বুদ্ধপূর্ণিমার পুজোর দিন
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
মে মাসের ১ তারিখে ছিল বুদ্ধ পূর্ণিমার পূজা। প্রত্যেক বছর ঈশাদের বাড়িতে বুদ্ধ পূর্ণিমার পূজা হয়। তবে এ বছরে বুদ্ধ পূর্ণিমার আগের দিন ছিল আমার বোনের বিয়ে। সেই মুহূর্তই এতদিন ধরে আপনাদের মাঝে শেয়ার করছিলাম। আগের দিন প্রচন্ড জার্নি হয়েছিল । আগের ঝড় বৃষ্টির মধ্যে ঈশার মা বারবার ফোন করে পুজোর জোগাড় করতে বলেছিল।তাই পরের দিন ভেবেছিলাম একেবারে স্নান করে ওদের বাড়িতে পুজোর জোগাড় করতে যাব। আগের দিন রাতের বেলায় ঈশার মায়ের কথা মতো ভেবেছিলাম ওদের বাড়িতে যেন হাতে হাতে একটু জোগাড় করতে পারি। প্রত্যেক বছর বুদ্ধ পূর্ণিমা পুজোর দিন ওদের সাথেই থাকি। কিন্তু এ বছরেই স্নান করে যেতে যেতে দেখি অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল ।মোটামুটি ওদের সমস্ত কিছু রেডি হয়ে গিয়েছিল। ওরা খুব সকাল বেলায় জোগাড় শুরু করে দিয়েছিল। এমনিতেই আমার মনটা ভালো ছিল না। কারণ আগের দিন বোনের বিয়ে সম্পূর্ণ দেখে আসতে পারিনি।তবুও গিয়েছিলাম পুজো দেখার জন্য।আমি যখন গিয়েছিলাম তখন দেখি ঠাকুর মশাই চলে এসেছিল।
আসলে ওদের বাড়ির ঠাকুরমশাই ভীষণ ভালো, যে সময়ে বলে সেই সময়ে ঠিক চলে আসে। সময়ের এদিক ওদিক হয় না। এইরকম মানুষ আমার খুব ভালো লাগে। ঈশা আর ওর পিসি মিলে মোটামুটি সমস্ত পুজোর জোগাড় কমপ্লিট করে ফেলেছিল। প্রত্যেক টা পুজোতে ওরা খুব সুন্দর আয়োজন করে। পাড়াতে কিছু লোকজন অনেক এছাড়া অনেক আত্মীয় স্বজন নেমন্তন্ন করে। পুজো শুরু হল আমি ও খানিকক্ষণ বসে থাকলাম পুজো দেখবার জন্য। আগের বছরে এই বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে ঈশানের জন্মদিন পড়েছিল। সারা বছরই মোটামুটি ঈশারা সব পুজো করে। তবে এই বুদ্ধ পূর্ণিমার পূজোটা ওদের ঠাকুমার আমলে থেকেই চলে আসছে ।তাই এই পুজোটা ওর মা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। পুরনো আমলের পূজো তাই সমস্ত রীতি-নীতি নিয়ে পুজো করেন।
তবে ওদের সাথে আমার হাতে হাতে পুজোর জোগাড় করতে ভালোই লাগে। এ বছরই আমার গঙ্গা স্নান করা ছিল না ।তাই ওদের বাড়িতে পুজোর জোগাড় করতে যেতে সংকোচ বোধ করছিলাম।বার বার ভাবছিলাম যে ওদের বাড়িতে পুজোয় যাব কিনা। কিন্তু ওরা বলেছিল মাথায় গঙ্গা জল ছিটিয়ে নিলে সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। তবে সেদিন খানিকক্ষণ পুজো দেখার পর বাড়ি চলে এসেছিলাম। কারন ওদের বাড়িতে প্রচুর লোকজন চলে এসেছিল। দুপুর বেলাতে রান্না হয়েছিল ।সমস্ত খাবার আয়োজন করছিল। আমাকে বলা হয়েছিল ওখানে দুপুরে খাবার জন্য। কিন্তু অনেকে ছিল বলে আমি আর ওদের বাড়িতে দুপুরে খেতে যায়নি। পুজো শেষ হবার পরে একবার গিয়েছিলাম প্রসাদ আনতে ।নিজে বসে প্রসাদ খেয়ে বাড়ির জন্য প্রসাদ নিয়ে বাড়ি চলে এসেছিলাম ।
নারায়ণ পূজোর সিন্নি খেতে আমার ভীষণ ভালো লাগে । তাই কাকিমা আমাকে বেশি করে দিয়েছিল। বাড়িতে আসবার পর সেই প্রসাদ আমি নিজেই খেয়েছিলাম। যাইহোক এই পুজোর দিন টা প্রত্যেক বছর খুব ভালো ভাবেই কাটে।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে আবারও হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


Thank you 🙏