"লাচুং গ্ৰামে‌ রেস্টুরেন্টে বসে পাহাড়ি মোমো উপভোগ করার সুন্দর মুহূর্ত"

in Incredible India16 hours ago
IMG_20260509_174911.jpg
"পাহাড়ের বুকে খুঁজে পাওয়া ছোট্ট একটা রেস্টুরেন্ট- Dizzy Yak"

Hello,

Everyone,

কেমন আছেন আপনারা সকলে?
আশাকরি এই প্রচণ্ড গরমে সকলে সুস্থ আছেন। আজকাল যে পরিমাণে গরম পড়ছে তাতে সকলে সাবধানে থাকবেন।

যাইহোক লাচুং ভ্রমনের পরবর্তী পর্বে‌ আপনাদের‌ সকলকে স্বাগত জানাই। আগের পর্বে জানিয়েছিলাম পাহাড়ে মোমো খাওয়ার জন্য আমরা একটা রেস্টুরেন্টের খোঁজ করছিলাম। তাই হাঁটতে হাঁটতে আরও খানিকটা এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

IMG_20260509_171718.jpg
"পুলিশ ফোর্সের ক্যাম্প"

কিছুটা যেতেই চোখে পড়ল ইন্দো তিব্বেতিয়ান পুলিশ ফোর্সের ক্যাম্প। যদিও কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখিনি।

যাইহোক এরপর আরও খানিকটা এগিয়ে যাওয়ার পর, একটা ছোট্ট একটা রেস্টুরেন্ট চোখে পড়লো। যার নাম ছিলো -"Dizzy Yak"। আমাদের সঙ্গে থাকা একজন দাদাকে প্রথমে এই রেস্টুরেন্টে পাঠিয়েছিলাম, মোমো পাওয়া যাবে কিনা সেই খোঁজ নেওয়ার জন্য।

IMG_20260509_175840.jpg
"এই রেস্টুরেন্টেই বসেই আমরা মোমো আর চাউমিন খেয়েছিলাম"
IMG_20260509_175744.jpg
"সাদা রঙের পিস্ লিলি"
IMG_20260509_175811.jpg
"এই সাদা রঙের ফুলটির নাম জানিনা"

আমরা বাকিরা বাইরেই অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ সেখানে দেখলাম সাদা রংয়ের হোয়াইট পিস লিলি ফুল। অপূর্ব সুন্দর লাগছিলো ফুলগুলো দেখতে। তাই আর ছবি তোলার লোভ সামলাতে না‌‌ পেরে, সেখানে গিয়ে ছবি তুললাম। পাশে সাদা রঙের অন্য আর‌ও একটা ছোটো ফুল ফুটেছিলো, তার ছবিটিও তুললাম।

IMG_20260509_183110.jpg
"রেস্টুরেন্টের ভিতরের পরিবেশ"

ততক্ষণে দাদা খবর নিয়ে এসেছিলো এই রেস্টুরেন্টের দ্বিতলে বসার জায়গা আছে। আর সেখানে মোমো পাওয়া যাবে। তাই আর দেরি না করে সকলে মিলে চলে গেলাম, এমন সুন্দর পরিবেশে পাহাড়ের মোমো উপভোগ করার জন্য। বসার জায়গাটা দারুন ছিলো। কাঁচের জানালা দিয়ে দূরের পাহাড় গুলো দেখতে অসাধারণ লাগছিলো।

IMG_20260509_181813.jpg

IMG_20260509_181811.jpg

"আমাদের‌ অর্ডার করা খাবার। আমার সবথেকে ভালো লেগেছিলো মোমো"

সেখানে গিয়ে আমরা দুপ্লেট মোমো এবং দু প্লেট চাউমিন অর্ডার করেছিলাম, যেটা সকলে মিলেই ভাগ করে খেয়েছিলাম। দুটোর টেস্টই ভালো ছিলো। তবে চাউমিন গুলো আমাদের এখানকার তুলনায় অনেকটা মোটা ছিলো। আমার ব্যক্তিগতভাবে মোমোর টেস্টটাই বেশি পছন্দ হয়েছে।

IMG_20260509_175642.jpg

IMG_20260509_175636.jpg

"রেস্টুরেন্টের জানালা দিয়ে প্রথমবার বরফে মোড়া পাহাড় দেখলাম। অপূর্ব ছিলো সেই দৃশ্য"

