"অবশেষে আশা পূরণ হলো"

in Incredible India13 hours ago
IMG_20260617_131202.jpg

Hello,

Everyone,

বাংলায় একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে,-"যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ" অর্থাৎ মানুষের শ্বাস যতক্ষণ পর্যন্ত চলে ততক্ষণ পর্যন্ত আশা ত্যাগ করা উচিত না।

ব্যক্তিগত জীবনে সব সময় এই প্রবাদ বাক্যের উপরে বিশ্বাস করে বাঁচা সম্ভব নয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে এই প্রবাদ বাক্যের উপরে বিশ্বাস জন্মায়, তা একটা ছোট্ট উদাহরণ আজকের লেখার মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি।

আমাদের বাড়িতে আমার শ্বশুরমশাই এবং আমার ননদ এই দুই ব্যক্তির ফলের প্রতি এক অন্যরকম দুর্বলতা আছে। এমন কোনো ফল নেই যেটা এই দুজন ব্যক্তি খেতে পছন্দ করেন না। বিয়ের পর থেকেই দেখেছি সারা বছর জুড়ে যত মরশুমি ফল পাওয়া যায়, দোকান থেকে ফেরার সময় আমার শ্বশুরমশাই সেগুলো কিনে আনতেন। আম, লিচু, লেবু, থেকে শুরু করে তালের শাঁস, জামরুল, জাম ইত্যাদি যতো রকমের ফল বাজারে পাওয়া যায় আর কি।

IMG_20260617_131138.jpg

তবে আমি, শাশুড়ি মা ও শুভ কেউই ফল এতো বেশি পছন্দ করি না। শশুর মশাইকে নিয়ে লেখা শেষের দিকের বেশ কিছু পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম ড্রাগন ফল ওনার ভীষণ প্রিয় ছিলো। যে কারণে আমার মামা শ্বশুরবাড়ি থেকেও ওনার জন্য ড্রাগন ফল পাঠিয়ে দিতো। মামা শ্বশুরদের গাছে প্রচুর ড্রাগন ফল হতো, এমনকি শাশুড়ি মা ও শেষের দিকে অনেক ড্রাগন ফল কিনে এনে ওনাকে খাইয়েছেন।

আজ যে ড্রাগন গাছের ছবিগুলো পোস্ট এর মধ্যে উপস্থাপন করেছি, এগুলো আমার শ্বশুর মশাইয়ের হাতে লাগানো গাছ। আমার মামা শ্বশুর বাড়ি থেকে এনে তিনি এই গাছ বাড়িতে লাগিয়ে ছিলেন প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে।

IMG_20260617_131143.jpg

তবে দুঃখের বিষয় উনি বেঁচে থাকা কালীন এই গাছে ফুল আসেনি। একটা সময় আমিও শাশুড়ি মাকে বলেছিলাম এই গাছগুলো তুলে ফেলতে, কারণ এতো সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও যখন ফুল দেখতে পারছিলাম না, তখন কেন জানি না মনে হচ্ছিলো ,আর ফল ধরবে না।

আর ড্রাগন ফল খেতে আমাদের বাড়িতে শ্বশুর মশাই ছাড়া আর কেউ পছন্দ করেনা। এই কারণে এতো বছর ফল না ধরার জন্য মনে হয়েছিলো গাছটা রেখে আর সত্যিই লাভ নেই।

ছাদের একটা কোনায় গাছটা লাগানো হয়েছে যেখানে প্রত্যেকদিন জল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ ড্রাগন গাছের টপে মাটি সামান্য ভিজে থাকলেও তাতে জল দিতে বারণ করেছিলো আমার মামা শ্বশুর। কারণ ড্রাগন গাছে বেশি জল লাগে না, এমনটাই তিনি জানিয়েছিলেন।

IMG_20260617_232451.jpg

আর ঠিক এই কারণেই হয়তো প্রত্যেকদিন জল না দেওয়ায় গাছটার দিকে তেমনভাবে খেয়াল করে দেখা হয়নি। আজ অনেকদিন বাদে ড্রাগন গাছের টবে জল দিতে গিয়ে হঠাৎ করেই চমকে উঠলাম। দেখলাম একেবারে তিনটে ফুল হয়েছে, যা এতদিন নজরেই আসেনি। সত্যি কথা বলতে গুরুত্ব দিয়ে কখনো ড্রাগন গাছের দিকে তাকিয়েঐ দেখিনি। আর এই কারণেই এতোদিন পর্যন্ত ফুলগুলো লক্ষ্যও করিনি।

আজ খুব আফসোস হচ্ছিলো, কারণ বাড়িতে শাশুড়ি মাও নেই। শ্বশুর মশাইকে দেখানো কোনোভাবেই সম্ভব ছিলো না। তবে শাশুড়ি মা দেখলেও বেশ খুশি হতেন যে ওনার যত্নে শেষ পর্যন্ত গাছটিতে ফুল এসেছে। পাশাপাশি ওনার খারাপও লাগতো কারণ, শশুর মশাই শখ করে এই গাছটি লাগিয়েছিলেন, অথচ সেই ব্যক্তিটি না এই গাছের ফুল দেখে যেতে পারলেন, আর না এই গাছের ফল খাওয়া ওনার ভাগ্যে হলো।

IMG_20260617_131143.jpg

এই গাছটাই এক সময় কেটে ফেলতে বলেছিলাম এটা ভেবে একটু খারাপই লাগছিলো। আসলে মানুষের মতন হয়তো গাছের উপর থেকেও বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছিলো আমার। তবে আরও একবার প্রমাণ হলো মানুষ বিশ্বাসঘাতকতা করলেও গাছরা হয়তো করে না।

যে কারণে এই ৫/৬ বছরের যত্ন সে নষ্ট হতে দেয়নি। আজ এই ড্রাগন গাছে ফুল গুলো দেখে সত্যিই মনে হলো, সব সময় সব ক্ষেত্রে আশাহত হলে চলে না। শেষ পর্যন্ত দেখতে হয় আর ধৈর্য্য ধরলে তার ফল সত্যিই পাওয়া যায়।

IMG_20260617_131202.jpg

এই গাছের ফল শ্বশুর মশাই খেতে পারবেন না, এটা বরাবর একটা আফসোসের জায়গা থেকে যাবে। কিন্তু কোথাও না কোথাও তিনি শেষ পর্যন্ত আশা রেখেছিলেন, এই গাছে‌ একদিন ফল হবেই, সেটা যে সত্যি হলো এটা দেখে বেশ ভালো লেগেছে আমার।

তাই ভাবলাম আপনাদের সাথেও এই বিষয়টা শেয়ার করা যাক। হয়তো আপনারাও আমার লেখা পড়ে খুব সহজেই কোনো জিনিসের উপর থেকে আস্তা হারাবেন না।

যাইহোক ড্রাগন গাছের প্রথম ফল হলে তা অবশ্যই আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। তার আগে ড্রাগন গাছ সম্পর্কে এই অনুভূতি পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে শেয়ার করবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি।

ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।