বোনের সাথে বিশেষ দরকারে পোস্ট অফিস যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত দু- দিনের পোস্টে আমি আপনাদের মাঝে নববর্ষ উপলক্ষে কিছু কেনাকাটার মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম ।কেনাকাটা করতে এবারে আমার ছোট বোন আমার সাথে গিয়েছিল। অনেকদিন পর আবার ছোট বোনকে কাছে পেয়েছিলাম। ছোট বোন আর মা বিশেষ দরকারের জন্য মামার বাড়িতে এসেছিল। এখন সমস্ত কাজেই ডকুমেন্ট হিসেবে আমাদের আধার কার্ড লাগে ।বোন বেশ কিছুদিন ধরেই বলছিল তার আধার কার্ডে কিছু কালেকশন করতে হবে। অনেক কিছুই ভুল রয়েছে।সেই সমস্যার জন্যই আমাকে বেশ কিছুদিন ধরে সমাধান করার জন্য বলেছিল। কিন্তু আমি বেশ কিছুদিন ধরে আমার চেনা একজনকে ফোন করে বলেছিলাম। সেই ভাই আমার কথা শুনে মার্চ মাসের ৭ তারিখ নাগাদ আসতে বলেছিল। ভাইটি পোস্ট অফিসে কাজ করে। পোস্ট অফিসেই সমস্ত আধার কার্ডের যাবতীয় সংশোধন করা হয়। এর আগে বহুবার আমি অনেককে নিয়ে গিয়েছিলাম। তাদের আধার কার্ডের বিভিন্ন সমাধান করবার জন্য।
যাইহোক বোন আবার বাসে যাতায়াত করতে পারে না। তাই আগের দিন মামার বাড়িতে চলে এসেছিল। গত মঙ্গলবার আমি আর বোন দুজন মিলে বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ চলে গিয়েছিলাম আমাদের কৃষ্ণনগরে ঘূর্ণি পোস্ট অফিসে । বাড়ি থেকে দূর থেকে তিন মিনিটের হাঁটা পথ।আমাদের কৃষ্ণনগরে দুটো পোস্ট অফিস আছে। একটা হেড পোস্ট অফিস। আরেকটি ছোটখাটো পোস্ট অফিস মানে পুরনো পোস্ট অফিস। দুটোতেই সমস্ত রকম কাজকর্ম হয়। কিন্তু যেটা আমাদের বাড়ির কাছে আমরা সেদিন সেটাতে গিয়েছিলাম ।যাইহোক পোস্ট অফিসে পৌঁছানো মাত্রই গিয়ে দেখি সমস্ত কাউন্টার বন্ধ। অধিকাংশই লোক চলে গেছে ভোটের ট্রেনিং এর জন্য। দেখে তো টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম। কারণ বোন অনেকটা দূর থেকে এসেছিল। বারবার তার সংসার ফেলে আসার একেবারে উপায় নেই।
এদিকে বোন আবার বাসে করে একদমই যাতায়াত করতে পারে না। খানিকক্ষণ পোস্ট অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে ভাইটাকে ফোন করেছিলাম ।ভাইটা কোনমতে একজনকে রিকোয়েস্ট করেছিল আমার বোনের আধার কার্ডটা করে দেওয়ার জন্য। ভোটের সময় এখন সমস্ত অফিসেই কাজকর্ম বন্ধ থাকে। তাই আমাদের মতো সাধারণ মানুষের খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ।সরকারি যে কোন কাজ করতে গেলে আজ নয় কাল এই ভাবেই সাধারণ মানুষকে ঘুরিয়ে দেয়। বহু লোকজন পোস্ট অফিসে এসে বন্ধ দেখে তারা ঘুরে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু আমি আর বোন প্রায় দু ঘন্টা বাইরে বসে ছিলাম ।যাতে আমাদের কাজটা হয়ে যায়। বাইরে কাঠফাটা রোদ ।তাই ভেতরে একটু বসার জায়গা পেয়েছিলাম। ওরাও ওদের মর্জি মতো আমাদের যখন ডেকে ছিলো তখন ভিতরে গিয়েছিলাম।
ভাই অনেক রিকোয়েস্ট করেছিল তাই সেদিন আমাদের কাজটা সুষ্ঠুভাবেই সম্পূর্ণ হয়েছিল। যাইহোক আধার কার্ডের কাজ সম্পন্ন করে আবারও বাড়ির উদ্দেশ্যে দুই বোন মিলে রওনা দিয়েছিলাম। কাজটা না হলে আমারই ভীষণ খারাপ লাগতো ।বোন সেদিন আধার কার্ডের ছবি, ফোন নাম্বার সমস্ত কিছুই চেঞ্জ করেছিল। কারণ বোনের ছোটবেলার আধার কার্ড ছিল। বড় হওয়ার পর আর চেঞ্জ করা হয়ে ওঠেনি। যদি চেনাজানা কোন লোক থাকে তবে কাজগুলো একটু হলেও সহজ হয়। নয়তো এক কাজ করার জন্য হয়তো আমাদের ছ-মাস ঘুরতে হতো আমরা যাওয়া মাত্রই একটা লোক আমাদের সামনেই বলছিল উনি আধার কার্ডের জন্য প্রায় ছয় মাস থেকে ঘুরছেন। কিন্তু এখনো উনি আধার কার্ডটা ঠিক করে উঠতে পারিনি।
এভাবে আমাদের প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষকে যে কোন সরকারি কাজকর্ম করতে গেলেই দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। তবেই হয়তো কাজটা সম্পূর্ণ হয়। নয়তো অনেকেই আবার বেশি টাকার মাধ্যমে যে কোন কাজ করেন। আমার বোনের সাথে ও অনেক টাকা চেয়েছিল তাই বোন কৃষ্ণনগর থেকে আধার কার্ড ঠিক করে নিয়ে গেল।
আজ এইখানে শেষ করলাম। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