" গরম উপেক্ষা করেই ছুটতে হলো আমার গ্ৰামের বাড়িতে"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
কেমন আছেন আপনারা সকলে?
আশাকরছি সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
আমার দিনটি অবশ্য খুব একটা ভালো কাটেনি। প্রচন্ড গরমকে উপেক্ষা করে আজ আমাকে খুব জরুরী একটা কাজে যেতে হয়েছিলো আমার গ্রামের বাড়িতে। বুঝতেই পারছেন আজকাল যে পরিমাণে গরম পড়েছে তাতে বাড়ি থেকে বেরোনোটা কতখানি কষ্টকর।
![]()
|
|---|
যাইহোক রোজকার মতো সকালে ঘুম থেকে উঠে রান্না বসিয়েছিলাম। পরে শাশুড়ি মা উঠে বাকিটা সামনে নিয়েছেন। আমি স্নান সেরে একটু চা আর দুটো বিস্কুট খেয়েই বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। তবে স্নান সেরে বাড়ি থেকে বেরোনো, আর না সেরে বেরোনো এখন সমান, কারণ বাড়ির বাইরে গেলেই ঘেমে আরও একবার স্নান করে যেতে হচ্ছে।
![]()
|
|---|
আজকাল সকাল বেলাতেই সূর্য যেন প্রচন্ড তাপ নিয়েই উদয় হয়। সকাল ন'টার পরেই আর রাস্তায় বেরোনো সম্ভব হয় না। যাইহোক টিকিট কেটে স্টেশনে একটু অপেক্ষা করার পরেই ট্রেন এলো। ট্রেন যতক্ষণ চলছিল বেশ হাওয়াই আসছিলো, তবে প্রতিটা প্লাটফর্মে যখন ট্রেন দাঁড়ায় তখন যেন আরও বেশি গরম লাগছিলো।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
|
|---|
যাইহোক শেষ পর্যন্ত যখন মছলন্দপুর স্টেশনে নামলাম বুঝতে পারলাম আজ সারাদিন ঠিক কতখানি কষ্ট হতে চলেছে। আমি ট্রেনের একেবারে সামনের দিকে উঠেছিলাম, তাই হাঁটতে হাঁটতে পিছন দিকে এসে তারপর পৌঁছলাম অটো স্ট্যান্ডে। স্টেশন থেকে হেঁটে আসার সময় মনে হচ্ছিলো যেন ছাতা ভেদ করে তাপ লাগছিলো।
যাইহোক তারপর হেঁটে অটো স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখলাম একটা অটো পুরো ভর্তি হয়ে আছে। যেটাতে বসে যাওয়া আর সম্ভব নয়। তাই মিনিট দশেক অপেক্ষা করলাম পরবর্তী অটোর জন্য।
![]()
|
|---|
পরবর্তী অটো এলে অটোতে ওঠার পর ভেবেছিলাম হয়তো ছেড়ে দেবে, তবে আরও দশ মিনিট বসতে হলো। সম্পূর্ণ অটোতে প্যাসেঞ্জার ভর্তি হওয়ার পরেই অটো ছাড়লেন। ততক্ষণে আরও একবার ঘেমে স্নান হয়ে গেছে।
গ্রামের বাড়িতে আমার প্রথম গন্তব্য হয় আমার প্রিয় বান্ধবী রাখির বাড়ি। নিজের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও প্রথমে গিয়ে আমি ওদের বাড়িতেই গাড়ি থেকে নামি। কারণ ওই ফাঁকা বাড়িতে যেতে আমার মন চায় না। তাছাড়া যে প্রয়োজনীয় কাজে গিয়েছিলাম সেটা ওদের বাড়িতে বসে সম্পন্ন করতে হতো, তাই প্রথমে গিয়ে সেই কাজটাই করে নিলাম।
সেই সকল কাজ শেষ করার পর ভেবেছিলাম একবার আমাদের বাড়িতে যাবো। কিন্তু বিশ্বাস করুন সেই মুহূর্তে বাইরের রোদ্দুরের তাপ দেখে আর বেরোনোর সাহস হয়নি। এমনকি রাখিদের ঘরেও বসা যাচ্ছিলো না। ওরা আগের বছর নতুন পাকা বাড়ি করেছে, কিন্তু এতো বেশি গরম ওদের বাড়িতে কি আর বলবো।
আশেপাশে একটাও গাছ নেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সম্পূর্ণ রোদ্দুর এসে পরে ওদের ছাদে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন কতোখানি গরম। আজ সারা দিন আমরা ওদের বারান্দাতেই টেবিল ফ্যান চালিয়ে বসে ছিলাম। দুপুরবেলায় আরও একবার স্নান করলাম ওদের বাড়িতেই। তারপর রাখিদের বাড়িতেই খাওয়া দাওয়া হলো।
![]()
|
|---|
আমি যখনই একা গ্রামের বাড়িতে যাই বরাবর ওদের বাড়িতেই আমাকে জোর করে খেতে বসায়। আজ বেগুন ভাজা, টক ডাল আর তার সাথে রান্না করেছিল চিকেন কষা। রাখির হাতের চিকেন কষাটা খেতে অসাধারণ হয়। আশাকরি ছবিটা দেখে আপনারা বুঝতে পারছেন। মূলত ও সমস্ত মসলা শিলনোড়ায় বেটে রান্না করে। তাই বোধহয় স্বাদ একটু অন্যরকম লাগে।
খাওয়া-দাওয়ার বেশ ভালোই হলো, কিন্তু তারপর শুরু হলো অসহ্য গরম। ওদের বারান্দাতে মাদুর পেতে দুজনে মিলে বেশ কিছুক্ষণ গল্প করলাম। আমার গলা পেয়ে আশেপাশ থেকে আরও দু চারজন কাকিমা এসেছিলেন। সবার সাথে কম বেশি কথায় কথায় সময় পার হয়েছে বিকেলের দিকে।
সন্ধ্যার পর বাড়ি আসার তাড়া শুরু হলো। আসার আগে আরও একবার স্নান সেরে তারপর একেবারে তৈরি হয়ে নিলাম বাড়ি আসার জন্য। তবে দুঃখের বিষয় স্টেশনের পৌঁছানোর গাড়ি পেতে আমাকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। অবশেষে একটা গাড়িতে জায়গা পেলাম এবং স্টেশনে এসে পৌছালাম।
তারপর আর কি, সোজা দত্তপুকুর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে বাড়ি এসে, ফ্রেশ হয়ে প্রথমেই কিছুক্ষণ ফ্যান চালিয়ে চুপচাপ শুয়ে ছিলাম। সন্ধ্যার পরে আসলেও এতো বেশি গরম আজ, যে অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। তারপর পোস্ট লিখতে বসলাম। শরীরটাও বিশেষ ভালো লাগছে না। রাতের দিকে আজ কিছু খাবো কিনা জানিনা।
যাইহোক এই প্রচন্ড গরমে আজকের দিনটি বেশ কষ্ট করে অতিবাহিত হলো। এখন অবশ্য বাইরে থেকে একটু হাওয়া দিচ্ছে, তবে সারাদিন এতোটুকুও হাওয়া ছিলো না। যে কারণে হয়তো আরও বেশি কষ্ট হয়েছে।
এই গরমে আপনারাও প্রত্যেকে সাবধানে থাকবেন এবং ভীষণ জরুরী কাজ না থাকলে দুপুরের দিকে বাড়ির বাইরে বেরোনোটা সম্ভব হলে এড়িয়ে চলবেন।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।






