জেনারেল রাইটিং : জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্য বৃদ্ধি।
সবাইকে শুভেচ্ছা।
কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালো আছেন। বেশ কিছুদিন পর আজ হাজির হলাম আমার বাংলা ব্লগে।তেল নিয়ে তেলেসমাতি চলছে আমাদের দেশে। ইরান-ইজরাইল- আমেরিকার যুদ্ধ সারা বিশ্বেই প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলে। আমাদের দেশে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছে মানুষ। সরকার বলছে তেলের সংকট নেই। কিন্তু ব্যবহার কারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করেছে। তেলের পাম্পের সামনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন এখন সারা দেশের চিত্র। আবার কেউ কেউ বলছেন, অনেক মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করে জমিয়ে রাখছেন। এটি একেবারে অসত্য মনে হয়নি। এটি আমাদের বাঙালির স্বভাব। হুজুগে মেতে উঠি আমরা!
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই জ্বালানি তেল সংকটে পড়েছে। তেল সংকট সমাধানে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন টোকেন সিস্টেম, ফুয়েল কার্ড চালু, তেলের পাম্প গুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, তেলের মজুমদার বিরোধী অভিযান, বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ ও জ্বালানি তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় অসাধু চক্রের কারণে কাঙ্খিত সুফল আসছেনা। যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একটি যুদ্ধের প্রভাব সারা বিশ্বের মানুষকে কিভাবে ভোগান্তিতে ফেলতে পারে তার বড় প্রমাণ জ্বালানি তেল সংকট।
তেল নির্ভর সেচযন্ত্র দিয়ে যারা কৃষি কাজ করে,সেইসব কৃষক তেল সংকটে দিশেহারা। শুধু কৃষক নয়, সামগ্রিক ভাবে যখন জ্বালানি তেল নিয়ে মানুষ দিশেহারা ঠিক তখনই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করতে সরকার বাধ্য হয়েছে। সরকারের ভাষ্য বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি ছাড়া তাদের উপায় ছিলনা। গতকাল সরকার তেলের যে মূল্য বৃদ্ধি করেছে তা এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ। প্রতি লিটার তেলে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। ডিজেল আগে ছিল ৯৯ টাকা এখন ১১৫ টাকা,কেরোসিন আগে ছিল ১১২ টাকা এখন ১৩০ টাকা,অকটেন আগে ছিল ১২০ টাকা এখন ১৪০ টাকা ও পেট্রল আগে ছিল ১১৬ টাকা এখন ১৩৫ টাকা ।সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে কতটা সংকট মোকাবিলা করতে পারবে সামনে, তা এখন দেখার বিষয়। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রায় আরো বেশি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। জনজীবনে অস্থিরতা দেখা দিবে। সরকারের বড় কাজ হবে জনজীবনের অস্থিরতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।
নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া। আজ এই পর্যন্ত বন্ধুরা, সবাই ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
ঢাকা-বাংলাদেশ।
১৯ এপ্রিল, ২০২৬

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.