১৪৩৩ শুভ নববর্ষ উদযাপন
![]() |
|---|
আশাকরি সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের আশীর্বাদ নিয়ে )কিছুটা সুস্থ আছি। নতুন সূর্য উদয়ের সাথে সাথে একটি দিন শুরু হয় তেমনি আবার সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে রাত নেমে আসে । রাতের অন্ধকার দূর হওয়ার সাথে নতুন একটি সকাল হয়, এভাবেই কেটে যায় দিন ,সপ্তাহ, মাস এবং বছর।
দেখতে দেখতে ১৪৩২ বাংলা বছরটি কিভাবে যে পার হয়ে গেল তাই বুঝতে পারলাম না ।১৪৩৩ নতুন বছরে পা দিল। বিদেশীদের এর সাথে তাল মিলিয়ে আমরা ইংরেজি বছরের প্রথম দিন ( Happy New year) উদযাপন করে থাকি।
![]() | ![]() |
|---|
তেমনি বাঙ্গালীদের কাছে নতুন বছরের এই দিনটি অনেক গুরুত্বের এবং ভালোবাসার। বাঙালি সব সময় উৎসব প্রিয় ।নববর্ষ হল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব ।বর্তমান সময়ে নববর্ষ শুধু ব্যবসায়ী কিংবা গ্রাম বাংলায় পালন করা হয় না ।গ্রাম বাংলার সাথে সাথে শহর গুলোতে নববর্ষ উদযাপন করা হয়।
![]() | ![]() | ![]() |
|---|---|---|
![]() | ![]() | ![]() |
এই দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি - বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছুটি থাকে এবং নববর্ষ উদযাপন করার জন্য সরকার উৎসব ভাতা দিয়ে থাকেন । শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো নানা রং এর আল্পনায় সেজে উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সেজেছে নতুন সাজে।শোভা যাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পান্তা ইলিশ খাওয়া, বৈশাখী মেলা সব মিলিয়ে উৎসবে মেতে উঠে রমনার বটমূল ।
নববর্ষ উপলক্ষে ১ম দিন কেন যে লাল সাদা রঙের শাড়ি পড়তে হয় কিংবা ইলিশ মাছ দিয়ে পান্তা ভাত খেতে হয় ?এ প্রশ্নের উত্তর আমি আজও খুঁজে পাইনি । আমি ধারণা করেছি ,গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব হলো বর্ষবরণ ।তখনকার দিনে ফ্রিজের ব্যবস্থা ছিল না । চৈত্রের গরমে খাবারগুলো নষ্ট হয়ে যেত ।
গ্রাম বাংলার বেশিরভাগ মানুষ কৃষি কাজে নিয়োজিত থাকতো । সকালবেলা মাঠে যাওয়ার সময় তারা ভারি খাবার খেয়ে যেতে বেশি পছন্দ করত ।এই প্রচন্ড গরমে গরম ভাত খেতে ভালো লাগতো না তাই রাতের বেলা বেশি করে ভাত রান্না করে তাতে জল দিয়ে রাখত । সকালবেলা সেই ভাত হতো পান্তা ভাত ।চৈত্র মাসের রোদফাটা গরমে এই ঠান্ডা ভাত কৃষকদেরকে শীতল রাখতো ।পান্তা ভাতের সাথে সব সময় ইলিশ মাছ থাকবে এমন কোন বিষয় ছিল না। তবে ,কাঁচা পেঁয়াজ এবং শুকনা মরিচ সবার ঘরে থাকতো ।
পান্তা ভাত খাওয়াটা এখন ঐতিহ্যে পরিণত হয়ে গেছে। মাছে ভাতে বাঙালি , তখনকার সময় নদী ,খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত তাই সকালবেলা পান্তা ভাতের সাথে মাছ ভাজা খেত । বাংলা দেশের ইলিশ মাছের কোন তুলনাই হবেনা ।সাথে আলু ভর্তা সহ বিভিন্ন ধরনের ভর্তা তৈরি করা হতো।
![]() | ![]() |
|---|
