সবকিছু সহ্য করতে নেই।

in আমার বাংলা ব্লগ5 hours ago


কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।


17765781763273997247551870979193.png


সোর্স



আমাদের ছোটবেলা থেকেই একটা ক্ষমতা যেটা থাকে সেটা হলো সহ্য ক্ষমতা। কিছু কিছু মানুষের সহ্য ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে আবার কিছু কিছু মানুষের সহ্য ক্ষমতা ভীষণই কম থাকে। তবে আমার মনে হয় যেসব মানুষের মধ্যে সহ্য ক্ষমতা বেশি আছে সেসব মানুষরা অনেক বেশি ঠান্ডা মস্তিষ্কের এবং মানসিক দিক থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে। আসলে আমাদের সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের জীবনকে অনেক বেশি সুন্দর এবং সহজ করে তুলতে সাহায্য করে। যেসব মানুষের সহ্য ক্ষমতা ভীষণই কম সেসব মানুষ অনেক কিছুই সহ্য করতে পারে না এবং ধৈর্য ধরে না পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারে না যার ফলে তার জীবনে অনেক বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর ধৈর্য না ধরতে পারার কারণে জীবন থেকে অনেক কিছু হারিয়ে যায় ও অনেক সফলতাও দূরে সরে যায়। তাই ধৈর্য ধরা আমাদের জীবনের সফলতার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। ধৈর্য ধরে থাকতে পারলে আমরা অনেক সময় আমাদের জীবনে সফলতা দেখতে পাই আবার আমাদের জীবনে অনেক ভালো কিছু ঘটতেও আমরা দেখতে পাই। ধৈর্য আমাদের জীবনের জন্য অনেক উপকারী জিনিস কিন্তু তাই বলে সব ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরা মোটেও আমাদের উচিত নয়।


আমরা যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধৈর্য ধরে রাখি তবে দেখা যাবে অনেক সুন্দর পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ধৈর্য ধরে অনেক সময় আমরা ভাবি যে সময় আসলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু কিছু কিছু সমস্যা এমন থাকে যা ধৈর্য ধরে থাকলে আরও বেশি বাড়তে থাকে। কিছু কিছু সমস্যা আমাদের ধৈর্য না ধরে ঘোরা থেকেই শেষ করে দেওয়া প্রয়োজন রয়েছে আবার কিছু কিছু সমস্যার জন্য আমাদের ধৈর্য ধরার প্রয়োজন রয়েছে, আমাদের প্রতিনিয়ত এই ব্যাপারটা বুঝতে হবে যে কোন বিষয়ে আমরা ধৈর্য ধরে থাকবো এবং কোন বিষয়ে আমরা সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া দেখাবো। আমাদের একটা জিনিস ভুললে চলবে না যে কিছু কিছু মানুষ এমন হয় যারা প্রশ্রয় দিলে মাথায় উঠে। এইসব মানুষের খারাপ কর্মকান্ডে যদি আমরা সাথে সাথে প্রতিবাদ না করি তবে তারা আমাদের ধৈর্য এবং সহ্য কে নিজের সঠিককর্ম বলে মনে করে যার ফলে একটা সময়ে আমাদের ধৈর্য ধরার ফলে এসব মানুষের খারাপ কর্মকান্ড এতটা বেড়ে যায় যে পরবর্তীতে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলেও একটা খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই অবশ্যই খারাপ মানুষের আচরণে এবং কর্মকাণ্ডে প্রথম থেকেই প্রতিবাদ করা প্রয়োজন।


সব মানুষ আমাদের বিশ্বাসের যোগ্য হয় না অর্থাৎ সব মানুষকে আমরা বিশ্বাস করতে পারি না আমাদেরকে প্রতিনিয়ত বুঝেশুনে মানুষকে বিশ্বাস করার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যদি কাউকে অল্প দিনের পরিচয় অনেক বেশি বিশ্বাস করে ফেলি এবং সে আমাদের উপর যে অন্যায় অবিচারটা করছে সেটা আমরা না দেখা বা না বোঝার চেষ্টা করি আর প্রতিনিয়ত মনে করি যে একদিন সে ঠিক হয়ে যাবে এবং আমাদের ভালবাসবে আর তার সাথে ধৈর্য ধরে বসে থাকি তবে এটা আমাদের জীবনের চরম ভুল। আমাদের জীবনের যেকোনো সম্পর্ক যদি আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং আমরা দিনের পর দিন ধৈর্য ধরে বসে থাকি যে একদিন ঠিক হয়ে যাবে তবে সেই একদিন টা কখনোই আসবেনা আর আমাদের সহ্য করতে করতে আর ধৈর্য ধরতে ধরতে জীবনটাই শেষ হয়ে যাবে। তাই খারাপ মানুষকে কখনোই বেশি মাথায় চড়তে দেওয়া যাবে না আর নিজের আত্ম সম্মানকে সবসময় মূল্যায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যদি নিজেকে ভালোবাসি নিজের ভালো-মন্দ বুঝি তবে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা বুঝতে পারবো যে কোথায় আমাদের ধৈর্য ধরার প্রয়োজন রয়েছে এবং কোথায় আমাদের প্রতিবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে।


আমাদের সহ্য ও ধৈর্য সেখানেই ধরতে হবে যেখানে আমরা ভালো একটা ফল পেতে পারি সাফল্য পেতে পারি এবং অন্য কারো অথবা নিজের কোন উপকার হয়। কিন্তু যেখানে আমাদের ধৈর্য ধরা পুরোই বৃথা আর অনিশ্চিত সেখানে আমাদের সহ্য ধৈর্যের কোন কাজ নেই। কোন অন্যায় অবিচার দেখলে অবশ্যই আমাদের সহ্য বা ধৈর্য না ধরে তখনই প্রতিবাদ করতে হবে, মানুষকে কখনো কোন কাজে উৎসাহ দেওয়া যাবে না বা খারাপ কোন কাজ দেখলে চুপ করে থাকা যাবে না যেটা আমাদের নিজেদের বা অন্যের কোন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেসব কাজে আমাদের সহ্য এবং ধৈর্যের প্রয়োজন রয়েছে, জীবনে যেসব সফলতা অর্জন করার জন্য আমাদের ধৈর্য ধরার প্রয়োজন রয়েছে সেই সব কাজের জন্যই আমাদের ধৈর্য ধরে থাকতে হবে। জীবনে শুধুমাত্র ভালো কর্মের জন্য আর নিজের অন্যের জীবনের সফলতার জন্যই সহ্য এবং ধৈর্য ধরার প্রয়োজন রয়েছে এছাড়া অন্য কোন কারণে ধৈর্য ধরার প্রয়োজন নেই যার কোন নিশ্চয়তা নেই। কোন খারাপ ব্যক্তিকে ভালো করার চেষ্টায় ধৈর্য ধরে থাকা বা কোন খারাপ পরিস্থিতিকে ভালো করার চেষ্টায় ধৈর্য ধরা বৃথা। খারাপ মানুষ যদি ভাল হওয়ার থাকে তবে সে সেই মুহূর্ত থেকেই চেষ্টা করবে ভালো হওয়ার আর পরিস্থিতি সবসময় ভালো করার চেষ্টা তখন থেকেই করতে হবে তার জন্য কোন ধৈর্যের প্রয়োজন হয় না।


আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।