যাইহোক খাওয়া-দাওয়া শেষ করে হঠাৎ করে বাইরের দিকে চোখ পরতেই দেখলাম, কিভাবে যেন হঠাৎ করে সব মেঘগুলো সরে গিয়ে, পাহাড়ের চূড়ায় সামান্য বরফের দেখা যাচ্ছে। নিজের চোখকেই যেন বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না যে, আমি বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়া দেখতে পাচ্ছি।

IMG_20260509_173156.jpg

IMG_20260509_172544.jpg

"নিজেদের কিছু সুন্দর মুহূর্ত স্মৃতি করে রাখা।"

অনেকক্ষণ বাইরে‌ দাঁড়িয়ে সকলে মিলে সেই দৃশ্য উপভোগ করার পর, সন্ধ্যা নামতেই আমরাও ফিরে এলাম আমাদের হোমস্টেতে। চা খাওয়ার সময় অনেকক্ষণ আগে পেরিয়ে গেলেও, ডাইনিং এড়িয়াতে কিন্তু চা তখনও‌ ফ্ল্যাক্সে রাখা ছিলো। আমি খাইনি বলে আর উপরে যাইনি, তবে বাকীরা চা খেয়ে এসেছিলো।

IMG_20260509_184032.jpg
"আমাদের হোমস্টের ডাইনিং এরিয়া"

বেশ কিছুক্ষণ রেস্ট নেওয়ার পরে হোমস্টের থেকে কেউ একজন দরজায় কড়া নেড়ে জানালো, রাতের খাবার তৈরি হয়ে গেছে। দরজা খুলে ঘরের বাইরে বেরোতেই বুঝতে পারলাম ঠান্ডা বেড়েছে অনেকটাই। যেটা সন্ধ্যাবেলায় বাইরে ঘোরার সময় বুঝতে পারিনি।

IMG_20260509_211057.jpg
"ডাইনিং এর সামনে থেকে তোলা লাচুং গ্ৰামের রাতের সৌন্দর্য্য"

উপরে ডাইনিং এড়িয়ায় গিয়ে দেখলাম খুবই সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং বসার জন্য সেখানে দারুন ব্যবস্থা রয়েছে। বাইরে দাঁড়ালেই দূরের স্থানীয় মানুষের ঘর বা হোমস্টের লাইট গুলো দেখতে জোনাকির মতো লাগছিলো।‌‌ কি‌যে অপূর্ব সে দৃশ্য, তা ছবির মাধ্যমে বা লেখার মাধ্যমে তুলে ধরা অসম্ভব।

IMG_20260509_210259.jpg
"খাবার গুলো এইরকম ভাবেই হটপটে রেখে দেয় হোমস্টেতে।"

সামনেই হটপট এর মধ্যে আমাদের খাবার রাখা ছিলো। যাইহোক কিছুক্ষণ আগে মোমো খাওয়াতে খুব একটা খিদে ছিলো না। তাই সামান্য ভাত, ডাল, মিক্সড সবজি, সাথে পাঁপড় ও ডিম ছিলো যার ছবি তোলা হয়নি। এই সমস্ত কিছু দিয়ে রাতের ডিনার শেষ হলে, তাড়াতাড়ি এসে কম্বলের নিচে ঢুকলাম।

IMG_20260509_205604.jpg
"আমার রাতের খাবার"

তখন এতো ঠান্ডা ছিলো যে দুটো কম্বল গায়ে দিতে হয়েছিলো আমাদের।‌ পরদিন সকালে আমাদের প্ল্যান ছিলো জিরো‌ পয়েন্টে‌ যাওয়ার। তবে যে পরিমাণ ঠান্ডা লাগছিলো, আমরা ভাবছিলাম কি করে‌ যাবো।

যাইহোক এই মুহূর্তে প্রচন্ড গরমের মধ্যে বসে আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য যখন পোস্টটা লিখছি, তখন সেখানকার ঠান্ডা মুহূর্ত মনে করে মনটা শান্তি পাচ্ছে।

এই ছিলো ছোট্ট গ্রাম লাচুং ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা। আপনাদের প্রতিটা মুহূর্তের অভিজ্ঞতা পড়ে কেমন লাগলো, পাশাপাশি সেখানকার পরিবেশের ছবি কতটা উপভোগ করলেন, অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। আর আপনারা কারা কারা এই রকম নৈসর্গিক দৃশ্য নিজের চোখে উপভোগ করেছেন, তা জানাতেও ভুল করবেন না।

সকলে সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।

Sort:  

1000047691.png

Curated By : @dasudi
Loading...