মামির জন্মদিনে

in Incredible India12 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG-20260508-WA0002.jpg

আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব ২৪ শে বৈশাখ দিনটির সুন্দর মুহূর্ত ।আমাদের বাড়িতে মোটামুটি প্রত্যেকেই জন্মদিন সেলিব্রেশন করা হয়। বাড়ির বউ দেখে বাচ্চা সকলেরই জন্মদিন সেলিব্রেশন করা। এটা আমি ছোট থেকেই দেখে আসছি ।আমি যখন ছোট ছিলাম দিদা আমাদের জন্মদিন খুব ভালোভাবেই করত। কিন্তু শুধু যে ছেলেদের করে এমনটা নয়। বৌমাদেরও জন্য যে টুকুনি পারে সাধ্যমত আয়োজন করে দেয়। বৈশাখ মাস পড়তেই দিদা আমার মাথা খারাপ করে দেয় কবে ২৪ শে বৈশাখ আসবে, সেই দিনটির জন্য। যাতে আমি আগে থেকে উনাকে মনে করিয়ে দিই। মামিকে জন্মদিনে পায়েস রান্না করে দেওয়ার জন্য ।এইরকম শাশুড়ি হয়তো মেয়েরা ভাগ্য করেই পায়। মামী নিজের মুখেই বলে আমার মা কখনো আমাকে পায়েশ রান্না করে দিত না। কিন্তু বিয়ের পর থেকে একটা দিনের জন্য আমার শাশুড়ি মা কিন্তু ভোলে না।

IMG_20260511_000819.jpg

পঁচিশে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন ২৪ শে বৈশাখ মামির জন্মদিন। এদিকে বাইশে শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু দিন আর একুশে শ্রাবণ আমার মামার মেয়ের জন্মদিন আশ্চর্য বিষয়। মা মেয়ের দুজনেরই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগের দিন জন্মদিন ও মৃত্যু দিনের সাথে মিল রয়েছে। প্রত্যেক বছরই মামা-মামী বোন ও সকলের জন্মদিনে আমাদের নেমন্তন্ন করে ।মামার বাড়ি যেকোনো কাজ হবে আমাকে ছাড়া হয় না। আর দিদা তো সকাল থেকেই শুরু করে দেয় কখন আসবে ওনার মুখে এই একটাই কথা। সারাদিন যদি উনার কাছে বসে থাকি তাহলে তো ওনার ভীষণ ভালো হয়। সেদিন মামা ছিল বাড়িতে ।তাই বেশিরভাগ রান্না বান্না মামা নিজের হাতেই করেছিল।

IMG-20260508-WA0017.jpg

স্বামী হয়ে জন্মদিনে বউকে সমস্ত রান্না করে খাওয়ায় এরকম পুরুষও খুব কম দেখা যায়। জন্মদিনের ঠিক যেমন করে খেতে দেওয়া হয় সমস্ত রকমের আয়োজন করা হয়েছিল ।দুপুরে রান্না শেষ হলে তবে মামিকে খেতে দেওয়া হয়েছিল ।কিন্তু তার আগে আমার বর উনি চলে গিয়েছিল উনার নাকি বাইরে বেরোনোর তাড়া ছিল। তাই উনাকে আগে খেতে দেওয়া হয়েছিল। তারপর সমস্ত রান্না কমপ্লিট হলে মামিকে সাজিয়ে গুছিয়ে খেতে দেওয়া হয়েছিল। মামিকে দিদা ধান, দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করেছিল। এরপর মামি সমস্ত খাবার খেয়ে নিয়েছিল। এরপর আমরা সকলে মিলে একসাথে খেতে বসে আনন্দ উপভোগ করছিলাম । প্রত্যেক বছরের এই বিশেষ দিনে সকলের সাথে আনন্দ করতে ভালো লাগে।আসলে দিদা আগেকার মানুষ সকলকে একসাথে খেতে দিয়ে নিজেও খেতে ভীষণ ভালো বাসে।

যাইহোক সেদিনের প্রত্যেকটা মুহূর্তই সুন্দর ছিল।সেদিন কে সকলের সাথে সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছিলাম। কিন্তু জন্মদিনে খেয়ে কোন গিফট দেওয়া হয়নি। মামিকে গিফট দেওয়াটা এখনো বাকি আছে। সময় সুযোগ পেলে হয়তো কিনে নিয়ে আসা হবে। এখনো বেরোনোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি। বাড়ির কাছেই সমস্ত কিছু হলেও সময়ের অভাবে বেরোতে পারি না ।অনেক সময় সঙ্গীর অভাবেও বেরোনো হয় না।


আজ এখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...


image.png
Curated by:@wirngo