কৃষ্ণনগরে যমরাজের পূজা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোষ্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আমাদের উৎসবের শহর কৃষ্ণনগর। কৃষ্ণনগরে সাথে আমাদের অনেক ভালোবাসা আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। কৃষ্ণনগর এমন একটি জায়গা যে সারা বছর কোন না কোন উৎসব লেগেই থাকে। যদিও বা কোন উৎসব না থাকে তাহলে তখন যে কোন মেলা চলতে থাকে। ঠিক যেমন এখন বৈশাখ মাস জুড়ে চলছে বারো দোলের মেলা। আমি তো ছোট থেকে বিভিন্ন মেলা বিভিন্ন রকমের পূজা অর্চনার নাম শুনে আসছি। এছাড়াও ছোট থেকে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি পুজো হতে দেখে আসছি। তবে আমার মনে হয় আমার মত হয়তো অনেকেই জানে না বেশ কিছু বছর ধরে আমাদের কৃষ্ণনগরে যমরাজে পূজা করা হয়। তবে আগে হতো কিনা আমার জানা নেই।কি কারণে হয় আমার তাও জানা নেই।বেশ কিছু বছর ধরে আমাদের কৃষ্ণনগরে খনিজ পার্ক নামে একটি জায়গায় যমরাজের পূজা করা হয়। যখন পুজো হতো তখন শুনতাম এই পুজো সম্পর্কে। শুনে একটু অবাক হতাম।আর মনে মনে বলতাম মানুষ এখন যমরাজ কে পূজা করে। শুনলে হয়তো আমার মত অনেকেই অবাক হবেন।
আমার তো মনে হয় কৃষ্ণনগর বলে সব কিছুই সম্ভব।প্রত্যেক বছর একই সময় তিথি অনুযায়ী এই পূজা হয়, প্রত্যেক বছর এই চৈত্র মাসেই যমরাজের আরাধনা করা হয়। তবে সারা কৃষ্ণনগর জুড়ে ওই এক জায়গাতেই যমরাজের পূজা করা হয়। একটি মোষের উপর যমরাজের মূর্তি তৈরি করে পূজা করা হয়। প্রত্যেক বছরই কানে শুনি। কিন্তু কোনদিন সামনাসামনি দেখার সুযোগ হয়নি। প্রত্যেক বছরই মনে করি যে যখন শুনবো যমজের পূজা হচ্ছে তখন গিয়ে দেখে আসব। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ মিনিটে রাস্তা ।টোটো করে যেতে হয়। গত দুদিন ধরে ফেসবুক খুললেই যমরাজের ছবিটি চোখের সামনে বারবার পড়ছে ।এই পুজোতে খুব একটা উত্তেজনা নেই ।তাই কোন সময় টাই হয় ।সেটাও মনে থাকে না।
গত দুদিন আগে পূজা হয়েছে ।আজকে হয়েছে তার বিসর্জন। আজকে ছোটমামা ওই রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরবার সময় দেখেছিল গাড়িতে করে মূর্তিটি বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি এর আগেই শুনেছিলাম যে ওখানে পুজো হচ্ছে। বর এখন সময় পাইনা তাই ওকে নিয়ে যে দেখতে যাব সেটাও হয় না। আমাদের মত প্রত্যেক ও বাঙালিদেরই হয়তো সমস্ত পুজো নিয়ে এরকম চিন্তা ভাবনা আর উত্তেজনা লেগেই থাকে। তবে সবকিছু নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও এই যমরাজের পুজো নিয়ে এত উত্তেজনা তা আমার জানা ছিল না। আগে ছোট্ট করে মূর্তি করে পূজা করা হতো। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে যমরাজের মূর্তি বড় করে পূজা করা শুরু হয়েছে।
আমাদের মত হয়তো কৃষ্ণনগর বাসীদেরই এইরকম চিন্তাভাবনা মাধ্যমে সমস্ত দেবতার পূজা অর্চনা কে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে। যমরাজের মূর্তিটি দেখতে ভয়ঙ্কর। ছবি গুলো মামার ফোন থেকে নেওয়া।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



