"মৃত্যুর দশম দিনের নিয়ম: ক্ষৌরকর্মের মুহূর্ত"

in Incredible India15 hours ago
IMG_20260418_230702.jpg

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

আজকের সারাটা দিন অনেক বেশি ব্যস্ততার মাঝেই পার হলো। আজ শ্বশুর মশাইয়ের মৃত্যুর দশমদিন। তাই নিয়মমাফিক আজ ছিলো আমাদের ঘাটকাজ বা ক্ষৌরকর্ম।

এই কারণে অনেক সকালে ঘুম থেকে উঠতে হলো। কারণ পুরোহিত মশাই সকাল সাতটার মধ্যেই চলে এসেছিলেন। গতকাল যদিও অনেক রাত্রে শোয়া হয়েছিলো, তবুও আজ সকালেই উঠতে হলো।

IMG_20260418_081747.jpg

আজকের সকল রীতিতে যদিও আমার অংশগ্রহণ তেমন ছিলো না। তবে শুভর সাথে থাকতে হয়েছিলো সব সময়। সেই কারণেই আমারও সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠতে হয়েছিলো। মূলত আজকের সম্পূর্ণ কাজ নদীর পাড়ে হওয়ার নিয়ম রয়েছে, কিন্তু আমাদের আশেপাশে নদী না থাকায় আমাদের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একজন আত্মীয়র বাড়িতে পুকুর পাড়ে বসে আমরা আজকের কাজ সম্পন্ন করেছি।

IMG_20260418_081900.jpg
IMG_20260418_231026.jpg
IMG_20260418_082452.jpg

সকালে বেশ রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ ছিলো। সময়মতো পুরোহিত মশাইকে সাথে নিয়ে আমরা সকলেই রওনা করেছিলাম সেই পুকুর পাড়ে। সেখানে বেশ কিছু কাজ করতে হতো, সেখানে অনেকটা সময় ব্যয় করার পর পুকুর থেকে স্নান করে উঠে শুভ প্রথমে হবিষ্য রান্না শুরু করলো।

IMG_20260418_083752.jpg

এই রান্না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সকলকেই অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। এরপর এক এক করে পিণ্ডদানের মাধ্যমে বাকি সকল নিয়মকানুন পালিত হলো। সামনে থেকে কাজটা দেখে খানিকটা চতুর্থীর কাজের মতোই লাগলো।

IMG_20260418_090104.jpg

তবে আজ শুধু পুরোহিত মশাই নয়, সেলুন থেকে একজন পরামানিককেও ডাকতে হয়েছিলো। কারণ নিয়ম অনুসারে শুভকে আজ ন্যাড়া হতে হয়েছে। ছেলেদের ক্ষেত্রেই কেবলমাত্র সব চুল কেটে ফেলার নিয়ম রয়েছে। তবে আমি যেহেতু ছেলের বউ, তাই চুলের আগা থেকে সামান্য চুল কাটতে হয়েছে আমাকে।

এই সকল কাজ শেষ হতেই এগারোটার বেশি বেজে গেলো। সব নিয়মকানুন শেষ করার পরে আমি এবং শুভ দুজনেই পুকুর থেকে স্নান করে সোজা বাড়িতে এসে আরও একবার ভালোভাবে স্নান করার পর, নতুন পোষাক পড়ে নিলাম।

IMG_20260418_094717.jpg

আজকের মতো নিয়ম এই পর্যন্তই ছিলো। আগামীকাল রয়েছে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান, যার জন্য অনেক কিছু বাজার করার প্রয়োজন ছিলো। দুপুর বেলায় বসে সেই সমস্ত কিছু লিস্ট করে ফেলেছিলাম আমি আর ননদ মিলে।

সন্ধ্যাবেলায় ননদ এবং শুভর মামা দুজন মিলে গিয়ে সম্পূর্ণ বাজার সম্পন্ন করে নিয়ে এসেছিলো। সেই সমস্ত জিনিস এই গোছগাছ করার পর, এখন একটু সময় পেলাম এবং সেই ফাঁকা সময়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য পোস্ট লিখতে বসলাম।

আগামীকাল খুব সকালে উঠতে হবে এবং আগামীকালের নিয়ম পালন করতে অনেকটা সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। চেষ্টা করবো সেইসব মুহূর্ত ছবির মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করার। সকলের সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা করে আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।