"নিমন্ত্রণ পর্ব "
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা বেশ ভালো কেটেছে।
আমার গত কয়েক দিনের পোস্ট পড়ে আশাকরি আপনারা অনেকেই জেনেছেন আমার শ্বশুর মশাই গত হয়েছেন, আজ তার অষ্টম দিন।
হিন্দুশাস্ত্র মতে আমাদের যা কিছু নিয়মাবলী পালন করতে হয়, সেগুলো আমি এবং শুভ গত আটদিন ধরেই পালন করে চলেছি। দুদিন বাদে আরও বেশ কিছু আচার অনুষ্ঠানের কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলোর প্রস্তুতি পর্ব চলছে গতকাল থেকেই।
![]() |
|---|
বেশিরভাগ দায়িত্বই অন্যান্যরা নিয়েছেন ঠিক, তবে ছেলে এবং বৌমা হিসেবে কিছু দায়িত্ব আমাকে ও শুভকেও নিতে হয়েছে। বর্তমান যুগে নিমন্ত্রণ পর্ব ফোনে সেরে নেওয়ার সুবিধা থাকায় কষ্ট অনেকটা কম হয়েছে। তবে নিয়ম অনুসারে শুভর জেঠ্যুর বাড়িতে আমাদেরকে একদিন যেতেই হতো।
![]() |
|---|
ওর জ্যাঠা বাড়ির পাশেই তিনজন দিদির শ্বশুর বাড়িও রয়েছে, তাই ঠিক হয়েছিলো সেই বাড়িগুলোর নিমন্ত্রণ পর্বও একইসাথে সেরে নেওয়া হবে। সেই মতো গতকাল একটা টোটো ভাড়া করে দুপুর প্রায় দেড়টা নাগাদ আমি, শুভ, ননদ এবং শুভর একজন মাসি অশোকনগরে শুভর জেঠ্যুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলাম।
সেখানে প্রথমেই শুভ জেঠ্যুর ছোটো মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। প্রচন্ড রোদ্দুর ছিলো গতকাল। আজকের মতন যদি আবহাওয়া হতো, তাহলে হয়তো ততটাও গরম লাগত না। কিন্তু সেদিন অনেক রৌদ্র থাকার কারণে টোটো তে করে এক ঘন্টা জার্নি করার পরে বেশ কষ্টই হয়েছিলো। তাই প্রথমেই দিদির ঘরে বসে আমরা বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রাম করলাম।
![]() |
|---|
তখনই দিদির ঘরে ঠাকুরের আসনের ছবিটা তুলেছিলাম। যদিও দিদির আর্থিক অবস্থা ততটাও ভালো নয়, ঘরবাড়িও ভীষণ সুন্দর নয়, তবে মাটির ঘর হলেও এতো সুন্দর ভাবে সাজানো গোছানো যা, যেকোনো পাকা বাড়ির সৌন্দর্য্যকে হাড় মানায়। দিদি দুপুর বেলায় ঠাকুরের সম্পূর্ণ আসনটা, গাছ থেকে তোলা সাদা ফুল দিয়ে এতো সুন্দর সাজিয়েছিল, যেটা দেখে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারিনি।
![]() |
|---|
এরপর চোখ পরলো পাশের ঘরে রাখা অ্যাকুরিয়ামের দিকে। দিদির ছেলের ভীষণ অ্যাকুরিয়াম পছন্দ। তাই কষ্ট হলেও ছেলের এই আবদারটা দিদি পূরণ করেছে। অনেকটা বড় অ্যাকুরিয়ামের মধ্যে বেশ কয়েকটা মাছও রয়েছে। বহু বছর ধরেই এটা বাড়িতে রয়েছে, আর মাছগুলোর সম্পূর্ণ যত্ন দিদির ছেলে করে থাকে।
সত্যি কথা বলতে অনেক বাড়িতেই আমি অ্যাকুরিয়াম দেখেছি, তবে এতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অ্যাকুরিয়াম এর আগে আর চোখে পড়েনি। আশাকরি আপনারাও ছবি দেখে বুঝতে পারছেন, ঠিক কতখানি যত্ন সহকারে দিদির ছেলে অ্যাকুরিয়ামটাকে রেখেছে।
![]() |
|---|
যাইহোক দিদি যথারীতি শরবৎ, মিষ্টি, ফল সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করেছিলো। তবে গত কয়েকদিন এক নাগাড়ে এগুলো খাওয়ার কারণে আর কোনো কিছু খেতে পারিনি। দিদি ভীষণ জোর করায় আমি এক টুকরো তরমুজ খেয়েছিলাম। এরপর এক এক করে আসে পাশে দু তিনবাড়ি নিমন্ত্রণ সেরে, আমরা আবার টোটোতে করে রওনা করলাম জ্যাঠা শশুরের ছেলের বাড়িতে।
![]() |
|---|
সেখানে যাওয়ার জন্য মাঠের ভেতরের রাস্তা ধরেছিলাম আমরা। যার দুপাশে শুধু সবুজ রং চোখে পড়েছিলো। একদিকে ধান ক্ষেত, একদিকে ঢেঁড়স গাছ। এছাড়াও আমবাগান, রাস্তার পাশের ঝোঁপ জঙ্গল সবকিছু পেরিয়ে তারপর পৌঁছেছিলাম দাদাদের বাড়ি।
সেখানে গিয়ে সকলের সাথে কথাবার্তায় অনেকটা সময় পার হলো। এরপর এক এক করে নিমন্ত্রণ পর্ব সেরে আমরা যখন টোটোতে উঠে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করবো, তখন ওই বাড়ির একটা বাচ্চা আমাকে একটা দেশি গোলাপ ফুল দিলো।
![]() |
|---|
যদিও গাছটা আমার চোখে পড়েনি, তবে ছোট্ট একটা বাচ্চা ফুল ছিড়ে আমার হাতে দিয়েছিলো বলে, ফুলটা যত্ন সহকারে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। ফেরার পথে টোটোতে বসেই একটা ছবি তুলেছিলাম, যেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
এরপর আবার এক ঘন্টার পথ পেরিয়ে বাড়িতে ফিরলাম। আমাদের ইচ্ছে ছিলো সন্ধ্যার আগেই বাড়িতে ফেরার, সেই কারণেই দুপুরের পরপরই রওনা দিয়েছিলাম। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরে বাকি আরও কিছু কাজ গুছিয়ে নিয়েছিলাম। এই ভাবেই গতকালের নিমন্ত্রণ পর্ব সেরেছিলাম। আজ আবার আমাদের প্রতিবেশীদের বেশ কয়েকটা বাড়িতেও নিমন্ত্রণ পর্ব সাড়লাম।
মাঝখানে শুধু কালকের দিনটাই রয়েছে। তারপর আমাদের দশ দিনের কাজ। এগারো দিনে শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান সবকিছুই বাকি। যেগুলোর জন্য অনেক কিছু কেনাকাটার পর্ব এখনও বাকি রয়েছে, সেগুলোই আগামীকাল থেকে এক এক করে সারা হবে।
যাইহোক নিমন্ত্রণ পর্বের এই গল্প আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।








