কৃষ্ণনগরে নববর্ষ উপলক্ষে রাস্তায় বাচ্চাদের ছবি আঁকা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।
গতকাল ছিল চৈত্র মাসের সংক্রান্তি। মানে এবছরের শেষ দিন। ইংরেজি নববর্ষের অনেকে অনেক কিছু প্ল্যান করে। ঠিক তেমনি বাংলা নববর্ষ তে ও সমস্ত বাঙালিরা অনেক কিছুই প্ল্যান করে থাকেন। কোনো না কোন প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই চলতে থাকে। বেশ কিছু বছর ধরে আমাদের কৃষ্ণনগরে রাস্তাতে ছবি আঁকার কিছু প্রোগ্রাম হয়। কৃষ্ণনগর পুতুল পট্টি নামে মেইন রোডে সমস্ত শিল্পীরা তাদের শিল্পী দেয় শিল্প গুলি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে। যদিও আমার এগুলো খুব একটা পছন্দ নয়। কারণ একটা শিক্ষার জিনিস সেটা রাস্তাতে করে সকলের পায়ে পায়ে সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। আমি এগুলো একেবারেই অপছন্দ করি। একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে তার সমস্ত স্টুডেন্টদের দিয়ে রাস্তাতে তাদের প্রতিভা গুলি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে সেগুলো ঝড়- বৃষ্টিতে, মানুষের পায়ে পায়ে,এমনকি গাড়িতে গাড়িতে সমস্ত কিছু নষ্ট হয়ে যায়। যদিও বা এগুলো থাকে তাহলে ভালো লাগে।
এ বছরে আমার বড় মামার মেয়ে সে ও ছবি আঁকার জন্য যোগদান করেছিল। ওখানে একবারের জন্যও কোন বছরে মামি পাঠায় না। কিন্তু এ বছরে ওকে পাঠাতে হয়েছে। তাই গত কালকে সন্ধ্যা থেকেই ভাবছিলাম যে ছবি আঁকা গুলো আমি দেখতে যাব। কিন্তু কোন সঙ্গী পাচ্ছিলাম না ।তাই যাওয়া হয়ে ওঠেনি। রাত তখন নটা বাজে ।তখন ছোট মামাকে সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম দেখবার জন্য। গিয়ে তো দেখি সে তো রাস্তাতে প্রচন্ড ভিড় ।যেহেতু ছোট ছোট বাচ্চাগুলো বসে বসে ছবি আঁক ছিল। তাই গাড়ি চলার ভীষণ অসুবিধা হচ্ছিল ।তবুও পাস কাটিয়ে গাড়ি-ঘোড়া গুলো চলাচল করছিল। ভিড়ের মধ্যে বোনকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সে তো আঁকতে ব্যস্ত। গিয়ে দেখি ওখানে ঈশারাণী দাঁড়িয়ে রয়েছে। উনি নাকি সন্ধ্যা থেকেই ওখানে ছিল। আমি তো আর জানি না জানলে হয়তো সন্ধ্যাবেলায় একা একাই চলে যেতাম।
সন্ধ্যা থেকে ওখানে আবৃতি, গান সমস্ত কিছুর অনুষ্ঠান চলছিল ।তার সাথে ছোট ছোট বাচ্চাগুলো তাদের হাতের কাজ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছিল। অনেকটা রাস্তা জুড়ে আঁকা চলছিল।বিভিন্ন রকমের কলকা ডিজাইন আঁকার চেষ্টা চলছিল। প্রচন্ড গরম থাকলেও বেশ সুন্দর ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়া বইছিল। বাচ্চাগুলোর যাতে কষ্ট না হয়। যাইহোক গিয়ে চারিদিকে খানিকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে তাদের প্রতিভা গুলোই আমার বারবার চোখে পড়ছিল। অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে তাদের আঁকাগুলো দেখছিলাম। বোনকে বাড়ি আসার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু বোন আসতে রাজি হলো না ।কারণ অনেক ছোট ছোট বাচ্চাটা ছিল তাদের সাথে বেশ মজাই পাচ্ছিল।
আমি আর বেশিক্ষণ দেরি করিনি ।কারণ আমাকে আবার বাড়ি ফিরতে হবে ।এদিকে ঈশার গান গাইতে অনেকক্ষণ দেরি ছিল ।ওকে রেখেই আমিও আবার বাড়ি ফিরে চলে এসেছিলাম। বাইরে প্রচন্ড হাওয়া বইছিল ।ভাবছিলাম যদি ঝড় উঠে যায় তাহলে আর বাড়ি ফিরতে পারবো না। সেই ভেবেই বাড়িতে চলে আসা। প্রত্যেক বছর এই নববর্ষের আগের দিনে সমস্ত বাচ্চারা এইভাবে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাদের প্রতিভা গুলো রাস্তায় রাস্তায় ফুটিয়ে তোলে বেশ ভালো লাগে দেখতে। কিন্তু সমস্ত কিছুই এক দু দিনের মধ্যেই একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।





