মেয়েদের দমিয়ে রাখা সমাজ।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
বর্তমানে আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায় সন্তান জন্ম নেওয়া মানেই পুত্র সন্তান সবাই আশা করে, যেন সেই সন্তানকে খুব সুন্দর ভাবে বড় করতে পারে এবং মানুষের মত মানুষ করতে পারে। কিন্তু কন্যা সন্তান অনেক মানুষই চায় না এবং খুবই মূল্যহীন মনে করে কন্যা সন্তানকে। অনেক পরিবার এমন আছে যারা কন্যা সন্তানকে সন্তান বলে মনে করে না এবং বাড়ির বোঝা বলে মনে করে। তারা বুঝেই না বর্তমান সমাজে কন্যা সন্তান কতটা এগিয়ে থাকতে পারে যদি তাদের সঠিক পরিবেশ এবং সাহায্য দেওয়া যায়। তবে অনেক পরিবার এমনও আছে যারা কন্যা সন্তান খুবই ভালোবাসে এবং পছন্দ করে তবুও কোন সন্তান জন্ম দিতে বিভিন্ন কারণে ভয় করে। কারণ বর্তমান সমাজে আমরা বিভিন্নভাবে দেখে আসছি যে কন্যা সন্তানের ওপর কিভাবে অত্যাচার হয় আর তাদের জীবন যাপন করা কতটা কষ্টকর হয়ে থাকে। কন্যা সন্তান মানেই প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়া। কন্যা সন্তানদের বেঁচে থাকতে যেমন বাধা বিপত্তি ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় তেমনি পড়াশোনার ক্ষেত্রে ও তারপর যখন নিজস্ব পরিচয় তৈরি করতে চেষ্টা করে অর্থাৎ আর্থিকভাবে বিভিন্নভাবে সক্ষম হওয়ার চেষ্টা করে সেসব দিক থেকেও প্রচুর বাধার সম্মুখীন কন্যা সন্তানদের হতেই হয়।
এমনকি বিবাহিত জীবনের পরেও বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি ও আর্থিকভাবে দুরবস্থার সম্মুখীন কন্যা সন্তানদের হতে হয়। যেসব মেয়েরা বিবাহের পরেও আর্থিকভাবে সক্ষম অর্থাৎ কোন চাকরি করে বা নিজস্ব কোন ব্যবসা করে তাদেরও জীবনে অনেক কষ্ট ও বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতেই হয়। একজন কন্যা সন্তানের জীবনে যতটা সংগ্রাম করতে হয় জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ততটা সংগ্রাম কোনই পুত্র সন্তানের করার প্রয়োজন হয় না কারণ তাদের ক্ষেত্রে সবকিছু নির্ধারিত থাকে যে তারা জীবনে কি কি কাজ করবে এবং কি কাজ করবে না। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জায়গায় কন্যা সন্তানদের সুন্দর জীবন যাপনের জন্য সুন্দর ব্যবস্থা এবং নিয়মকানুন থাকলেও আমাদের সমাজে তেমন কোন সুন্দর ব্যবস্থা এবং নিয়মকানুন নেই। যে কারণে আমাদের সমাজে কন্যা সন্তান খুবই অসুরক্ষিত থাকে। কোন অঘটন ঘটলে প্রতিনিয়ত কন্যা সন্তানদেরই দোষ ধরা হয়, সেখানে তার উপস্থিতির দোষ ধরা হয় এবং তার পোশাকের ও দোষ ধরা হয়। কিন্তু কখনোই এমনটা চিন্তা করা হয় না যে সেই পুরুষ মানুষটি সেই অঘটন ঘটানোর জন্য সেখানে কেন উপস্থিত ছিল। আমাদের সমাজে দেখা যায় অন্যায় যদি কোন কন্যা সন্তানের ওপরেও হয় তবুও শাস্তি সেই কন্যা সন্তানই পেয়ে থাকে।
মেয়েদের পোশাক মেয়েদের চরিত্র নিয়েই প্রতিনিয়ত অপমানিত হতে হয় মেয়েদেরকেই কিন্তু ছেলেদের কোনভাবেই বলা হয় না যে তারা কেন সেই মেয়েকে অসম্মান করল বা তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করল। একটা পরিবারে যখন কোন সন্তান এবং পুত্র সন্তান উভয় থাকে তখনও দেখা যায় যে পুত্র সন্তানকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেওয়া হয় কিন্তু কন্যা সন্তানকে তার অর্ধেক স্বাধীনতাও দেওয়া হয় না বরং বিভিন্ন বাধা নিষেধের মধ্যে রাখা হয়। তাকে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতেই দেওয়া হয় না আর জীবনে উন্নতি মূলক কোনো কাজই করতে দেওয়া হয় না। সমাজে যদি পুত্র সন্তানদের তার বাবা-মা সঠিক শিক্ষা দিতে পারে, মেয়েদের সাথে কেমন ব্যবহার করা উচিত, কিভাবে মেয়েদের অসময়ে বা বিপদে পাশে থাকা উচিত, মেয়েদের কিভাবে সম্মান আর প্রটেক্ট করা উচিত এমন বিভিন্ন শিক্ষা দিয়ে ছেলেদের কেউ যদি মানুষের মতো মানুষ করে তোলা যেত তবে এই সমাজে মেয়েরা এত অসুরক্ষিত থাকতো না। এমন অনেক ছেলে আমরা দেখে থাকি যারা মেয়েরা বিপদে পড়লে তাদের সুরক্ষিত করে এবং সুরক্ষিত স্থানে বা তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়, কিন্তু এমন পুরুষ মানুষ খুবই কম আছে যারা অসময়ে মেয়েদের কোন ভাবেই সুযোগ নেয় না বরংচ তাদের সুরক্ষা দেয়।
আমরা দেখে আসছি সমাজের মানুষেরা এবং পরিবারের মানুষেরাও বিভিন্নভাবে মেয়েদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে থাকে যার ফলে এই কন্যা সন্তান কোনভাবেই স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে পারে না এবং পুরুষ মানুষের মত এই সমাজে সুন্দরভাবে সফলতা অর্জন করতে পারে না। যেসব মেয়েরা এই সমাজে এবং পৃথিবীতে সুন্দর একটি পরিচয় পরিচিত হয়েছে তাদের জীবনে দেখলে আমার প্রতিনিয়ত দেখতে পারবো প্রচুর বাধার সম্মুখীন হয়ে এবং সমস্যা ও বিভিন্ন দুঃখ-কষ্ট মোকাবেলা করে তবে সে এই স্থানে পৌঁছেছে। আবার এদিকে বিভিন্ন যোগ্য মেয়েরা ও প্রতিভাশালী মেয়েরা নিজের প্রতিভা বিভিন্ন বাধা ও বিপত্তির কারণে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। শুধুমাত্র একটু সুযোগ আর পরিবারের ও সমাজের সাপোর্টের অভাবে অনেক কন্যা সন্তানই নিজের সফলতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা যদি আমাদের সমাজে দৃষ্টান্তমূলক অনেক সফলতা দেখতে চাই এবং সমাজকে উন্নত করতে চাই তবে অবশ্যই আমাদের কন্যা সন্তান ও পুত্র সন্তান উভয়কেই সমানভাবে স্বাধীনতা দেওয়া উচিত এবং সুন্দর জীবন যাপন ও সুরক্ষা প্রদান করা উচিত। যেন তারা জীবনে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে এবং সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।

