেষ মনে হলো।
গতকাল থেকে ননদের ছেলের স্কুলে গরমের ছুটি শেষ হয়ে ক্লাস শুরু হয়েছে। তাই এরপরে আর যাওয়া হতো না বলেই একপ্রকার তড়িঘড়ি করে এই যাওয়ার প্রোগ্রাম ঠিক হয়েছে। যে কোনো জায়গায় যাওয়ার সময় মনের ভিতরে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করে। কিন্তু ফেরার সময় বেশ খানিকটা মন খারাপ নিয়েই বাড়িতে ফিরতে হয়। আজও তার অন্যথা হয়নি।
গতকাল রাতেই লাগেজ মোটামুটি গুছিয়ে রাখা হয়েছিলো। ওই বাড়িতে শুধু আমার জেঠুর ছেলে, তার বউ এবং তাদের দুজনের একমাত্র ছেলে ধীরাজ থাকে। সম্পূর্ণ বাড়িতে এই তিনজন মানুষের সাথে সাথে আমাদের বাড়ির আরও এতোজন সদস্য এই কদিন একসাথে ছিলো। তাই বুঝতেই পারছেন সম্পূর্ণ বাড়িতে এতোগুলো মানুষের উপস্থিতি বাড়িটাকে কতোটা প্রাণবন্ত করে তুলেছিলো।
আজ থেকে আবার ওরা তিনজন। কারণ আজ আমরা সকলেই ফিরে এসেছি মালদা থেকে। সম্পূর্ণ বাড়িতে আবার সেই নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। প্রতিদিনের সেই কাজ, আবার সেই পুরনো রুটিন, গত কয়েকদিন সকলের সঙ্গে থাকার মুহূর্তগুলো আজ ওদের মনটাও ভারাক্রান্ত করছে, সেই সাথে আমাদেরও।
![]()
|
|---|
যদিও নিজের বাড়িতে ফেরার এক আলাদা আনন্দে রয়েছে। কিন্তু তবুও কোথাও যেন ধীরাজের জন্য মনটা বড্ড খারাপ লাগছে। আসার সময় ওর মনটা খুব খারাপ ছিলো। গাজোল থেকে আমাদের সকাল সাতটায় ট্রেন ছিলো। তাই মোটামুটি সাড়ে পাঁচটার পরে সকলেই উঠে পড়েছিলাম। তৈরি হয়ে দাদার গাড়িতে করে স্টেশন পর্যন্ত এসেছি।
ধীরাজও এসেছিলো আমাদের সাথে স্টেশনে। তখনও পর্যন্ত মন খারাপটা এতোটা বুঝতে পারেনি। তবে যখন আমরা ট্রেনে উঠলাম এবং ট্রেন ছাড়তে শুরু করলো, তখন ওর দুচোখ জলে ভরে গিয়েছিলো, যা দেখে আমাদের সকলেরই মন খারাপ হয়েছে।
তবে যতোই কষ্ট হোক না কেন প্রত্যেকই নিজেদের জায়গায় ফিরতে হবে। সকলকেই আবার নিজেদের জীবন আগের মতো করে যাপন শুরু করতে হবে, এটাই পৃথিবীর নিয়ম।
![]()
|
|---|
কয়েকটা দিন খারাপ লাগা থাকবে, তারপর আবার আমরা সকলেই অভ্যস্ত হয়ে যাবো নিজেদের পুরনো রুটিনে। আজ যে কি প্রচন্ড গরম ছিলো তা আসলে লিখে বোঝানো সম্ভব না। তার ওপর ট্রেনটা মাঝেমধ্যেই দাঁড়িয়ে পড়ছিলো। সকাল থেকে রৌদ্রের তাপ ছিলো, তবে বেলা যতো বেড়েছে তা যেন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে সমানভাবে।
![]()
|
|---|
ট্রেনের ভিতরে অনেক কষ্ট হয়েছে আজ আমাদের, কারণ আমাদের এসিতে টিকিট ছিলো না। বিশেষ করে আমার ননদের ছেলের অনেক বেশি কষ্ট হয়েছে। শেষ পর্যন্ত গেঞ্জি খুলে তারপর ওকে ঘুম পড়ানো হয়েছিলো, এতটাই গরম লাগছিলো ট্রেনের মধ্যে।
![]()
|
|---|
কলকাতা প্লাটফর্মে নেমে আমরা অটো নিয়ে সোজা শিয়ালদা স্টেশনে পৌঁছেছিলাম। গরমের ভিতরে আর বিধাননগর হয়ে যেতে ইচ্ছে করেনি। সেখানে গিয়ে টিকিট কেটে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ট্রেনের খবর হলো এবং আমরা সকলে গিয়ে নিজেদের মতো সিট নিয়ে বসে পড়লাম। প্রায় ১৭ থেকে ১৮ মিনিট পর আমাদের ট্রেন ছাড়লো। তখন যেন আমরা শান্তি পেলাম।
সারাদিনে টুকটাক অনেক কিছুই খাওয়া-দাওয়া করা হয়েছে, তবে তার ছবি আর তোলা হয়নি। তবে শেষ মুহূর্ত ট্রেন থেকে এই বাদামের খাজা কেনা হয়েছিলো, যার ছবি তুলেছিলাম। আসলে এটা কেনার খুব বেশি ইচ্ছে ছিলো না। তবে অনেক বয়স্ক একজন ভদ্রলোক এগুলো বিক্রি করছিলেন। কি জানি কেন ওনাকে দেখে মনে হলো ওনার থেকে অন্তত দুটো কেনা উচিত।
![]()
|
|---|
কারণ এই বয়সেও উনি কাজ করে খাওয়ার মানসিকতা বহন করেন দেখে খুব ভালো লেগেছিলো। কারণ এমন অনেক কম বয়সী লোক দেখা যায়, যারা কষ্ট করে খেটে খাওয়ার থেকে মানুষের সামনে হাত পেতে ভিক্ষে করতেই বেশি পছন্দ করে। তাদের আমার একেবারে সাহায্য করতে ইচ্ছে করে না এবং আমি করিও না।
যাইহোক ঘন্টাখানেকের ব্যবধানে আমাদের ট্রেন এসে দাঁড়ালো দত্তপুকুর প্লাটফর্মে। নিজের জায়গাতে নেমে আমি, মাসি শাশুড়ি ও শাশুড়ি মা, বাড়ি ফিরে এলাম। ননদকে আসতে বলা হয়েছিলো কিন্তু তিনি আর আমাদের বাড়িতে না এসে ছোট ছেলেকে সাথে নিয়ে সোজা নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন।
![]()
|
|---|
বাড়িতে এসে সবার প্রথমে ঘর মুছে নিয়েছি। কারণ এই কয়েকদিন শুভ আর ঘর মোছেনি। তাহলে বুঝতেই পারছেন ঘরে ঠিক কতখানি ধুলোবালি ছিলো। তাই ঘর মোছার পর, স্নান সেরে ঠাকুর পুজো দিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর বসেছিলাম পোস্ট লিখতে। কারণ গতকালও পোস্ট লেখার সময় করে উঠতে পারিনি। তাই মন খারাপকে সরিয়ে রেখে আজকের সারাদিনের গল্পটাই শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভ রাত্রি।







Curated by: @ ripon0630