মুদিখানার বাজার করতে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আমাদের নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করি ভালো লাগবে।
আমাদের সমাজে বেশিরভাগ মেয়েরা সমস্ত কাজে পারদর্শী সংসারে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে এক পা ও পিছু পা হয় না। মেয়েরা পারে না এমন কোন কাজ নেই। আমার বিয়ে হয়েছে বেশ কিছু বছর হয়ে গেছে। তবে বাড়ির বাজার দোকান সমস্ত শ্বশুর মশাই করেন। বরকে শেখাতে বললেও উনারা দেন না। উনারা ভাবেন একটা ছেলে বাজার দোকান করতে ছেলের হয়তো কষ্ট হবে। কিন্তু আমি শেখাতে চাইলেও উনারা আমাকে বাধা দেয়। তাই গত দো মাস ধরে ভেবেছিলাম সমস্ত বাধা অতিক্রম করে বরকে দিয়ে বাজার করানো শেখাবো। আর এখনতো প্রচুর দোকান রয়েছে হয়তো মুদিখানা বাজারে স্লিপ দোকানে দিয়ে আসলে ওরা লিস্ট অনুযায়ী জিনিসপত্র বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সব রকমের ব্যবস্থায় রয়েছে। কিন্তু ওই যে শ্বশুরমশাই করতে দেয় না।
গত মাসে বাধ্য হয়ে জোর করে বরকে নিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম একটি মুদিখানা দোকানে ।সেদিন ছিল মে মাসের ৪ তারিখ। সদ্য সেদিন সকলে ভোটে জিতে আনন্দে মাতামাতি করে রাস্তায় বেরিয়ে নাচানাচি করছিল। তাই সে দিন ভয় লাগছিল বাইরে বেরোতে।কিন্তু ভাবলাম রাস্তাঘাট ফাঁকা তাই কোন সমস্যা হবে না ।এদিকে তো লোকজন বাজনা নিয়ে বিজয় মিছিল বের করতে ব্যস্ত। আমি আর আমার বর দুজনে হাঁটতে হাঁটতে চলে গিয়েছিলাম মামার এক বন্ধুর দোকানে। সেখান থেকে এক মাসের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সমস্ত কিছুই নিয়েছিলাম। বাড়ি থেকে শাশুড়ি মা একটা লিস্ট করে দিয়েছিল এছাড়াও বাড়তি প্রচুর জিনিস নিয়েছিলাম। তাই প্রথম আমি বরের সাথে গিয়ে চিনিয়ে দিয়ে এসেছিলাম।আসলে সব জিনিস শিখে রাখা ভালো। কোনটা কখন কাজে লাগে বলা যাবে না।
এক মাসের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুলি যদি হাতের কাছে থাকে তাহলে রান্না করতে অনেক সুবিধা হয়। নয়তো রান্না সময় এটা ওটা পাওয়া যায় না। তখন দোকানে ছুটতে বিরক্ত লাগে। শ্বশুর মশাইয়ের বয়স হয়েছে সমস্ত কাজ আমাকেই করতে হবে। এছাড়াও বরকে শেখানো উচিত। এটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। যে নিজে থেকে শিখতে চায় না তাকে জোর করে শেখানো উচিত।এছাড়াও আমি যদি আমার পছন্দ মত কোন রান্নার জিনিস বানাতে যায়। তখনও হাতের কাছে আমি এটা ওটা পায় না। সেই কারণে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোর করে সেদিনকে আনা হয়েছিল। এছাড়াও এক মাসের সমস্ত বাজার একা আনা সম্ভব নয়। আসলে কিছু মানুষ সারা জীবন যেভাবে চলে তার সেই একই ভাবেই চলতে ইচ্ছে করে ।আমি ছোট থেকে এইভাবে বাজার দোকান করতে দেখেছি আমার দিদাকে দেখেই আমার সমস্ত কিছু শেখা। উনি নিজের হাতে সমস্ত কিছু সামলাতেন।
তবে বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি থেকে এসে দেখি ওদের সমস্ত কিছু একেবারেই উল্টো। তাই এক পরিবেশ থেকে আর এক পরিবেশে এসে নিজেকে ভাব খাইয়ে নিতে বেশ কিছু বছর সময় লেগেছে। তবে সমস্ত কিছু এতদিন মেনে নিতে নিতে হয়তো নিজেকে একটু পাল্টানোর চেষ্টা করেছিলাম। সংসারে সমস্ত কিছু পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করি যাতে সমস্ত দিক বজায় থাকে। যাইহোক সেদিনকে রাতের বেলায় একদম ফাঁকায় ফাঁকায় বাজার করতে বেশ ভালোই লেগেছিল। কেনাকাটা করে একটা টোটো করে বাড়ি চলে এসেছিলাম। বরের বেশ ভালোই লেগেছিল। তাই এই মাসে একা একা গিয়ে সমস্ত বাজার করে এনেছে।শিক্ষার যেমন কোনো বয়স হয় না। ঠিক তেমনি কোনো কিছু শেখার ও বয়স হয় না। পরিস্থিতির চাপে সব কিছু শিখতে হবে।
আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



Thank you 🙏