আমিও আজকে তৈরি করে নিলাম চিংড়ি মাছ ভর্তা, আলু ভর্তা এবং ইলিশ মাছ ভাজি তার সাথে ছিল কাঁচা পেঁয়াজ, শুকনো মরিচ ভাজি আর পান্তা ভাত।
লাল শাড়ি পরার কারন হতে পারে ব্যাবসায়িক গণ তাদের সারা বছরের হিসাব রাখার জন্য লাল কাপড়ে মোড়ানো নতুন খাতা বানাতেন এবং পহেলা বৈশাখ হালখাতার মাধ্যমে তারা ক্রেতাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হতো ।তাদেরকে মিষ্টিমুখ করানো হতো এবং বিগত বছরের দেনা পাওনা হিসাব করা হতো । ক্রেতা সাধ্যমত তাদের বাকি পরিশোধ করতেন। হয় তো সেই নতুন খাতার সাথে মিল রেখে পহেলা বৈশাখে লাল সাদা রংয়ের পোশাক পড়ার প্রচলন শুরু করে ।
সকলের ছুটি থাকা সত্ত্বেও বছরের শুরু এই দিনটি আমরা একত্রে পালন করতে পারিনি । অফিসে প্রোগ্রাম ছিল তাই আর্মি বাবুর অফিসে থাকতে হলো । মেয়েকে নিয়ে আমার কলেজে আসতে হলো ।
![]() | ![]() |
|---|
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে স্নান করে ঠাকুর পুজো দিয়েছি। বছরের প্রথম দিন প্রার্থনার মাধ্যমে শুরু হোক। এখানে কোন পুকুর না থাকায় আমি গঙ্গা পূজা করতে পারিনি ।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজকে (১৫ এপ্রিল ) ছিল চৈত্র মাসের শেষ দিন কিন্তু বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজকে ছিল পহেলা বৈশাখ । পরের দিনে সবাই কলেজ ,অফিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে তাই এই দিনটি আমি (১৫ এপ্রিল ) পালন করেছি ।চিংড়ি মাছ ভর্তা ,আলু সিদ্ধ ,ইলিশ মাছ ভাজি, শুকনো মরিচ ভাজি ,সমস্ত কিছু টেবিলে সাজিয়ে রেখে সকালবেলা মেয়েকে নিয়ে ছুটলাম কলেজে ।
![]() | ![]() |
|---|
কলেজের শিক্ষার্থীদের তৈরি করা বিভিন্ন ধরনের স্টল সাজিয়ে ছিল । নানা ধরনের কেক , পিঠা তৈরি করে নিয়ে এসেছিল ।পড়াশোনার সাথে তারা এই কাজের সাথে নিজেকে সংযুক্ত করে রেখেছে তা দেখে ভালই লাগে।
আমরা বিমান বাহিনী জাদুঘরে বৈশাখী মেলায় গিয়েছিলাম ।তাদের আমন্ত্রণে মামনি সেখানে সংগীত পরিবেশন করে। প্রচণ্ড গরম ছিল তাই আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি। আমরা বৈশাখী মেলায় কিছু সময় থেকে বাসায় চলে আসি।
বাসায় এসেছে পান্তা , ইলিশ দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়েছি ।বিকেলবেলা আর্মি বাবুর সাথে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম । তিনি সকালবেলা আমাদের নিয়ে কোথাও যেতে পারিনি তাই তিনি বিকেল বেলা আমাদেরকে নিয়ে বেরিয়ে ছিল। বৈশাখী মেলা মানে পুতুল নাচ , নাগরদোলা , নৌকা ,রেলগাড়ি , বিভিন্ন পিঠা ও বাহারি সব খাবারের স্টল দেখা যায়। আজকের বিশেষ দিনটা অনেক সুন্দর ভাবে উদযাপন করলাম ।আপনারা কে কিভাবে এই দিনটি উদযাপন করেছেন ?সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে পারেন।
নতুন বছর সবার ভালো কাটুক সেই শুভকামনা জানিয়ে আজ এখানে বিদায় নিচ্ছি।
কিছু ছবি WhatsApp থেকে নেওয়া ।
















