"এক অধ্যায়ের সমাপ্তি- শশুর মশাইয়ের শেষকৃত্য"
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
গতকাল থেকে আমার দিনগুলো বড্ড কঠিন অবস্থায় কাটছে। কারন গতকাল আমার শশুর মশাই পরলোক গমন করেছেন। দুদিন আগের পোস্টে আমিই আপনাদের বলেছিলাম ওনার মুক্তির জন্য প্রার্থনা করতে, অথচ আজ ওনার অনুপস্থিতিই আমাকে মানসিক ভাবে অনেক কষ্ট দিচ্ছে।এটাই আসলে জীবনের কঠিন বাস্তবতা।
২৪ ঘন্টারও বেশি সময় মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করার পরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আর ঐ ২৪ ঘন্টা চোখের সামনে ওনার কষ্ট দেখাটা আমাদের জন্য কতখানি কষ্টকর ছিলো, তা হয়তো আপনাদের বোঝাতে পারবো না। যাইহোক শারীরিক ভাবে উনি যে কষ্ট পাচ্ছিলেন, তাতে তার মৃত্যু কামনা আমরা সকলেই করেছি। অবশেষে সেই মুহূর্তটা এলো দুপুর ১২.০৯ মিনিটে।
![]() |
|---|
এরপর গোটা বাড়ি ভরেছিলো আর্তনাদে। আমার ননদ ও শাশুড়ি মাকে সামলাতে সামলাতে নিজের শোক যেন অনুভব করতে পারছিলাম না। সব নিয়মকানুন শেষ হতে হতে প্রায় বিকাল হয়ে গেলো। মাঝের সকল নিয়ম কানুন করতে আমাদের কেমন লেগেছে তা আর লেখার ভাষা নেই। খুব কাছের মানুষের মৃত্যু কতটা কষ্টদায়ক তা শুধুমাত্র তারাই অনুভব করতে যারা কাছের মানুষদের হারিয়েছে।
যাইহোক জীবনের একেবারে অন্তিম দিনে শশুর মশাইয়ের সাথে শেষপর্যন্ত থাকার জন্য শশ্মানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তাই সকলের সাথে সাথে গাড়িতে উঠে রওনা করলাম রামঘাট শশ্মানের উদ্দেশ্যে।
![]() |
|---|
শশুর মশাইকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো শববাহী গাড়িতে। শববাহী গাড়িতে শুভ আর ননদের হাজব্যান্ড গিয়েছিলো। আর আমরা গিয়েছিলাম অন্য একটা গাড়িতে। আমরা যখন পৌঁছালাম তখন শশ্মানে অন্যকোনো মৃতদেহ ছিলো না। তাই আমাদের আর লাইন দিতে হয়নি।
![]() |
|---|
ওখানে গিয়ে সমস্ত নিয়ম মেনে কাজ করার পর শশুর মশাইকে শেষ বিদায় দিয়ে আমরা নীচে এসে বসলাম। প্রায় ৪০ মিনিটের অপেক্ষা তখন আমাদের জন্য অনেক দীর্ঘ মনে হচ্ছিলো। এর মধ্যেই আরও একটা লাশ এলো শশ্মানে। সে আরেক ঘটনা, পরের পোস্টে না হয় আমি সে কথা শেয়ার করবো।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
যাইহোক এরপর শব দাহের কাজ শেষ হয়ে গেলে আমরা পরের নিয়ম পালন করে গঙ্গাস্নান সেরে নিলাম। ভীষণ ঠান্ডা লাগছিলো আমার। আসলে কাল আবহাওয়াটা একটু ঠাণ্ডাই ছিলো। তারপরে আবার রাতে গঙ্গায় স্নান করেছি, তাই শীত লাগাটা স্বাভাবিক।
![]() |
|---|
এরপর আবার আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। রাস্তায় আসতে আসতে কত যে স্মৃতি মনে পরছিলো তার হিসাব নেই। মানুষ চলে যায় তবে স্মৃতি গুলো মোছে না কিছুতেই। বাড়িতে পৌঁছাতে রাত প্রায় ১১ টা বাজলো। বাড়িতেও অনেক নিয়ম পালন করে তারপর একটু ফল খেলাম।
এরপর সবার সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর আমরা শোয়ার ব্যবস্থা করলাম। শুলাম ঠিকই কিন্তু ঘুম এলো না কিছুতেই। প্রায় ভোরের দিকে চোখ লেগে এলো। এইভাবেই কাটলো গতকালের দিনটা। এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।







Curated by: @ahsansharif
"I am very sorry for your loss, may God give you courage."